২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এ্যামনেস্টির ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মুক্তি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার চাওয়ার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।

২৭ অক্টোবর সংগঠনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ্যামনেস্টির সাউথ এশিয়া রিসার্চ ডিরেক্টর ডেভিড গ্রিফিথ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অপরাধগুলো ভীতিকর; কিন্তু মৃত্যুদণ্ড শুধু সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দেবে। ন্যায্য বিচার ছাড়া মৃত্যুদণ্ড আরও বিরক্তিকর। তিনি দাবি করেন, সাকা এবং মুজাহিদের বিচার এবং আপীল প্রক্রিয়া পরিষ্কারভাবেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। ২ নবেম্বর রিভিউ আবেদনের শুনানির কথা উল্লেখ করে গ্রিফিথ বলেন, ‘এখন তারা যে মৃত্যুদ-ের জন্য অপেক্ষায় আছে, সেটা ন্যায়বিচারের বদলে ভুল বিচারের ফল।’

একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারাও যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে দাবি করে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রশ্ন তুুলেছে। তাদের বক্তব্য- ‘শুধু একপক্ষের বিচার হবে কেন? যুদ্ধাপরাধ করা মুক্তিযোদ্ধাদের কেন বিচার করা হচ্ছে না- সে প্রশ্নও তুলেছে এ্যামনেস্টি। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিও জানিয়েছে তারা।’

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার এ বিষয়ে জনকণ্ঠকে জানান, যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের দাবিতে এ্যামনেস্টির বিবৃতির প্রতিবাদে আজ শুক্রবার বিকেল চারটায় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়া হয়েছে। আগামী ২ নবেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ওয়েস্ট লন্ডনে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মূল কার্যালয়ের সামনে গণজাগরণ মঞ্চ যুক্তরাজ্য শাখার প্রতিবাদ সমাবেশ। কর্মসূচী সফল করতে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইমরান।

ইমরান বলেন, ‘অবিশ্বাস্য মনে হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের ৪৪ বছর পরে এসে ঠিক এই ভাষায়ই মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধাদের আক্রমণ করেছে মানবাধিকারের নামে দানবাধিকার রক্ষায় ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সংগঠন এ্যামনেস্টি!’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের শুরু থেকেই দাতাদের ঋণের ওপর নির্ভর করে চলা এ সংগঠনটি সেসব কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে এবং তার অংশ হিসেবে নানা সময় মিথ্যা, বানোয়াট, ধৃষ্টতাপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করে আসছে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য তাদের ধারাবাহিক কার্যক্রমে এটা স্পষ্ট হয়ে যায়- আদতে তারা কোন মানবাধিকার রক্ষার সংগঠন নয়, প্রভাবশালী কুখ্যাত দানবদের বাঁচানোর এজেন্ডাপ্রাপ্ত একটি দানবাধিকার সংগঠন মাত্র।’

ইমরান এইচ সরকার আরও বলেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়ার এ পর্যায়ে এসে যখন দুই কুখ্যাত মানবতাবিরোধী অপরাধী সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে রায় কার্যকরের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, ঠিক তখন এ আন্তর্জাতিক সংগঠনটি ঘোমটা ছাড়াই নেমেছে তাদের বাঁচানোর মিশন নিয়ে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েও অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও ন্যক্কারজনক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতীয় গর্ব। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করা প্রত্যেক বাংলাদেশীর নৈতিক দায়িত্ব। সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি- আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ জানাই; রুখে দিই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের সকল দেশী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আসুন প্রতিবাদে একাত্ম হই। আমাদের সম্মিলিত বজ্রকণ্ঠে এ্যামনেস্টি জানুক ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে পাওয়া বাংলাদেশে যেমন যুদ্ধাপরাধী ও তাদের রক্ষাকর্তাদের কোন ঠাঁই হবে না, তেমনি সহ্য করা হবে না মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার কোন হীন অপচেষ্টা।