২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খুলনায় প্রথম রাজাকার ক্যাম্পের পরিচিতি ফলক স্থাপন


স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ অবশেষে খুলনায় একাত্তরের প্রথম রাজাকার ক্যাম্পের পরিচিতিমূলক ফলক স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফলকটি স্থাপন করেন ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন।

নগরীর টুটপাড়া কবরস্থানের নিকটবর্তী আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ের সীমানার বাইরে ফলকটি স্থাপন করা হয়। গত ২৫ অক্টোবর ফলক স্থাপন করতে গেলে খুলনার আনসার কর্মকর্তারা কাজ বন্ধ করে দেন। বৃহস্পতিবারও তারা কাজ বন্ধ করার কথা বললেও তা উপেক্ষা করেই ফলকটি স্থাপন করা হয়েছে।

১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর সারাদেশের বধ্যভূমি, রাজাকার বাহিনীর অত্যাচারের স্থানসমূহ চিহ্নিতকরণের কাজ করছে। তারই অংশ হিসেবে রাজাকার ক্যাম্পের পরিচিতি ফলক স্থাপন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের দীপশিখা জ্বালিয়ে রাখতে চান। ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ জাদুঘর একই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের কাজে তিনি সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। আর্কাইভ ও জাদুঘরকে প্রধানমন্ত্রী একটি বাড়ি উপহার দিয়েছেন। গত ৪০ বছরে কোন সরকারপ্রধান এমনটি করেননি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি অক্ষুণœ রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ জাদুঘর সারাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকবাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আলশামসের অত্যাচারের স্থানসমূহ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে খুলনায় বেশ কয়েকটি স্থানে পরিচিতি ফলক স্থাপন করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) যেখানে ফলকটি স্থপন করা হলো এটি ভূতের বাড়ি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানের আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের এই বাড়িকে ঘিরে একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী সেনাদের সহায়তায় জামায়ত নেতা মাওলানা ইউসুফের নেতৃত্বে প্রথম রাজাকার ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপিত হয়। মাওলানা ইউসুফ যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে মারা গেছে। তার অত্যাচারের ইতিহাস খুলনাবাসীসহ দেশবাসীকে জানাতে হবে। বর্তমানে আনসারবাহিনী একটি দেশপ্রেমিক আনসারবাহিনী হিসেবে দেশমাতৃকার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এটি স্থাপন নিয়ে শুরুতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আনসারবাহিনীর উদ্দেশে বলেন, এই ফলকটি অপনাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার বিষয় নয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে এটি রক্ষার জন্য তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ জাদুঘর ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলমগীর কবির, বিএম জাফর, সংস্কৃতিকর্মী হুমায়ুন কবীর ববি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এর আগে সরকারী পাইওনিয়র মহিলা কলেজের সামনে শহীদ মহাদেব চক্রবর্তী স্মরণে ফলক স্থাপন করেন ডাঃ শেখ বাহারুল আলম।

পরিচিতি ফলকের শিরোনাম হচ্ছে- ভূতের বাড়ি : একাত্তরের প্রথম রাজাকার ক্যাম্প।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: