মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কথাগুলো কোনদিনই হারিয়ে যাবে না

প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর ২০১৫

যুগে যুগে ইতিহাস খ্যাত ব্যক্তিরা কত রকম বক্তব্য ও মন্তব্যই না দিয়ে গেছেন। সবগুলোর মধ্যেই যে সত্যতা আছে এমন নয়। কোনটির মধ্যে অতিরঞ্জন আছে। কোনটি স্রেফ ধারণামূলক, কোনটি আবেগময় আবার কোনটি প্রেরণাদায়ক। আমরা বার বার সেগুলো পড়েছি, শুনেছি, ব্যবহার ও পুনর্প্রয়োগ করেছি। তথাপি সেগুলো পুরনো হয় না। বার বার উল্লেখেও সেগুলোর আবেদন ক্ষুণœ হয় না। এমনই কিছু উক্তি এখানে সন্নিবেশিত

হলো। লিখেছেন- এনামুল হক

আলেকজান্ডার

‘আহ! কি বিচিত্র দেশ এই ভারত’

খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ সালে গ্রীক বাহিনী ভারতে পৌঁছার পর চারদিকের দৃশ্যপট দেখে বিস্ময় বিমুগ্ধ আলেকজান্ডার তাঁর সেনাপতি সেলুকাস নিকাটরকে বলেছিলেন, ‘আহ! কি বিচিত্র দেশ এই ভারত।’

নিজামুদ্দীন আউলিয়া

‘দিল্লী হনুজ দূর অস্ত’

১৩২৫ খ্রিস্টাব্দ। সুলতান গিয়াসউদ্দীন তুঘলক দিল্লী আক্রমণ করতে আসছেন। সুফী সাধক নিজামুদ্দীন আউলিয়ার ভক্ত অনুসারীরা তাকে দিল্লী ছেড়ে নিরাপদ কোথাও চলে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বললেন, ‘দিল্লী হনুজ দূর অস্ত’ অর্থাৎ দিল্লী এখনও বহু দূরে। বলাবাহুল্য, গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের শেষ অবধি আর দিল্লীতে আসা হয়ে ওঠেনি। পথিমধ্যেই তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলেন।

হায়, এ আমি কি করলাম!

খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ সাল। তখন মৌর্য রাজবংশের সম্রাট অশোক ভারতের শাসন ক্ষমতায়। অশোক ছিলেন মহাপরাক্রান্ত। তিনি কলিঙ্গ রাজ্য দখলের অভিযান চালান। কলিঙ্গ হলো এ যুগের উড়িষ্যার নাম। সেটি দখলে নিতে গিয়ে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়। দু’পক্ষের হাজার হাজার সৈন্য নিহত হয়। যুদ্ধ শেষে রণাঙ্গনে লাশের পর লাশের মাঝে দাঁড়িয়ে বিজয়ী সম্রাট অশোকের মুখ দিয়ে বিলাপ ধ্বনি বেরিয়ে আসে : “হায়, এ আমি কি করলাম!”

‘হয়ত এই দিগন্তেই প্রভাত আসবে’...

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেশ কিছুদিন রোগভোগের পর ১৯৪১ সালের এপ্রিলে শান্তিনিকেতনে প্রদত্ত তাঁর শেষ বক্তৃতায় বলেছিলেন : ‘হয়ত এই দিগন্তে এই পূর্বদিকে যেখানে সূর্য উদিত হয় সেখান থেকেই নব প্রভাতের আবির্ভাব ঘটবে।’

‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট তাঁর ব্রিটিশ বেরোধী ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে এক স্মরণীয় ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে একটা মন্ত্র আছে। মন্ত্রটা ছোট তথাপি তা তোমাদের শিখিয়ে দেই...‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’।

‘রক্ত দাও আমি স্বাধীনতা দেব’

এই বিখ্যাত উক্তিটি ভারতের স্বাধীনতার অগ্নিপুরুষ সুভাষচন্দ্র বসুর। ১৯৪৪ সালে বার্মায় (বর্তমানে মিয়ানমার) এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন : ‘আজ তোমাদের কাছে আমার সর্বোপরি একটাই চাইবার আছে।...আমাকে রক্ত দাও, কথা দিচ্ছি আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।‘

বাঘের মতোই বাঁচতে চাই

১৭৯৯ সাল। মহীশূরের রাজা টিপু সুলতান ইংরেজ আক্রমণের মুখে শ্রীরঙ্গপত্ম দুর্গ রক্ষা করার জন্য লড়াই চালাতে চালাতে বলেছিলেন, ‘মেষের মতো দু’শ’ বছর বেঁচে থাকার চাইতে বরং দুটো দিন ব্যাঘ্রের মতো বাঁচবো।’

‘বিভাজনের এই দেয়াল ভেঙ্গে দাও’

ভারতের জাতীয়বাদী, যোগী ও কবি শ্রী অরবিন্দ ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র অনুরোধে বেতারে প্রচারের জন্য এই বার্তাটি লিখেছিলেনÑ ‘দেশ বিভাজনের এই দেয়াল গুঁড়িয়ে দিতে হবে, ঐক্য অর্জন করতে হবে। ভারতের ভবিষ্যতের জন্যই এটা প্রয়োজন।’

‘সব লাল হো জায়গা’

১৮০৯ সাল। শিখ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা রণজিৎ সিংহ ভারত উপমহাদেশের মানচিত্র দেখছিলেন। মানচিত্রে এক বিশাল অংশ লাল রঙে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে দেখানো হয়েছে। সেদিকে চেয়ে থাকতে থাকতে দূরদর্শী রণজিৎ সিংহ অদ্ভুত এক ভবিষ্যৎ দ্রষ্টার মতো মন্তব্য করেছিলেন, ‘সব লাল হো জায়গা।’

‘ভারত প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠবে’

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু স্বাধীনতার পূর্বলগ্নে প্রদত্ত এক ভাষণে এক নতুন প্রভাতের সূচনা করে বলেছিলেন : ‘গোটা বিশ্ব চরাচর যখন নিদ্রার কোলে সে সময় মধ্যরাতের ঘণ্টাধ্বনি বেজে উঠার মধ্য দিয়ে ভারত প্রাণের স্ফুরণে ও স্বাধীনতার স্পন্দনে জেগে উঠবে।’

বিবেকানন্দ হার্ভার্ডে যা বলেছিলেন

১৮৯৩ সালের সেপ্টেম্বর স্বামী বিবেকানন্দ যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সভায় উপস্থিত হয়ে এক বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি পাশ্চাত্যকে বেদান্ত ও যোগসাধনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। বক্তৃতায় এক জায়গায় তিনি বলেছিলেন : আমি এমন এক ধর্মের অন্তর্গত বলে গর্বিত বোধ করি যে ধর্ম বিশ্বকে সহনশীলতা ও সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা শিখিয়েছে।’ পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সেখানকার দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান পদ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।

‘স্বাধীনতা আমার জন্মগত অধিকার’

‘স্বাধীনতা আমার জন্মগত অধিকার। যতদিন এই চেতনা আমার মধ্যে জাগ্রত থাকবে ততদিন বার্ধক্য আমাকে গ্রাস করতে পারবে না।’ এই অমর উক্তি ভারতের জাতীয়তাবাদী নেতা বালগঙ্গাধর তিলকের (১৮৫৬-১৯২০)। দুই ব্রিটিশ অফিসারকে হত্যা করতে চাপেকার ভ্রাতৃদ্বয়কে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে তাকে দেড় বছর কারারুদ্ধ রাখা হয়। ১৮৯৯ সালে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে তিনি ঐ সেøাগান তোলেন।

প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর ২০১৫

৩০/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: