১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ছুটির দিনে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের খোঁজে নগরবাসী


এমদাদুল হক তুহিন ॥ ছুটির দিনগুলোতে বিনোদন কেন্দ্রে সবসময়ই উপচেপড়া ভিড়। ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি স্মরণীয় মুহূর্ত ধারণ করে রাখতে সেলফি তোলায় মশগুল সব বয়সী মানুষ। ঠিক একই দৃশ্য দেখা গেল সংসদ ভবন সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যানেও। পরিবারের সঙ্গে শুক্রবার ছুটির দিনে স্কুল পড়ুয়া রিমা এসেছিলে খোলা আকাশে স্বপ্ন বুনতে। যেন কিছুটা বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণের নেশা! রিমা বলেন, সারাক্ষণ বাসায় থাকতে ভাল লাগে না। বাইরের পরিবেশ ঘুরে দেখাতে তাই বাবা-মা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। শুধু রিমা ও রিমার পরিবার নয়, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত মানুষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে সাপ্তাহিক ছুটির। দিনটি যেন পাখি হয়ে আকাশে ডানা মেলার। ‘আবার আসিব ফিরে, ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয়-হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে।’ হ্যাঁ অনেকেরই শালিখের মত ওড়ে বেড়াতে ইচ্ছে করে। ধ্রুব তাদের একজন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশটা আগের নয়। বেশ বদলে গেছে। তবু এলাম। কিছুটা প্রকৃতির ছোঁয়া নিতে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অধরা, অনিক ও সিমুও এসেছিলেন এদিন। হাসি, আড্ডায় মেতে ওঠে বৃক্ষের ছায়াতলে। লেকের পানিতে অবাক নয়নে তাকিয়ে উদাস হয়ে উঠছিলেন কেউ কেউ। কারো হাতে বাদাম, কারো হাতে মুড়ি, কারো হাতে একান্ত আপন মানুষের হাত। আর হকারেরা ব্যস্ত দিনের বেচাকেনায়। এ দৃশ্য রাজধানীর সংসদভবন সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যানের।

জানা গেছে, সময়ের পটপরিবর্তনে জিয়া উদ্যান হিসাবে খ্যাতি পেলে পূর্বের নাম ফিরে পেতে বেশি দিন লাগে চন্দ্রিমা উদ্যানের। রাজনৈতিক ও অনৈতিক কর্মকা-ের কারণে বহু কুখ্যাতি থাকলেও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত উদ্যান সংলগ্ন এ এলাকা। নির্মল বিনোদন ও বিশুদ্ধ বাতাসে গা ভাসাতে প্রতিটি মানুষই কমপক্ষে একবারের জন্যে হলেও এখানে এসেছেন। সমালোচনা কিংবা বিতর্ক যাই থাকুক না কেন উদ্যানে এখনও নির্মল বিনোদনের কমতি নেই! ঈদ ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই সব বয়সী মানুষের আড্ডা ও পদচারণায় মুখরিত থাকে এ উদ্যান।

সরেজমিনে উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে লেকের সিঁড়িতে বসে থাকা কপোত কপোতীর মুখে হাসির আভা। যেন প্রতিটি মুখই এক একটি চাঁদ! তারা যেন সদ্য নেমে এসেছে ভিন কোন গ্রহ থেকে। প্রিয় কিংবা প্রিয়াকে কাছে পেয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ, কেউবা দিচ্ছে আলতো স্পর্শ। কপোত কপোতী ছাড়াও উদ্যানের রাস্তা ধরে হাঁটছে অসংখ্য শিশু। এদের সবাই পরিবারের সঙ্গে এসেছে। বেশকিছু শিশুরা মেতে উঠেছে নানা খেলায়। যান্ত্রিক ব্যস্ততার রেশ কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কর্মব্যস্ত দিন শুরু করতে প্রাণে সঞ্চার করছে প্রাকৃতিক শক্তি। মাঠে বসে ছুঁয়ে দেখছেন ঘাস। হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের সেই হারানো স্মৃতিতে। দু’তিন বন্ধু মিলে গানও করছেন। এ খোঁশগল্প যেন থামার নয়! দেখা গেছে, কেউ কেউ অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে, তাদের সবাই সঙ্গীহীন একাকী একা!

জানা গেছে, কপোত-কপোতী ছাড়াও বার্ধক্যে পা ফেলা মানুষের প্রাতভ্রমণের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিতি রয়েছে উদ্যানটির। ফজরের নামাজ শেষে ষাটোর্ধ অনেকেই উদ্যানের মাঠে শরীর চর্চায়ও মেতে ওঠেন। উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্যে সকাল থেকে রাত আট অবধি থাকে। তবে সকাল থেকেই রাত অবধি রয়েছে হকারের উৎপাত! খাবারের অধিক মূল্য আদায়সহ নানা অনৈতিক অভিযোগেরও কমতি নেই।

জানা গেছে, সমালোচনার মুখে থাকা উদ্যানটি নগরবাসীর নির্মল বিনোদনের অংশ হলেও আগের সেই প্রাণ চাঞ্চল্য নেই। হারানো জৌলুসের সঙ্গে সঙ্গে কমছে দর্শনার্থীও। নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও রয়েছে ঢিলেঢালা ভাব। অন্যদিকে রাতের আঁধারে অনৈতিক কর্মসাধনের অভিযোগ নিত্যনৈমত্তিক। প্রতিদিনই ঘটছে কোন না কোন অঘটন।