১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আজব হলেও গুজব নয়


অসুখী হলেই শাস্তি

আপনি কি দুবাইয়ে থাকেন? তাহলে তো মন খারাপ থাকা একদমই চলবে না। কেননা শহরে কেউ অসুখী রয়েছে জানলেই ছুটে আসবে পুলিশ- প্রশ্নবানে আপনার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে। ২০২১ সালে বিশ্বের সেরা সুখী শহরের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিতেই সেখানে শুরু হয়েছে নানা তৎপরতা। এই পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদ এরই একটি অংশ। ইতোমধ্যে তারা টুইটারে ইংরেজী ও আরবী ভাষায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছে যাতে লেখা রয়েছে, ‘আপনার নিরাপত্তাই আমাদের সুখ।’

সম্প্রতি সুখের ওপর একটি জরিপও পরিচালনা করেছে দুবাই পুলিশ। জরিপে শহরের লোকজন সুখী কিনা সেটাই জানতে চাওয়া হয়েছিল। বলাবাহুল্য, শহরের বাসিন্দাদের মোবাইলে পাঠানো প্রশ্নপত্রে শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম এবং শহরের সেরা স্থাপত্য বুর্জ আল খলিফার ছবি ছিল। ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৪ ভাগই নিজেদের সুখী বলে দাবি করেছে। অসুখীদের সংখ্যা মাত্র ১০ ভাগ। আর মাঝামাঝি অবস্থানে ছিল ৬ ভাগ। সব মিলিয়ে ২ লাখ মানুষ ওই জরিপে অংশ নিয়েছিল।

এখানেই শেষ নয়। এই জরিপে যারা সুখে নেই বলে জানিয়েছিলেন তাদের হরদম ফোন দিচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। যেন দুবাইয়ে থেকে সুখে না থাকার মতো অপরাধ আর হয় না। এমনকি এসব লোকজনের দুঃখ দূর করার জন্যও নাকি তারা তৎপর হয়েছেন। এ সম্পর্কে দুবাইয়ের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল খামিস মাত্তার আল মাজিনা জানিয়েছেন, ‘বিচারিক বিভাগের কারণে যারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আমরা তাদের যাবতীয় সহায়তা দিচ্ছি। শুধু বিচারিক নয়-ওই ব্যক্তির দুর্দশার সঙ্গে সরকারের অন্যান্য বিভাগ জড়িত থাকলেও আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তদবির করছি।’ ব্যক্তিগত কারণে কারও মন খারাপ থাকলে অবশ্য আলাদা বিষয়। কেননা এটি তাদের এখতিয়ারের বাইরে।

২০১৫ সালে জাতিসংঘের বিশ্ব সুখী দেশের তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ছিল ২০তম। আরব দেশগুলোর মধ্যে তারাই সবচেয়ে এগিয়ে ছিল। ২০২১ সালে তারা এ তালিকার সেরা ১০-এ উঠে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই দুবাইয়ে বসবাসকারীদের অখুশি বা অসুখী থাকা কোনমতেই চলবে না।

হাঁসের জন্যও রাস্তা

মানুষের চলাচলের জন্যই মানুষ রাস্তা বানায়। আর তা যদি হয় শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কোন রাস্তা তাহলে তো বলা যায়ই যে রাস্তায় শুধু মানুষকেই মানায়। কিন্তু রাস্তায় যদি হাঁসও চলাচলের অনুমতি পায় তবে কেমন হবে? এটা কোন হংসরাজ্যের কল্পকাহিনী নয়। আমি একবিংশ শতাব্দীর একটি শিল্পোন্নত দেশের কথা বলছি যেখানে হাঁসের জন্যও রাখা হয়েছে মানুষ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একই রাস্তায় আলাদা লেন। সমুদ্রের বধূ খ্যাত ইউরোপের একটি অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ যুক্তরাজ্য। যেখানে হাঁসের জন্যও আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে খাল ও নদী কল্যাণ ট্রাস্টের বিশেষ প্রচারণার অংশ হিসেবে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় হাঁস চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষ এবং হাঁসেরা পায়ে পা মিলিয়ে এখন হেঁটে যেতে পারবে নিজ নিজ গন্তব্যে।

মানুষ চলাচলের রাস্তায় যেমন বিভিন্ন সংকেতের দাগ কাটা থাকে হাঁসের জন্য বরাদ্দ লেনেও তেমনি দাগ কাটা হয়েছে। সাদা এবং হলুদ রঙের এসব দাগ হাঁসের গন্তব্য এবং চলার সীমানা নির্দেশ করবে। হাঁসের এই বিশেষ লেনের বিস্তৃতি হলো তাদের থাকার ঘর থেকে নদী বা খাল অবধি। পাশাপাশি সাধারণ পথচারী চলাচলের জন্য তো রাস্তা থাকছেই। তবে জনসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে তারা যেন ওই মিলিত রাস্তায় চলাচলের সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকেন।

তাহলে কি যুক্তরাজ্যের এই নতুন হংসপথ এটাই প্রমাণ করল যে, শুধু হাঁস নয়, প্রকৃতির সকল প্রজাতিই সহঅবস্থান করতে পারবে?

টাকার দরে ঘুম

পৃথিবীতে কারও কারও কাছে সবচেয়ে শান্তির কাজটি হলো ঘুম। রাতে নির্ভেজাল আর পরিপূর্ণ একটি ঘুম সারাদিনের কর্মচাঞ্চল্যকে সতেজতা দান করতে বেশ কাজে দেয়। রাতের ঘুমের পরও কারও কারও দিনে ঘুমানোরও অভ্যাস থাকে। যাদের দিনে ঘুমানোর অভ্যাস বেশ কড়া আসক্তিতে রূপ নিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আবার অনেক সময় তা সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা চাকরিজীবী তাদের ক্ষেত্রে এটা বেশ অসুবিধাজনক। অফিসে দুপুরে খাওয়ার পর চেয়ারে একটু গা এলিয়ে ঘুমিয়ে গেলেন। আর তা যদি বসের নজরে আসে তাহলে তো আর রক্ষা নেই। তাই এই সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ কোরিয়ায় রয়েছে এক বিশেষ ব্যবস্থা।

যারা কাজের ফাঁকে অফিসে ঘুমিয়ে পড়েন তাদের জন্য বিশেষ পার্লারের ব্যবস্থা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে। কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত লাগলে সেখানে কর্মজীবীদের আর অফিসের টেবিলে মাথা রেখে ঘুমাতে হয় না। তারা পার্লারে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতে পারেন। তবে সেটার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

দক্ষিণ কোরীয় ওই পার্লারগুলো এই ঘুমকে বলে ‘পাওয়ার ন্যাপ’ অর্থাৎ কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণের জন্য ঘুমানো। রাজধানী সিউলে এই বিশেষ ঘুম পার্লারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিবিসির এক পযর্বেক্ষক দল দেশটির সংবাদমাধ্যম জোসান ইলবোর বরাত দিয়ে জানায়, ‘রাজধানীতে টাকার বিনিময়ে ঘুমানো যায় এরকম পার্লারের সংখ্যা বাড়ছে আর তা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসব পার্লারে ঘুমাতে হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এর ফলে অফিসে ঘুমানো লোকের সংখ্যা কমে গেছে।’ কর্মজীবী এক লোক এক কোরীয় দৈনিকের কাছে বলেন, ‘আমি আগে অফিসে কাজের ফাঁকে প্রায়ই টেবিলে কিংবা টয়লেটে ঘুমিয়ে পড়তাম। এখন আমি প্রতিদিন পার্লারে যাই কিছুক্ষণ ঘুমানোর জন্য।’অন্যান্য এশীয় দেশের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বেশ লম্বা সময় কাজ করতে হয়। এদের কাজের চাপও অনেক বেশি। তাই কর্মজীবীদের বিশ্রামের জন্যই এই পার্লার। পার্লারগুলোতে বেশ আরামদায়ক চেয়ার, বিছানা ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি এখানে বিশেষ ম্যাসাজেরও ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তার জন্য অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে হয়। -বাংলা মেইল