২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে পাহাড় কেটে বনভূমি দখল


কক্সবাজারে পাহাড় কেটে বনভূমি দখল

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগরে প্রায় ১’শ ফুট উঁচু একটি পাহাড়কে কেটে দু’ভাগ করে বড়ছড়া খালের গতিপথ পরিবর্তন করে বনবিভাগের প্রায় ২ একর মূল্যবান জমি দখলে নিয়েছে স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্র। এতে ওই এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকার বহু অপকর্মের হোতা আমির হোসেন পরিবেশ বিধ্বংসী দস্যুতার নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় ৫’শ মিটার দক্ষিণে চক্রটি এমন অপকর্ম করলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা বনবিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। চক্রটি কতিপয় বনকর্মীদের ম্যানেজ করে এমন অপকর্ম করেছে বলে দাবী স্থানীয়দের। তবে বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় ‘নিসর্গ’ কর্মী ছৈয়দ আলম, আবদুল্লাহসহ অনেকে জানান, পাহাড়কে কেটে বড়ছড়া খালের গতিপথ পরিবর্তন করে চক্রটি বনভূমি দখলের পর তা আবার বিভিন্ন জনের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রিও করে দিয়েছে। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশাল পানের বরজ। পানের বরজ তৈরীর জন্য বনাঞ্চলের গাছ ও বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরী করা হলেও বনবিভাগ দেখেও দেখে না।

পরিবেশবাদী ও গবেষকরা জানান, নদী বা খালের বাঁকে ছোটবড় ‘কুম’ বা পানির গর্ত থাকে। এসব গর্তে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বংশ বৃদ্ধি করে পরিবেশ-প্রতিবেশকে রক্ষা করে। কিন্তু বড়ছড়া খালের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে ওই এলাকার জীববৈচিত্র্য প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। কাটা পাহাড়টি পানির তোড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে। এলাকায় দেখা দিচ্ছে বন্যা। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সাবেক সভাপতি দীপক শর্মা দীপু অবিলম্বে কাটা পাহাড়টি পূননির্মাণের মাধ্যমে খালের গতিপথ আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়ে বলেন- পাহাড় কাটা ও পাহাড় কেটে নদী বা খালের গতিপথ পরিবর্তন করা পরিবেশ আইনে এক জঘন্য অপরাধ। উক্ত অপরাধে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় পরিবেশ ধ্বংস অব্যাহত থাকবে। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কলাতলীর বিট কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন- আমি যোগদানের আগেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে খবর পেয়ে এখন বনবিভাগের পক্ষ থেকে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম বলেন- বিষয়টি আগে জানা ছিল না। অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানূগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: