২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শরীয়তপুরের সোলায়মান ও ইদ্রিসের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চার অভিযোগে শরীয়তপুরের দুই রাজাকার সোলায়মান মোল্লা (৮৪) ও ইদ্রিস আলী সরদার ওরফে গাজী ইদ্রিসের (৬৭) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্তে এই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ধানম-ির তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ও সানাউল হক এ তথ্য জানান। এদিকে তদন্ত সংস্থা আরও জানিয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে আওয়ামী ওলামা লীগের একাংশের সভাপতি ইলিয়াস বিন হেলালীর কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে। অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি নেত্রকোনার আহম্মদ আলী (৭০) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হবিগঞ্জের দুই সহোদর মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী তরাজ উল্লাহকে আসামি পক্ষের আইনজীবী জেরা করেছেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ২ নবেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শরিয়তপুরের দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পর তা প্রসিকিউশনে দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন দুপুরের দিকে প্রসিকিউশন বিভাগে এসে প্রসিকিউটর হৃষিকেশ সাহার নিকট তা জমা দেন। প্রসিকিউটর হৃষিকেশ সাহা জানিয়েছেন যাচাই-বাছাই করে এ রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হবে।

শরিয়তপুরের দুই রাজাকাররা হলেন- জেলার পালং উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মুসলিম পাড়ার মৃত চান মোল্লার ছেলে সোলায়মান মোল্লা (৮৪) ও একই থানার মাহমুদপুরের মৃত হাকিম আলী সরদারের ছেলে ইদ্রিস আলী সরদার ওরফে গাজী ইদ্রিস (৬৭)। সানাউল হক বলেন, তাদের মধ্যে গত ১৫ জুন সোলায়মান মোল্লাকে আটক করে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ইদ্রিস আলী এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় ২৮ জনকে সাক্ষী ও সিজার লিস্টে আরও ৩ জনকে সাক্ষী করা করা হয়েছে। এতে সাত খ-ে ৮৫২ পাতার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে দাখিল করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে। সেগুলো হলো। প্রথম অভিযোগ : ১৯৭১ সালের ২২ মে, আসামিরা পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর ১০০ থেকে দেড়শ’ জন সদস্যসহ শরীয়তপুর জেলার পালং থানা এলাকায় কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কৃষক আব্দুস সামাদসহ প্রায় ২০০ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে গুলি করে হত্যা করে ও বাড়ির মালামাল লুট করে।

দ্বিতীয় অভিযোগ : ২৬ মে, ১৯৭১ সালে জেলার পালং থানার মালোপাড়া ও রুদ্রকর গ্রামে হামলা চালিয়ে মঠের পুরোহিতকে গুলে করে হত্যা করে ও গ্রামগুলো থেকে মামালাল লুট ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মালোপাড়া থেকে ৩০-৪৫ জন মহিলা ও পুরুষকে ধরে মাদারীপুর পাকিস্তান আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে ৩ দিন আটকে রেখে মহিলাদের ধর্ষণ করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু পুরুষদের গুলি করে হত্যা করে।

তৃতীয় অভিযোগ : জুন মাসে একই থানার শৈণেন্দ্র কৃষ্ণ পালের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুইজনকে হত্যা করে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নির্যাতন করে বেনওয়েট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

চতুর্থ অভিযোগ : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসামিরা দখলদার বাহিনীর সহায়তায় এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ করে। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে পালং থানার এক থেকে দেড় হাজার মানুষকে দেশ ত্যাগ করে ভারতের শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য করে।

যুদ্ধাপরাধী কি না খতিয়ে দেখা হবে ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে আওয়ামী ওলামা লীগের একাংশের সভাপতি ইলিয়াস বিন হেলালীর কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান।

আসামির ঢামেকে মৃত্যু ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি নেত্রকোনার আহম্মদ আলী (৭০) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মার গেছেন। বুধবার দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি মারা যান। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে ঢামেকের নতুন ভবনের ৭০১ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত সোয়া ১২টায় তিনি মারা যান। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর আহম্মদ আলীকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে আবার কারা হেফাজতে নেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নেত্রকোনায় বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেত্রকোনার পূর্বধলার ৭ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রাজাকাররা হলেন, পূর্বধলার আব্দুর রহমান ও আহমদ আলী। এর মধ্যে আহম্মদ আলী বৃহস্পতিবার মারা গেছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: