২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিল্পকলা প্রাঙ্গণে ‘বাংলার মুখ লোকোৎসব’ শুরু


শিল্পকলা প্রাঙ্গণে ‘বাংলার মুখ লোকোৎসব’ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলার মুখ লোকোৎসব।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ এবং ‘আইসিটির টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ অর্জন করা উপলক্ষে এ উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলার মুখ। বৃহস্পতিবার বিকেলে বর্ণাঢ্যময় এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, নাট্যজন এসএম মহসিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সনজীব দাস অপু। এর আগে আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বাংলার মুখ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সাইফুল আজম বাশার।

এ উৎসবে ‘মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে’, ‘বন্ধুরে কই পাবো সখি গো’, ‘বাউলা কে বানাইলো হাছন রাজারে বাউলা কে বানাইলো’, ‘আমি তোর পিরিতে বাঁধা’সহ বৈচিত্র্যময় লোকগানে মুখর ছিল একাডেমির খোলা প্রাঙ্গণ। উদ্বোধনী দিনে লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন আবু বকর সিদ্দিকী, অনিমা মুক্তি গোমেজ, শফি ম-ল, রিংকু, কাজী মিথিলা, কনা, মোশারফ, শরীয়তপুরের সোহরাব বয়াতি ও তাঁর দল, মানিকগঞ্জের আলাউদ্দিন সরকার, ঝিনাইদহের সোনিয়া দেওয়ান, নারায়ণগঞ্জের আবদুল হাই দেওয়ান ও বাংলার মুখের শিল্পীরা। সন্ধ্যার নামার কিছুক্ষণ আগে একঝাঁক বর্ণিল বেলুন আকাশে অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে লোকোৎসবের উদ্বোধন করেন আসাদুজ্জামান নূর। এর পর বাংলার মুখের শিল্পীরা শিল্পকলা একাডেমির খোলা প্রাঙ্গণ ঘিরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানকে রঙিনময় করে তুলতে বাংলার মুখের শিল্পীরা সেজেছিলেন বাঙালিয়ানা সাজে।

তিন দিনের লোকোৎসব সাজানো হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ঢোলক নৃত্য, পালা গান, লোকনৃত্য, লাঠি খেলা, সাপ খেলা ও সং যাত্রা দিয়ে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন সন্ধ্যায় হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে এই উৎসব শুরু হয় বিকেল চারটার দিকে। অতিথিরা আসার আগ পর্যন্ত বাংলার মুখের শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন হাছন রাজা, লালন, আবদুল করিমসহ বিভিন্ন লোককবির গান। এর আগে উৎসব-সঙ্গীত ‘বাংলার মুখ রাখব আমরা চির অম্লান’ পরিবেশন করে বাংলার মুখের শিল্পীরা। সোনিয়া দেওয়ান পরিবেশন করেন ‘বন্ধুরে কই পাবো সখি গো’, কাজী মিথিলা পরিবেশন করেন আবদুল করিমের গান ‘আমি তোর পিরিতে বাঁধা’। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এই উৎসব।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ শুক্রবার শুরু হবে বিকেল চারটায়। এদিনও একটানা রাত ১০টা পর্যন্ত লোকসঙ্গীত পরিবেশন করবেন শিল্পীরা।

উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ॥ বহু ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে ৪৮তম বর্ষে পা রাখল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শিল্পী সত্যেন সেন, সাহিত্যিক রণেশ দাশগুপ্তসহ কয়েক প্রগতিশীল মানুষের ঐকান্তিক চেষ্টায় ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর জন্ম নেয়া এই সংগঠনের বৃহস্পতিবার ছিল ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এবারের সেøাগান ছিল ‘শিল্প-সংস্কৃতি-সংগ্রাম,আমাদের যুদ্ধ অবিরাম।’

সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইদু এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান। পরে সংগঠনের শিল্পীদের সম্মেলক কণ্ঠে পর পর দুটি গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়। প্রথম গানটি ছিল মাহমুদ সেলিমের কথা ও সুরে ‘লাখো লাখো শহিদের রক্তের নদী পেরিয়ে’ এবং পরের গানটি ছিল ‘আর্শীর সামনে একা একা দাঁড়িয়ে যদি ভাবি কোটি জনতার মুখ দেখব’। এরপর বাঁশিতে ‘তাকদুম তাকদুম’ গানটি বাদনের সঙ্গে সঙ্গে চলে বিচিত্র ঢঙে নৃত্য ও সেøাগান। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা টিএসসি থেকে বেরিয়ে শহীদ মিনার হয়ে আবার অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়।

এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ পর্বে স্বাগত ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার। আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আখতার হুসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকরাম আহমেদ ও রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা, সাবেক সহ-সভাপতি কাজী মদিনা ও কাজী মোহাম্মদ শীশ, উদীচীর প্রথম কমিটির আহ্বায়ক কামরুল আহসান খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, যে সংগঠন সংস্কৃতি অঙ্গন রচনা করতে জীবন দেয়, অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে আজীবন লড়ে চলে, সে সংগঠন কখনও কারও কাছে মাথা নোয়াতে পারে না। উদীচী এমনই একটি সংগঠন যে আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে শোষণের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: