মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সন্ত্রাসের ‘বড়ভাই’ বিএনপি হলেও ‘বাপ’ জামায়াত

প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর ২০১৫
  • শাহরিয়ার কবির

আমরা যখন বলি দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশে জামায়াতে ইসলামী সকল মৌলবাদী সন্ত্রাসের জন্মদাতা, তখন কেউ বুঝে কেউ না বুঝে এটিকে ‘আপ্তবাক্য’ বলেন। জামায়াতের সঙ্গে যারা সহবাস করেন বিপদে-আপদে জামায়াতকে রক্ষা করা এবং জামায়াতের সব অপরাধ শুধু আড়াল করা নয়, অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দেয়াও তাদের রাজনীতির অন্তর্গত। বাংলাদেশে জামায়াতের ‘বড়ভাই’ বিএনপির জন্মদাতা জেনারেল জিয়া একই সঙ্গে জামায়াতেরও প্রতিষ্ঠাতা। জিয়ার কারণেই বাংলাদেশের মূল সংবিধানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমচরিত্রের মৌলবাদী ড্রাকুলারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রক্ত পান করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্জন্ম লাভ করেছে। ধর্মের নামে রাজনীতি ও সন্ত্রাসকে বৈধতা প্রদানের জন্যই জেনারেল জিয়া ৩০ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা খারিজ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ’৭১-এর পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের মতো মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করা।

গত এক মাসে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও হত্যা, মাজারের খাদেম হত্যা, খ্রিস্টান ধর্মযাজক হত্যা চেষ্টা, শিয়াদের মহরমের শোভাযাত্রায় গ্রেনেড-বোমা হামলা ও হত্যাকাণ্ড- সবই জেনারেল জিয়া কর্তৃক প্রোথিত বিষবৃক্ষের ফল, যে বিষবৃক্ষটির নাম জামায়াতে ইসলামী তথা ধর্মের নামে রাজনীতি।

যে কোন নরহত্যার একটি উদ্দেশ্য থাকে। সাধারণভাবে যে সব হত্যাকা- সামাজিক অপরাধের অন্তর্গত সেখানে হত্যার উদ্দেশ্য খোঁজা হয় নিহতের সঙ্গে ঘাতকের ব্যক্তিগত বৈরিতা থেকে, যা হতে পারে বৈষয়িক, পারিবারিক, সামাজিক অথবা একান্তই ব্যক্তিগত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যে সব হত্যাকা সংঘটিত হয় সেখানে ব্যক্তিগত বিরোধের কোন সুযোগ নেই। শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে যাকে হত্যা করা হয় ঘাতক তাকে চিনে না। নেতা, ওস্তাদ বা বড় ভাইয়ের নির্দেশে এসব হত্যাকা- ঘটে। কখনও বৈষয়িক প্রাপ্তিযোগ থাকে বটে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অক্লেশে বেহেশতে যাওয়ার প্রলোভনেই মৌলবাদী ঘাতকরা অজানা-অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা করে, নরহত্যা করে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে ইমানি দায়িত্ব পালন করে।

ইসলামকে বলা হয় ‘শান্তি’ ও ‘বিনম্র্রতা’র ধর্ম। জামায়াতে ইসলামী দাবি করে তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবুল আলা মওদুদী কোরান ও ইসলামের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যারা তা মানবে না তারা মুসলমান নয়, কাফের এবং হত্যার যোগ্য। কোরানের বহু আয়াতে পরমতসহিষ্ণুতার কথা বলা হয়েছে, ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি বারণ করা হয়েছে; কিন্তু মওদুদী কোরানের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেখানে জীঘাংসা, সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা সবই বৈধ। কোরানে ভিন্নমত পোষণকারীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যাহারা দীন সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করিয়াছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হইয়াছে তাহাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়, তাহাদের বিষয় আল্লাহ্্র ইখ্্তিয়ারভুক্ত। (সূরা : আন’আম, আয়াত ১৫৯) মওদুদী এবং তাদের অনুসারীরা আল্লাহ ও বান্দার এখতিয়ারের সীমারেখা মানেন না। ইসলাম সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণকারীদের সম্পর্কে মওদুদী বলেছেন, ‘আমাদের জগতে আমরা কোন মুসলমানকে যেমন ধর্ম পরিবর্তন করতে দিই না, তেমনি অন্য ধর্মাবলম্বীকে তার ধর্ম প্রচারও করতে দিই না। (মুরতাদ কি সাজা ইসলামী কানুন মে’, ইসলামিক পাবলিকেশন লি., লাহোর, ১৯৮১, ৮ম সংস্করণ, পৃষ্ঠা. ৩২) গত কয়েক মাসে ভিন্নমতাবলম্বী মুক্তচিন্তার ব্লগারদের ধারাবাহিক হত্যাকা- থেকে শুরু করে দুর্গাপূজার ম-পে কিম্বা শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে হামলা ও হত্যাকা- জামায়াতের এই দর্শনেরই অভিব্যক্তি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও আদর্শিক গুরু মওদুদী এবং তার সমসাময়িক মিসরের ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর হাসান আল বান্না ও সাঈদ কুত্্ব রাষ্ট্রক্ষমতা করায়ত্ত করার জন্য যেভাবে ইসলামের নামে যাবতীয় সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞকে বৈধতা দিয়েছেন বর্তমান বিশ্বে ‘আল কায়দা’ ও ‘আইএস’-এর সকল কর্মকা- তারই আলোকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করতে হবে। ‘আল কায়দা’ ও ‘আইএস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নীতিনির্ধারকরা নিজেদের গড়ে তুলেছেন মওদুদী, হাসান বান্না আর সাঈদ কুত্্বদের রচনাবলীর নির্দেশনা অনুযায়ী।

দুই বিদেশী হত্যাকা-ের পর আমেরিকার একটি ভাড়াখাটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যখন তাৎক্ষণিকভাবে এর সঙ্গে ‘আইএস’ যুক্ত বলে জানিয়েছে এবং আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ‘আইএস’-এর কোন অস্তিত্ব নেই বলা হয়েছে দুটোই আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। এ কথা সত্যি যে, বাংলাদেশে ‘আইএস’ বা ‘আল কায়দা’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কোন দফতর আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করেনি। তবে ‘আল কায়দা’ ও ‘আইএস’-এর দফতর না থাকলেও তাদের গুরু জামায়াত এবং গুরুভাইরা তো দাপটের সঙ্গেই অবস্থান করছে। যে দেশে ‘জামায়াতে ইসলামী’ বা ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ আছে সে দেশে ‘আল কায়দা’ বা ‘আইএস’-এর আলাদা করে ‘রিক্রুটিং অফিস’ খোলার দরকার নেই। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশসমূহে ‘আল কায়দা’ ও ‘আইএস’ মওদুদী-বান্না-কুত্্ব্্দের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর যখনই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তখন থেকে জামায়াত এই বিচার বানচাল করার জন্য দেশে ও বিদেশে বহুমাত্রিক তৎপরতা শুরু করেছে। শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে আমেরিকা ও ইউরোপে তারা বহু লবিস্ট তথা তদবিরকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ভাড়া করেছে, যাদের কাজ হচ্ছে তাদের সরকারদের বোঝানো- ১. যে আইনে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে সেটি এবং সে আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয়, ২. আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, ৩. বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, যে কারণে তাদের নতুন করে বিচারের সুযোগ নেই, ৪. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হলে ইউরোপের আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে বিচারের স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করার জন্য এবং ৫. চল্লিশ বছর পর এই বিচার সমাজে অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করবে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে ইত্যাদি।

জামায়াতের এসব মিথ্যাচারের জবাব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আমরা দিয়েছি। সমস্যা হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নিজ খরচে যেতে আমাদের যেখানে নাভিশ্বাস ওঠে সেখানে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থে বলীয়ান হয়ে জামায়াত শত শত আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করছে, রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালাবার জন্য লবিস্ট ভাড়া করছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে শুনানির ব্যবস্থা করে মিথ্যার পর মিথ্যা উদগীরণ করছে। নাৎসি মতবাদের অনুসারী জামায়াত নাৎসি নেতা গোয়েবলসের মতো বিশ্বাস করে, একটি মিথ্যা শতবার বললে মানুষ তা সত্য বলে মেনে নেয়।

ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত সাড়ে পাঁচ বছরে একুশটি মামলার রায় হয়েছে, দুজন প্রধান গণহত্যাকারীর মৃত্যুদ কার্যকর হয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তি এক সময় আইসিটির কট্টর সমালোচক হলেও এখন তারা বলছেন, এই বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং তা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে। ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত যাদের বিচার হয়েছে তাদের ভেতর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদ কার্যকার হওয়ার অপেক্ষায় আছে। গত জুলাইয়ে (২০১৫) ট্রাইব্যুনালের রায়ে এদের মৃত্যুদ দেয়ার পর থেকেই আমরা বলছি এটি রদ করার জন্য জামায়াত-বিএনপি এবং তাদের আন্তর্জাতিক মুরুব্বি ও ‘বড়ভাই’রা যা কিছু করা দরকার সবই করবে এবং তা করছেও। ইতালির নাগরিকের হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ভেতর মাঠ পর্যায়ের ঘাতকদের কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে হলফনামায় বলেছে, তারা একজন বড়ভাইয়ের নির্দেশে এ হত্যাকা সংঘটিত করেছে। যে ‘বড়ভাই’র নামটি গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি সেটি বিএনপির মহানগর নেতা কমিশনার কাইয়ুমের। যিনি এলাকার সন্ত্রাসীদের ‘বড়ভাই’ নামে পরিচিত। এটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিএনপির মুখপাত্র নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, কোন ব্যক্তির হত্যাকাে র দায় তারা নেবেন না।

এতকাল আমরা জানতাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য জামায়াত পশ্চিমে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। ওয়াশিংটনের ‘ক্যাসেডি এ্যান্ড এ্যাসোসিয়েটস’ নামক লবিং প্রতিষ্ঠানকে জামায়াতের অন্যতম প্রধান নেতা মীর কাশিম আলী আড়াই কোটি টাকা দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে সে দেশে লবিং করার জন্য। ’৭১-এর গণহত্যার জন্য ট্রাইব্যুনাল এই জামায়াত নেতাকে মৃত্যুদ দিয়েছে। যেদিন এই কলামটি লেখা শুরু করেছি সেদিনই পত্রিকায় দেখলাম জামায়াতের কেবলা অনুসরণ করে একই উদ্দেশ্যে বিএনপিও ওয়াশিংটনে ‘একিন গাম্প স্ট্রাস...’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বাণিজ্য নীতি মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রভৃতি বিষয়ে সে দেশের সরকারী কর্মকর্তা, গণমাধ্যম লিঙ্ক ট্যাংক এবং অন্যদের কাছে বিএনপির পক্ষে কাজ করার জন্য। চুক্তির দলিল ইন্টারনেটে সুলভ হলেও বিএনপি যথারীতি বলছে তারা এ ধরনের কোন লবিস্ট নিয়োগ করেনি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে এতকাল বিএনপি বলেছে, তারাও বিচারের পক্ষে তা তবে তারা চায় ‘স্বচ্ছ বিচার’, এখন সরকার নাকি বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছে ইত্যাদি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল থেকে শুরু করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ম্লান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিনষ্ট করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারা প্রতিহতকরণের জন্য জামায়াত-বিএনপি দেশের অভ্যন্তরে যেভাবে একজোট হয়ে কাজ করছে, বহির্বিশ্বেও তা করছে।

সর্বোচ্চ আদালতে মৃত্যুদ প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীকে রক্ষার জন্য জামায়াত-বিএনপি মরিয়া হয়ে যা করছে তা দুই বিদেশীর হত্যাকা কিংবা শিয়াদের ওপর হামলার ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে এ কথা মনে করার কোন কারণ নেই। ২৮ অক্টোবর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক গ্রেফতারকৃতদের বয়ান ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সূত্রে যে সব খবর বেরিয়েছে সেখানে বিমান ছিনতাই থেকে শুরু করে অনেক বড় আকারের সন্ত্রাসী হামলা, নাশকতা ও হত্যাকা জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডায় রয়েছে।

২ নবেম্বর (২০১৫) সাকা, মুজাহিদের আপীলের রায়ের রিভিউ শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। এ দিন তাদের আইনজীবীরা কী কৌশল অবলম্বন করবেন আমরা জানি না, তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি, শুনানি বিলম্বিত করার জন্য তারা সবই করবেন। সাকা চৌধুরী কতটা ক্ষমতাবান ট্রাইব্যুনালে তাদের অনুপ্রবেশ, বিচারপতির কম্পিউটার থেকে রায়ের খসড়া চুরি, মামলা চলাকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের দেখা করা থেকে শুরু করে তার সম্পর্কে পাকিস্তান এবং পশ্চিমের উদ্বেগের ঘটনা থেকে আমরা বলতে পারি মৃত্যুদ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাস ও নাশকতা নব নবরূপে প্রতিভাত হবে, যদি না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে।

আমাদের জন্য একটি স্বস্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে ২৯ অক্টোবরের ‘প্রথম আলো’য়। পাবনার ঈশ্বরদীতে গির্জার যাজক লুক সরকারকে হত্যা চেষ্টার সঙ্গে যুক্ত জামায়াতের সহযোগী জঙ্গী সংগঠন জিএমবির কর্মী রাকিবুল ইসলামকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তারই জননী। বাংলাদেশে সন্ত্রাসের জন্মদাতা জামায়াত যেমন আছে তেমনি আছেন ঈশ্বরদীর আজমিরা খাতুনের মতো জননী।

জামায়াত-বিএনপির বাংলাদেশবিনাশী এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সচেতনতা ও নজরদারি এ পর্যন্ত বহু বড় বিপর্যয় প্রতিহত করেছে বটে তবে ইসলামের দোহাই দিয়ে তাবৎ সন্ত্রাস ও নাশকতার জন্মদাতা জামায়াতের যাবতীয় কর্মকা এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান যদি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা না হয় তাহলে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির ভেতর থাকবে। ২০১৪ সালে ‘আইএস’ ও ‘আল কায়দা’ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার তাদের কর্মকা সম্প্রসারিত করার ঘোষণা দিয়েছে তাদের আদর্শিক জন্মদাতা জামায়াতের ভরসায়। বাংলাদেশে কায়িকভাবে ‘আইএস’ নেই বলে সরকারের স্বস্তি পাওয়ার কোন কারণ নেই। যখন ‘আইএস’ ‘আল কায়দা’র জন্ম হয়নি তখনও ’৭১-এর মতো নৃশংসতম গণহত্যা সংঘটনের সক্ষমতা জামায়াতের ছিল।

২৯ অক্টোবর ২০১৫

প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর ২০১৫

৩০/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: