মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ভুটান থেকে বিদ্যুত আমদানি করার উদ্যোগ

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০১৫
  • যৌথ বিনিয়োগে প্রকল্প বাস্তবায়নের চিন্তা

রশিদ মামুন ॥ এবার ভুটান থেকে জলবিদ্যুত আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এখন ভুটান যে সকল জলবিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেখান থেকে আমদানি করার পাশাপাশি ভুটানে যৌথ বিনিয়োগে জলবিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়নের চিন্তাও করা হচ্ছে। ভুটান তাদের দেশে জলবিদ্যুত প্রকল্পে বাংলাদেশী বিনিয়োগে সম্মতি জানিয়েছে।

ভুটানের সফররত জ্বালানি মন্ত্রী লিনপু নরবো ওনাচুংকে বাংলাদেশের বিদ্যুত আমদানির অবকাঠামো ঘুরে দেখাবে বিদ্যুত বিভাগ। আগামীকাল শুক্রবার লিনপু নরবো ওনাচুং এবং বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ভারত বাংলাদেশ বিদ্যুত সঞ্চালন সাব-স্টেশন পরিদর্শনে যাবেন। ভুটান থেকে বিদ্যুত আমদানির ক্ষেত্রে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে বলে তাকে জানানো হবে। ওই দিন ভেড়ামারা পরিদর্শন শেষে ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে ভুটানের সফররত জ্বালানিমন্ত্রীর সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

বিদ্যুত বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ভারত, নেপাল এবং ভুটানে বিশাল জলবিদ্যুত উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ যৌথভাবে এসব দেশে বিদ্যুত প্রকল্প তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। ভুটান এবং নেপাল থেকে বিদ্যুত আমদানির ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড় বাঁধা ছিল ভারত। কিন্তু ভারত এসব ক্ষেত্রে সহায়তা সম্প্রসারণ করেছে। ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন বিদ্যুত কোম্পানি দেশ দুটিতে জলবিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণ করছে। তারা সেখানের বিদ্যুত বাংলাদেশের কাছে বিক্রির প্রস্তাবও দিয়েছে। এর বাইরে আমরাও ভুটানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে ভুটান সরকারের কোন আপত্তি নেই বলে তারা আমাদের জানিয়েছে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, ভুটান বর্তমানে এক হাজার ৪৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করছে। যার সবটাই জল বিদ্যুত। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ২৮৮ মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যায়। বেশিরভাগ বিদ্যুতকেন্দ্র ভারতীয় অনুদান এবং ঋণে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখান থেকে স্বল্পমূল্যে বিদ্যুত আমদানি করছে ভারত।

দেশটিতে ২৫ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুত উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুতের উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে। বিপুল এ সম্ভাবনার প্রায় সবটুকুই কাজে লাগাতে পারছে না ভুটান। দেশটি তাদের জলবিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে দেশটি ২০২০ সাল নাগাদ ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ শুরু করেছে। এর বেশিরভাগই তারা প্রতিবেশী দেশে রফতানি করতে চায়। এজন্য ভারতের সহযোগিতায় ১০টি জলবিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ছয় হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। ২০১৯ সালের মধ্যে নতুন তিনটি বিদ্যুত উৎপাদন শুরু করার কথা রয়েছে।

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০১৫

২৯/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: