১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সহজ শর্তে বিদেশী মুদ্রাঋণ


বাংলাদেশ ব্যাংক সহজ শর্তে অর্থাৎ কম সুদে দেশে উৎপাদনমুখী শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেয়ার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাংকের রেটিং মান অনুযায়ী ১,২ ও ৩ তফসিলভুক্ত কয়েকটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গ্রাহক অর্থাৎ শিল্পোৎপাদক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করতে পারবে তিন থেকে দশ বছর মেয়াদে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক আপাতত ৩০ কোটি ডলারের একটি তহবিল থেকে এই ঋণ দেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিকট। সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কী পরিমাণ সুদে অর্থ পাবে ব্যাংকগুলো তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হলেও গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার কত হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার তহবিল ব্যয় ও তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সঙ্গে এক থেকে তিন শতাংশের বেশি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে আশাবাদ এবং বাস্তবতা সর্বদাই ভিন্ন কথা বলে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে পুরনো শিল্প কারখানাগুলোই ভাল চলছে না (পোশাক শিল্প বাদে), সেখানে নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন কতটা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ তা সহজেই অনুমেয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল হলেও সহসাই যে এটি আবারও উত্তপ্ত ও ঘটনাবহুল হয়ে উঠবে না, এমন কথা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সম্প্রতি ঢাকা ও রংপুরে দু’জন বিদেশী নাগরিক হত্যা, ব্লগারসহ ভিন্নমত ও ধর্মানুসারীদের নৃশংস হত্যাকা- এবং সর্বশেষ ঐতিহাসিক ইমামবাড়া হোসেনী দালানে শোকাবহ আশুরার মিছিলের প্রাক্কালে বোমাবর্ষণ সরকারকে কিছুটা হলেও বেকায়দায় ফেলেছে। এরই জের ধরে সাম্প্রতিককালে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ তিনটি বিমানবন্দরে জারি করা হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিএনপির মদদে জামায়াত-শিবিরের বিভিন্নমুখী নাশকতার ছক ও পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল উচ্চপর্যায় থেকেও দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেয়া হচ্ছে। অবশ্য এ কথা বলতেই হয় যে, সরকার যথেষ্ট দক্ষতা ও কুশলতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমর্থ হয়েছে ও হচ্ছে। ঢাকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত নিরাপত্তা নিয়ে নিরুদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, যথেষ্ট নিরাপদ বিধায় আমরা এখন ইইউ দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে রাজধানীর বাইরে নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো শীঘ্রই দেখতে যেতে পারি। সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, আশঙ্কার কালো মেঘ শেষ পর্যন্ত কেটে যাবে এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি অনুকূল হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) গত কয়েক বছর ধরে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে, দেশে-বিদেশে যা প্রশংসিত। ২০১৬-২০২০ প্রণীত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া দলিলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ। এর বাস্তবায়নে সর্বাগ্রে অত্যাবশ্যক দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন। এই অবস্থায় দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেয়ার উদ্যোগটি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এটাও বলতে হবে যে, ২৬,৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের শাঁসালো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিপরীতে আপাতত মাত্র ৩০ কোটি ডলারের তহবিল আহামরি কিছু নয়। সেক্ষেত্রে শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের আগ্রহ ও উদ্যোগের প্রেক্ষিতে তহবিল বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।