১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দক্ষিণ চীন সাগর ॥ আরও মহড়া চলবে


যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগরে বেজিংয়ের দাবি করা জলসীমায় আরও নৌমহড়া চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর আগে ওই সাগরে দুটি চীনা কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জের কাছে মার্কিন নৌমহড়ার প্রতি বেজিং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। মহড়ার প্রতিবাদে চীন বেজিংয়ের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ‘গুরুতর উস্কানি’ দানের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে। নৌমহড়ার সময় নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ল্যাসেন একটি চীনা কৃত্রিম দ্বীপের কাছাকাছি চলাচল করে। খবর গার্ডিয়ান ও সিএনএনের।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ্যাশ কার্টার দক্ষিণ চীন সাগরের ওই এলাকায় নৌমহড়া অব্যাহত থাকবে বলে মঙ্গলবার সতর্ক করে দেন। সিনেটের এক শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কার্টার বলেন, যখনই প্রয়োজন হয় তখন এবং যেখানেই আন্তর্জাতিক আইন অনুমোদন করে সেখানেই আমরা বিমান উড়াব, জাহাজ চালাব এবং তৎপরতা চালু রাখব। এ শুনানিতে কংগ্রেস সদস্যরা দাবি করেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা না নেয়, তা হলে সে ওই অঞ্চলে তার মিত্রদের বিশ্বাস হারাতে পারে বলে ঝুঁকি রয়েছে। কার্টার বলেন, ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নৌবাহিনীর তৎপরতা চালানো হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে আরও তৎপরতা চলবে।

এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন যে, ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ল্যাসেন মঙ্গলবার সকালে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সুবি শৈল শ্রেণীসহ বেজিংয়ের দাবি করা পাঁচটি শৈলশ্রেণীর ১২ নটিক্যাল মাইলের ভেতর চলাচল করে। চীন জানায়, তার জাহাজ ও বিমান মার্কিন যুদ্ধ জাহাজটিকে সতর্ক করে দেয় এবং অনুসরণ করে। ওই কর্মকর্তা বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র মনুষ্য সৃষ্ট দ্বীপগুলোকে চীনা ভূখ- হিসেবে স্বীকার করত, তা হলে চীনের সার্বভৌমত্বভুক্ত ভূখ-ও বলে গণ্য হতো এমন এক এলাকার ভিতরই জাহাজটি চলে যেত। কার্টার ইউএসএস ল্যাসেন বিরোধপূর্ণ স্প্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ১২ নটিক্যাল মাইলের (২২ দশমিক ৪ কিলোমিটাররা ১৩ দশমিক ৮ মাইল) মধ্যে চলাচল করে বলে নিশ্চিত করেন। চীনের বিতর্কিত দ্বীপ নির্মাণ অভিযানের কেন্দ্রস্থলই হলো ওই দ্বীপপুঞ্জ। এ অভিযান ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে তিক্ত করে তুলেছে। বেজিংয়ের ভূখ-গত দাবির প্রতি ওই সরাসরি সামরিক চ্যালেঞ্জ বেজিংয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

চীনা উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝাং ইয়েসুই চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাক্স বকাসের সঙ্গে বৈঠককালে ওই পদক্ষেপকে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ খবর জানায়।

বেজিংয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেন, চীন আমেরিকার পদক্ষেপ নিয়ে খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি একে চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি বলে বর্ণনা করেন। চীন কোন পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বিবেচনা করবে কিনা, এ প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি অস্বীকার করেন। লু বলেন, আমি অনুমাননির্ভর প্রশ্নের জবাব দেব না। আমরা আশা করি, মার্কিন পক্ষ এমন কোন পদক্ষেপ নেবে না, যা হিতে বিপরীত হয়।

লু সতর্ক করে দেন যে, আরও ‘উস্কানিমূলক’ তৎপরতা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনাদের নির্মাণ কাজ জোরদার করতে উৎসাহিত করতে পারে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির তৎপরতা বেজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনার এক বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ তৎপরতার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম দ্বীপে জঙ্গী ও পরিবহন বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সুযোগ দিতে সক্ষম তিন কিলোমিটারের এমন এক রানওয়ে নির্মাণ। চীন বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ নিজের বলে দাবি করে থাকে, যদিও ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, ফিলিপিন্স ও তাইওয়ানেও ওই সাগরের ওপর পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে।