১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সত্যিকার ভ্যাম্পায়ারের খোঁজ


সত্যিকার ভ্যাম্পায়ারের খোঁজ

ভ্যাম্পায়ার বা রক্তখেকো মানুষের কথা আমরা সিনেমা, নাটকে দেখেছি এবং সাহিত্যে পড়েছি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো বিশ্বে বহু ভ্যাম্পায়ার রয়েছে যারা অনায়াসে রক্তপান করে। কিন্তু এদের চরিত্র সিনেমার ভ্যাম্পায়ারের মতো নয়। এদের কোন অতিমানবীয় শক্তি নেই। নেই বিষদাঁত। এরা মানুষ দেখলেই তার রক্তপানের জন্য উন্মুখ হয়ে যায় না। এদের পরিবার, সংসার সবই রয়েছে। কিন্তু তারা পরিবারকে না জানিয়ে এই রক্তপান করে থাকে। এই সত্যিকারের ভ্যাম্পায়ার নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ব্রাউনিং। এ ধরনের রক্তখেকো অনেকের সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। আরও মজার বিষয় হলো নিউ অরলিন্সে ভ্যাম্পায়ারদের একটি সংগঠননের খোঁজও পেয়েছেন এই অধ্যাপক। এটির নাম নোভা। আর ভ্যাম্পায়ারদের সঠিক সংখ্যা জানতে ডিজে উইলিয়ামস নামে অপর এক সমাজবিজ্ঞানী একটি জরিপ চালিয়েছেন। তিনি জানতে পেরেছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই অন্তত পাঁচ হাজার ভ্যাম্পায়ার রয়েছে। এদের মধ্যে নিউ অরলিন্সেই বাস করে ৫০ জন।

তার মতে, এই সম্প্রদায় নিজেদের প্রকাশ করতে চায় না। তারা মানুষের মনোভাব সহজেই বুঝতে পারে। কিন্তু তাদের নিজেদের একটা আলাদা বিশ্বাসের জায়গা রয়েছে। তারা খেপাটে স্বভাবের নয়। তারা রক্তপান করতে চায়, কারণ তারা মনে করে রক্তপানে প্রচুর শক্তি পাওয়া যায়। তবে তারা মূল খাদ্য হিসেবে এই রক্তপান করে না। তাদের বিশ্বাস, রক্তপান করলে অন্যদের তুলনায় বেশি শক্তি অর্জন করা যায়। এটি তাদের ভিন্নধর্মী অভ্যাসের অংশ। এসব ভ্যাম্পায়ার যৌন সম্পর্ক, আর্থিক সহায়তাসহ নানাভাবে ডোনারের কাছ থেকে এই রক্ত খাওয়ার প্রস্তাব করে। কেউ রাজি হলে হাত দিয়ে চেপে ধরে সামান্য উষ্ণ রক্ত বের করে মুখ দিয়ে চেটে খায়। তারা সপ্তাহে দুই অথবা তিনবার এভাবে রক্তপান করে থাকে। এই ভ্যাম্পায়ার একজন কিনেসিয়া। বাড়ি ব্রিটেনে। কেন আপনি রক্তপান করেন- এই প্রশ্ন করতেই তিনি বলে ওঠেন, আমি স্রেফ অন্যদের তুলনায় সুখী ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য রক্তপান করি। তিনি বলেন, চার মাস রক্তপান না করলে আমি দুর্বল হয়ে পড়ি। আমাকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি হতে হয়। তারপর আমার স্বামী আমাকে দেখতে এলে আমি তার রক্তপান করি। এরপর ভাল বোধ করতে থাকি। -বিবিসি ও এনডিটিভি অবলম্বনে নাজিম মাহমুদ।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: