মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বিশ্বব্যাংক ১১ প্রকল্পে ১৪ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেবে

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৫
  • আলোচনা শেষ ॥ চলছে চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়া

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ চলতি অর্থবছরে (২০১৫-১৬) ১১ প্রকল্পে বড় অঙ্কের সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সহজ শর্তের এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা (১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ইতোমধ্যেই এসব প্রকল্পে অর্থায়নে আলাপ-আলোচনা করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এখন চলছে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম সহযোগী। বলা চলে সবচেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি। গত পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাংক প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত অর্থবছরে সর্বোচ্চ অর্থ ছাড়কারী সংস্থাও হচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন শুরু হতে যাওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রজেক্ট। এটি বাস্তবায়নে ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) এটি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক দেবে ১৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। রিভার ব্যাংক ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম, ঋণ দেবে ৬০ কোটি মার্কিন ডলার। ঘোড়াশাল ইউনিট ৪ রিপাওয়ারিং প্রজেক্ট, ঋণ সহায়তা ২৫ কোটি মার্কিন ডলার। প্রো-পুওর সøামস ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্ট, ঋণ সহায়তা ৫ কোটি মার্কিন ডলার। রিজিওনাল ওয়েদার এ্যান্ড ক্লাইমেট সার্ভিস প্রকল্প, ঋণ সহায়তা ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রজেক্ট, ঋণ সহায়তা ১২ কোটি মার্কিন ডলার। কলেজ এডুকেশন প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, ঋণ সহায়তা ১০ কোটি মার্কিন ডলার। থার্ড প্রাইমারী এডুকেশন প্রোগ্রাম, অনুদান সহায়তা ১০ কোটি মার্কিন ডলার। স্কিল ডেভলপমেন্ট এডিশনাল ফাইন্যান্সিং, ঋণ সহায়তা ১০ কোটি মার্কিন ডলার এবং সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার প্রজেক্ট (এএফ), ঋণ সহায়তা ১৭ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম জনকণ্ঠকে বলেন, এ প্রকল্পগুলোর চুক্তি স্বাক্ষর অনেকটাই নির্ভর করছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প অনুমোদনের উপর। কেননা অনুমোদনের পরই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি অর্থবছরে বেশি প্রতিশ্রুতি পাওয়া সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণাঞ্চলীয় চীফ ইকোনমিস্ট মার্টিন রামা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের আর কোন বিষয় নেই। কেননা এটির কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ সেতু নির্মাণে সরকার সক্ষম। তাছাড়া পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি একটি মীমাংসিত ইস্যু, এ বিষয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক আমাদের প্রয়োজন বুঝতে পেরেছে। সে জন্য যখন যে রকম প্রয়োজন হবে সেভাবেই তারা সহায়তা অব্যাহত রাখবে। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী মূল কাজ হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এজন্য ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। বিদ্যুত, গ্যাস, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কানেকটিভিটিসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাংকের কাছে বেশি করে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া আরও ২৪টি রয়েছে ট্রাস্টফান্ড প্রজেক্ট হিসেবে।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যানেট ডিক্সন বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করতে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফরের শেষে সম্প্রতি তিনি এসব কথা বলেন। সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয় ডিক্সন বাংলাদেশের দারিদ্র্য নিরসন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তার সফরে জেনেছেন। এ সময় তিনি বলেন, মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে যেসব খাতে প্রয়োজন হবে সেসব খাতেই বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেবে। তবে আগামীর উন্নয়নে বাংলাদেশকে কিছু ক্ষেত্রে টেকসই সংস্কার করতে হবে। তিনি জানান, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে অন্যতম সহায়ক শক্তি কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তাছাড়া বিদ্যুত উৎপাদন, পরিবহন, শহর ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায়ও সহযোগিতা দেয়া হবে। আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাংক বর্তমানে কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে। এতে বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৫

২৮/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: