২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন জামালও মারা গেলেন


ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন জামালও মারা গেলেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুর সারিতে আরও একজন যোগ হলো। এর আগে সাজ্জাদ হোসেন সানজু (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জন স্পিøন্টারবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি আছেন। কারও মাথায়, কারও দুই হাত, কারও দুই পা ব্যান্ডেজ মোড়ানো। স্পিøন্টারবিদ্ধ শরীরে ওরা বহন করে কষ্ট ও যন্ত্রণা। তারা সুস্থ বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন, নাকি সারাজীবন শরীরে স্পিøন্টারবিদ্ধ যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে- এমন আশঙ্কা স্বজনদের।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ খাজা আব্দুল গফুর জানান, হোসেনী দালানে গ্রেনেড হামলায় মাথায় স্পিøন্টারবিদ্ধ আহত জামাল উদ্দিন (৫০) বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলায় আহত জামাল উদ্দিনের অবস্থা গুরুতর ছিল। এজন্য তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। নিহতের বাবা মরহুম মফিজউদ্দিন। বাড়ি বিক্রমপুর- মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার সুন্দরদিয়ায়। আহত জামালের ভাই জামিল জানান, সাত ভাইবোনের মধ্যে জামাল সবার বড় ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ভাই জামাল তার পরিবারের সঙ্গেই বংশালের কাজী রিয়াজ উদ্দিন লেনের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি জানান, জামাল কসমেটিকস ফেরি করে বিক্রি করতেন। দিনে দুই থেকে তিন শ’ টাকা আয় করতেন। তা দিয়ে সংসার চলত। টানাপোড়েনের সংসারে তাদের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা খুব কঠিন। ইতোমধ্যে তার পেছনে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। দালান কমিটির এক সদস্য এক হাজার টাকার ওষুধ কিনে দিয়েছেন। জামিল বলেন, গ্রেনেড হামলাকারীরা মানুষরূপী শয়তান। এরা আমার ভাইকে খুন করেছে। এদের বিচার চাই।

ঢাকা মেডিক্যাল কৃর্তপক্ষ জানায়, গ্রেনেড হামলায় আহত জামাল উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন সানজু (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গ্রেনেড হামলার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭৬ জন চিকিৎসা নেন। এদের মধ্যে ৫৯ জন প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে গেছেন। এখন ১৫ জন ভর্তি রয়েছেন। এরা হলেন- কামাল হোসেন (২২), মনির হোসেন (৩০), নূর হোসেন (৩৫), মোঃ জনি (২৫), সানোয়ার হোসেন (৩৩), মোঃ আকরাম (২৬), মোঃ রকিব (২৬), হালিমা বেগম (২০), কায়েস (১৫ মাস), আয়েশা বেগম (৫০), সোহান (১১), রিনা বেগম (৩৮), মোঃ হাসান (৬), স্নেহা (১১) ও রুনা (৩০)। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। সূত্রগুলো জানায়, এই ১৫ জন তিনটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর মিটফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনার রাত থেকে পরদিন শনিবার পর্যন্ত ৪২ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এরা সবাই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

নিহত জামালকে ঢাকায় দাফন করা হবে ॥ স্টাফ রিপোর্টার মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, ঢাকার তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলায় আহত জামাল উদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের সুন্ধাদিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের পুত্র।

জামালের বাসার খুব কাছাকাছি তাজিয়া মিছিলের আয়োজন হওয়ায় ওই দিন তিনি তা দেখতেই সেখানে গিয়েছিলেন। জামালের লাশ গ্রামের বাড়িতে আনার মতো সামর্থ্য না থাকায় তাকে ঢাকাতেই দাফন করা হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: