২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রাজশাহীতে নতুন জঞ্জাল অনিয়ন্ত্রিত অটোরিক্সা


অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাজশাহী নগরীতে বেড়েই চলেছে ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও অটোরিক্সা। ‘ক্লিনসিটি’ হিসেবে পরিচিত উত্তরের বিভাগীয় নগরে এখন রিক্সা ও অটোরিক্সার ভিড়ে নতুন জঞ্জালে পরিণত হয়েছে সর্বত্র। প্রধান সড়ক ছাড়াও অলিগলি সর্বত্র এখন ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার দখলে। প্রধান সড়কগুলো দিনভর ব্যস্ত থাকে এসব রিক্সার জটে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব রিক্সার অসংখ্য স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে যেখানে সেখানে। এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের পথচলা, প্রতিনিয়ত বাড়ছে রিক্সাজট আর মানুষের দুর্ভোগ। অনিয়ন্ত্রিত এসব রিক্সায় দুর্ঘটনাও ঘটছে হর-হামেশায়। এসব রিক্সায় ওড়না ও শাড়ি পেঁচিয়ে প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটছে। ক্রমেই এসব রিক্সা জঞ্জালের মুখে পড়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ পথচারীদের মধ্যে।

রাজশাহী নগরীতে আগে চলতো শুধু প্যাডেল রিক্সা। এখন সেই রিক্সার পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে ব্যাটারি ও চার্জারচালিত রিক্সা ও অটোরিক্সা। এতে অপেক্ষাকৃত দূরের অভ্যন্তরীণ যাত্রীরা সুবিধা পেলেও দুর্ভোগ মার্কেটগামী সাধারণ পথচারীদের। নগর সেবা সংস্থা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন থেকে নির্ধারিত কোন স্ট্যান্ড না থাকায় যত্রতত্র অটোরিক্সার বিচরণে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।

নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দেখা যায়, রাস্তার দু’পাশে অবস্থান করে হাজারো অটোরিক্সা। আর এসবের কারণে যেমন বড় যানবাহনগুলোর চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে তেমন বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও।

নগরীর ব্যস্ততম রেলস্টেশন, রেলগেট, শহীদ কামারুজ্জামান চত্বর, বর্ণালীর মোড়, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট, সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে, সোনাদীঘি, তালাইমারী, বিনোদপুর, ভদ্রাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিক্সাচালকদের অবস্থান বেশি। আর এসব এলকাতেই রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অটোরিক্সাচালকদের বেপরোয়া চলাচল ও যত্রতত্র স্ট্যান্ড না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত তিন বছরে অটোরিক্সার চাকায় ওড়না জড়িয়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যুও হয়েছে। আর প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে এসব অটোরিক্সার যাত্রীরা।

সর্বশেষ গত বুধবার রাতে নগরীর বর্ণালীর মোড় এলাকায় এক দুর্ঘটনায় দুই নারী আহত হন। এর আগে রাতেও নিউমার্কেট এলাকায় অটোরিক্সা চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনায় একটি অপর রিক্সার দুইজন যাত্রী রিক্সা থেকে ছিঁটকে পড়েন। এমন ঘটনা প্রতিনিয়তই দেখা যায় নগরীর কোন না কোন এলাকায়। এসব বেপরোয়া অটোচালকদের জন্য বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।

এদিকে নগরীর কুমারপাড়া থেকে জিরোপয়েন্ট হয়ে রাজশাহী কলেজ পর্যন্ত সড়কটি ডিভাইডার দেয়া হয়েছে। এতে ওই স্থানটি সরু রাস্তায় পরিণত হয়েছে। এই সরু রাস্তা দিয়ে শতশত অটোরিক্সা ভিড় করে এপার-ওপার পার হওয়ার চেষ্টা করে। ফলে রাস্তাটিতে ভিড় লেগেই থাকে সারাক্ষণ। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। সেখানেই অবস্থিত রাজশাহী কলেজ ও কলেজিয়েট স্কুলগামী হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিত্যদিনের। নগরজুড়ে যত্রতত্র অটোরিক্সার বিচরণে এখন রীতিমতো নগরবাসীর কাছে জঞ্জালে পরিণত হয়েছে।

অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজের পাশে ডিভাইডার থাকায় সব সময় ভিড় থাকে। আর এই রাস্তা দিয়েই অটোরিক্সা বেশি চলাচল করে। ফলে প্রতিদিনই কোন না কোনভাবে ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটেই থাকে। রাজশাহী সরকারী কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা বলেন, ‘অটোচালকরা এতো বেপরোয়াভাবে রিক্সা চালায় যে, রাস্তা পার হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। কলেজ গেটের সামনে ভিড় থাকার কারণে কোন ক্রমে ঢুকতে একটু দেরি হলেই অটোরিক্সা এসে ধাক্কা দেয়। আর যখনই কলেজে কোন ভর্তি কার্যক্রম কিংবা পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে সেদিনই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। আরেক শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানী বলেন, এই অটোরিক্সাগুলোর ভিড়ে বাসে করে আসতে দেরি হয়ে যায়। ফলে সময়মতো কলেজে উপস্থিত হতে না পেরে অনেকেরই ক্লাস মিস হয়ে যায়। নগরীর জিরো পয়েন্টে এক পথচারী আসাদুজ্জামান বলেন, অটোওয়ালারা পারে তো গাড়ির ওপর তুলে দেয়। এদের কারণে রাজশাহীতে এতো যানজট এতো দুর্ঘটনা ঘটছে। তার মতে এসব যানবাহন চলাচল করবে তবে যত্রতত্র নয়। নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করলে যানজট থাকবে না। এছাড়া নগরের পয়েন্টে নির্ধারিত স্ট্যান্ড গড়ে তোলা দরকার।

নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘গত চারদিন আগে বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি, লক্ষ্মীপুর মোড়ে এসে দাঁড়ানো মাত্র অটোরিক্সা এসে ধাক্কা দেয়। এতে বাচ্চা পড়ে গিয়ে ব্যথা পায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, নগরের যে কোন সড়কে পা ফেললে একটু অসাবধানতা হলেও ধাক্কা খেতে হবে অটোরিক্সার।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর এমন সব ভোগন্তির চিত্র হর-হামেশা দেখা যায়। পুলিশ বহিরাগত অটোচালকদের নগরীতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও কমাতে পারেনি অটোচালকদের সংখ্যা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি অটোরিক্সা চলাচল করছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা মহানগরীতে নতুন করে উপদ্রব সৃষ্টি করছে। আগে কেবল রিক্সার চাপেই প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বিঘিœত হতো। কিন্তু এখন অটোরিক্সা সড়কে যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন জানায়, বর্তমানে নগরীতে লাইন্সেস দেয়া অটোরিক্সার সংখ্যা ৮ হাজার, এগুলো চলাচলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় নতুন করে আর লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না। তবে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকসহ নানা চেষ্টা চলছে।