২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এই শতাব্দীতে দক্ষিণ এশিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ জ্বালানি নিরাপত্তা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ গোটা বিশ্বের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমান শতাব্দীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা পূরণ করাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কিন্তু আমদানি নির্ভর ও অনবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভরতা, পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব, উচ্চ মূল্য, পরিবেশবান্ধব টেকসই জ্বালানির সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং সহায়ক প্রযুক্তির অপ্রুতলতা এ অঞ্চলের জ্বালানি খাতের প্রধান অন্তরায়। তাই এসব সমস্যা মোকাবেলায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো খুবই জরুরী। এক্ষেত্রে এ অঞ্চলের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার জাপানের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কাজে লাগাতে পারে।

বুধবার রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাপান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এ সেমিনারের আয়োজন করে। ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা ঃ জাপানের অভিজ্ঞতার প্রাসঙ্গিকতা’ (এনার্জি সিকিউরিটি ইন সাউথ এশিয়া প্লাস: রিলিভেন্স অব জাপানিজ এক্সপেরিয়েন্স) শীর্ষক এই সেমিনারে এ অঞ্চলের ছয়টি দেশের পাশাপাশি জাপান ও মিয়ানমারের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরাও অংশগ্রহণ করছেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে আন্ত:রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর অংশ হিসেবে ভারত থেকে বাংলাদেশ ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চেষ্টা চলছে। জ্বালানি খাতে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। বাংলাদেশে বেশকিছু প্রকল্প রয়েছে জাপানের। আরও কয়েকটি প্রকল্প পাইপলাইনে রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় জাপান সরকারকে এশিয়ার জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করতে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এছাড়া জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক এবং বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

বর্তমানে দেশের কূপগুলো থেকে যে হারে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে এখনকার মজুদ দিয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চালানো যাবে। ভবিষ্যত সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বাসা-বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাসের জায়গায় এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) প্রচলন করা হবে। বর্তমানে মোট গ্যাসের ১২ শতাংশ আবাসিক খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে এলপিজি চালু করা হলে কী কী সুবিধা-অসুবিধা দেখা দেবে তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এলপিজি’র ব্যবহার যাতে ধনী-গরীব সকলের সাধ্যের আওতায় থাকে এ বিষয়ে এখন কাজ চলছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সব এলাকার মানুষের ক্রয় ক্ষমতা সমান নয়। সেক্ষেত্রে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ একটি চ্যালেঞ্জ। এলপিজিকে সাশ্রয়ী করতে কী পরিমাণ ভর্তূকি দিতে হবে সেটাও বিবেচ্য বিষয়।

বিদ্যুত খাত বিষয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আঞ্চলিকভাবে জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। জাইকা’র সহযোগিতায় ২০১০ সালে আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতার ওপর একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় আঞ্চলিক পর্যায় থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ৩ নয় ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আঞ্চলিক পর্যায় থেকে নিতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। তবে ত্রিপুরার সঙ্গে আমরা এরই মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেবল ত্রিপুরা থেকেই ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনা হবে।

বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে, বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া দেশী-বিদেশী কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে পরপর দুইটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: