মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কক্সবাজারের পাহাড়ে রোহিঙ্গা ॥ নারীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০১৫
  • অর্থায়ন করছে আরএসও

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার থেকে ॥ কক্সবাজারে পাহাড়ের চূড়ায় তিন রোহিঙ্গা মহিলার নেতৃত্বে নারীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপ আরএসওর অর্থায়নে ফয়েজ নামে জামায়াতের এক নেতা এবং অস্ত্র চালনায় পারদর্শী ছয় জঙ্গী রোহিঙ্গা নারীদের ওই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেখভাল করছে। একটি এনজিওর কতিপয় প্রতিনিধি ও মৌলবাদী নেতা মাঝে মধ্যে প্রশিক্ষণস্থলে হাজির হয়ে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের উৎসাহ যোগাচ্ছে।

সূত্র জানায়, শহরের সৈকতপাড়া, লাইট হাউসপাড়ার তিনটি কলোনিতে ভাড়াটিয়া ও বাঘঘোনা পাহাড়ে জমি দখল করে সেখানে তৈরি ঘরে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা ঐ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে চলছে নিয়মিত। প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে মৌলবাদীদের সহযোগিতায় জঙ্গীরা অস্ত্র প্রশিক্ষণ পাকাপোক্ত করতে দুর্গম পাহাড়ী এলাকা টার্গেট করে শহরের বাঘঘোনা ও ছত্তারঘোনায় আস্তানা গেড়েছে। আরএসও ক্যাডাররা রোহিঙ্গা পুরুষের পাশাপাশি তৈরি করছে নারী জঙ্গী। আরএসওর অর্থায়নে অনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া জঙ্গীগোষ্ঠীর সহযোগী ব্যক্তিদের সুপারিশে ইতোমধ্যে তিন রোহিঙ্গা নারী কক্সবাজার আনসার ক্যাম্পে মহিলা আনসার হিসেবে ট্রেনিং নিয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে আনসার ট্রেনিং কোর্সে অংশ নিতে তারা নিজেদের বাংলাদেশী নাগরিক দাবি করে ভুয়া জাতীয় সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি জমা দেয়। তবে কক্সবাজার জেলা আনসার অফিস সূত্র ঐ তিন মহিলার আনসার ভিডিপির ট্রেনিং নেয়ার বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে বলেন, হয়ত সাবেক আনসার কমান্ডার সরোয়ারের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে ট্রেনিং নিতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, কলোনির কেয়ারটেকার আবু তাহের নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েক জঙ্গী সহযোগী ব্যক্তি প্রশাসনের লোকজনকে পাহারা দিতে বসে থাকে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে। রাতের অন্ধকারে মাসাধিককাল ধরে ঐ এলাকায় গোপনে গেরিলা প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা জঙ্গীরা। এ ব্যাপারে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

জানা গেছে, সৈকতপাড়ার জামায়াত নেতা আবুল হোসেনের কলোনি, আবদুল্লাহ কলোনি ও মৌলভী হাবিবের কলোনিতে ভাড়া থাকে শতাধিক অবৈধ রোহিঙ্গা। আরএসওর একটি গ্রুপ ওসব রোহিঙ্গার বাসা ভাড়ার টাকা দিয়ে থাকে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। বিদেশে অবস্থানকারী আরএসওর ধনাঢ্যশালীদের কাছ থেকে অঢেল টাকা এনে রোহিঙ্গা জঙ্গীরা বাঘঘোনা পাহাড়ে অবৈধ দখল করে বসতি গেড়েছে। একটি এনজিওর প্রতিনিধি ও জঙ্গীদের সহযোগীরা আগন্তুক রোহিঙ্গাদের সমন্বয় করে থাকে। কেয়ারটেকার আবু তাহের সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা কে, কোন্ বাসায় থাকবে, তা ঠিক করে দেয়। রোহিঙ্গা আরমান, আবদুল মোনাফ, পুতিয়া, শফি আলম, বর্মী নজিরের দুই পুত্র ও আনসার ভিডিপির ট্রেনিংপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা নারী নছিমা বেগম প্রকাশ নছুনি, আরেফা বেগম ওরফে আরফানি ও ফাতেমা বেগম রাতে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। লাইট হাউসপাড়া বাঘঘোনায় বর্মী শুক্কুরের মেয়ে আমেনা খাতুনের তৈরি ঘরে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, রোহিঙ্গা ও আরএসও ক্যাডারদের আড্ডা বসে বলে সূত্রটি আভাস দিয়েছে। মহিলা আনসারের পোশাক পরে রোহিঙ্গা নারী নাছিমা (২৩) ও আরেফা (২১) দিব্যি ঘোরাফেরা করে থাকে সৈকতপাড়া এলাকায়। তারা আবদুল্লাহ কলোনির ভাড়াটিয়া। বর্মী আরেফার বিরুদ্ধে পর্যটকদের ব্ল্যাকমেইল করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় পর্যটকদের জিম্মি করে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে সন্ত্রাসীরা।

গোয়েন্দা সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, মোস্টওয়ান্টেড আসামিরা বাঘঘোনা ও ছত্তারঘোনায় বিচরণ করায় এলাকাটি সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সন্ত্রাসী দু’গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে দুই দফায় তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে শহরের বাচামিয়া ঘোনায়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে টিকতে না পেরে বাচামিয়া ঘোনা থেকে পালিয়ে সন্ত্রাসীরা বাঘঘোনা ও ছত্তারঘোনায় আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক স্বপন কুমার পাল মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে বলেন, তার জানা মতে রোহিঙ্গা পরিচয়ে কোন মহিলা আনসার ভিডিপি ট্রেনিং নেয়নি। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আনসার ভিডিপি ট্রেনিং নিষিদ্ধ। তবে এ ধরনের অপরাধ করে থাকলে তা শীঘ্রই বিহিত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজার জেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়ের সাবেক আনসার কমান্ডার সরোয়ার শহরের সৈকতপাড়া এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল করে সেখানে অবৈধভাবে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছে বলে জানা গেছে। ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের প্লটের পাশে বন বিভাগের জায়গায় সাবেক ওই আনসার কমান্ডারের বাসায় রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন অপরাধী যাওয়া আসা করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক আনসার কমান্ডার সরোয়ার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে বলেন, যাচাই-বাছাই করে শহরের বিভিন্ন মার্কেটে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। সৈকতপাড়ায় মহিলা আনসার রয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, তারা কোথা থেকে ট্রেনিং নিয়েছে, তা অবগত নন তিনি।

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০১৫

২৯/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: