মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

নিন্দনীয় ও শাস্তিযোগ্য

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০১৫

মোঃ হাবিব উল্লাহ

দখল কথাটা শুনলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। কারণ এতে ভাল কিছু নেই। নিজের জিনিস দখল করতে হয় না, মানুষ অন্যের জিনিস দখল করে। দখল একটা সামাজিক ব্যাধি- এর মূল উৎপাটন করতে হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আনাচে-কানাচে দখল বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হচ্ছে, এটা প্রতিহত করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে দখল কাজ চলছে সেগুলো হচ্ছে- সরকারী খাস জমি তথা সরকারী নদী-নালা, খাল-বিল ইত্যাদি। খোদ রাজধানী শহরের খালগুলো, ফুটপাথ, পার্ক ও তদসংলগ্ন সরকারী জমি, গ্রামাঞ্চলে খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়, বন-জঙ্গল, গাছপালা, রেল বিভাগের জমি, পাহাড়ী অঞ্চলের পাহাড়সহ জমি, মাছসহ নদী-নালা, হাট-বাজার, শহরাঞ্চলের বস্তি যা সরকারী খাস জমি ইত্যাদি। বন বিভাগের জমি দখল করে অবৈধ দখলকারীরা গাছপালা বিক্রি করে রমরমা ব্যবসা করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের নদী-নালা ও চর দখল করে লাঠিয়াল জোরদাররা সরকারী খাস জমি দখল করছে, নানা ফসল ফলিয়ে নিজেরা লাভবান হচ্ছে, সরকার বঞ্চিত হচ্ছে তার পাওনা থেকে। এই দখলবাজি একটা চলমান প্রক্রিয়া, এটা একদিনে হয় না। ঢাকা শহরের খালগুলো জবরদখল করে ভরাট করে বড় বড় অট্টালিকা তৈরি করে অবৈধ দখলকারীরা লাভবান হয়েছে, সরকার বঞ্চিত হয়েছে তার পাওনা থেকে।

বনাঞ্চলের বনভূমি অবৈধ দখলকারীরা দখল করে বনের গাছপালা বিক্রি করে নিজেরা প্রভূত পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হচ্ছে আর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে তার নিজস্ব পাওনা থেকে।

জবরদখলকারীরা নদীগুলো দখল করে মাছ নিয়ে ব্যবসা করছে। চরের জমিতে নানা ফসল ফলিয়ে লাঠিয়াল জোরদাররা অনেক অর্থ-সম্পদের মালিক হচ্ছে। গো-মহিষাদি সরকারী জমিতে পালন করে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। শহরাঞ্চলের মূল্যবান জমি ভূমিদস্যুরা পেশিশক্তি বলে জবরদখল করে নিরীহ মানুষকে ঠকিয়ে চলেছে।

সাধারণ মানুষ এদের ছলচাতুরি, কলাকৌশল আর পেশিশক্তির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে পারছে না। ভূমি-উন্নয়নের নামে একশ্রেণীর পেশাদার মানুষ অসহায় মানুষের সম্পদ জবরদখল করে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ এত অসহায় যে, এদের সঙ্গে কিছুতেই পেরে উঠছে না।

সমাজে বিভিন্ন স্থানে যেসব জবরদখলকারী মানুষের সর্বনাশ করছে এখনই তাদের প্রতিহত করতে হবে। রেলের জমি, বন বিভাগের জমি, মৎস্য বিভাগের নদী-নালা, বিভিন্ন সরকারী সংস্থা ও পৌরসভা, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের বেহাত হয়ে যাওয়া জমিসমূহ উদ্ধার করে সরকারী নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে নতুন আইন প্রণয়ন করে তা কার্যকরী করতে হবে।

লেক সার্কাস (কলাবাগান), ঢাকা থেকে

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০১৫

২৯/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: