২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বৌদ্ধ সংস্কৃতি, প্রতœসম্পদ প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু


বৌদ্ধ সংস্কৃতি, প্রতœসম্পদ প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু

মোরসালিন মিজান ॥ বলার অপেক্ষা রাখে না, আশ্চর্য সুন্দর বাংলাদেশ অথচ সেই তুলনায় যৎসামান্য বিদেশী পর্যটক। তাঁদের আকৃষ্ট করতে, আশ্বস্ত করতে তেমন উদ্যোগ নেই। পরিকল্পনার অভাব। এভাবে পিছিয়েছে, কেবল পিছিয়েছে পর্যটন খাত। আর তার পর চমৎকার একটি উদ্যোগ। এবার বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতœসম্পদ ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো সামনে রেখে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে ‘বুদ্ধিস্ট পর্যটন সার্কিট উন্নয়ন’ শীর্ষক সম্মেলন। বৌদ্ধ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ১৩ দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন। লক্ষ্যটি- দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই ও সমন্বিত আন্তঃসীমান্ত বুদ্ধিস্ট ট্যুরিজম সার্কিট ও রুটের উন্নয়ন। মার্কেটিং পরিকল্পনার জন্য বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি। আর তা সম্ভব হলে প্রতিবছর ১০ লাখ বিদেশী পর্যটক পেতে পারে বাংলাদেশ।

কিভাবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গৌতম বুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বহু স্থান ও স্থাপনা রয়েছে। এসব জায়গার প্রতি ধর্মবিশ্বাসী মানুষের বিশেষ অনুরাগ। একইসঙ্গে প্রতœতাত্ত্বিক গুরুত্বের কারণে সাধারণ পর্যটকদের বিপুলভাবে আকর্ষণ করে। জানা যায়, বিশ্বে ৪ কোটি ৮০ লাখ পর্যটক বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানে ভ্রমণ করে থাকেন। গত বছর প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার বিদেশী পর্যটক গয়া ভ্রমণ করেন। নালান্দায় ভ্রমণ করেন ১ লাখ ২৫ হাজার। বুদ্ধের জন্মস্থান লুমবিনিতে ১ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন।

বাংলাদেশেও আছে বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহাসিক অনেক স্থাপনা। গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন আছে। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় এবং ময়নামতির সমৃদ্ধ ইতিহাসের কথা সকলেই জানেন। পার্বত্য এলাকাগুলোতে গৌতম বুদ্ধের উপস্থিতি বিশেষ জোরালো। সারা বছর এসব স্থানে দেশীয় পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা নগণ্য অথচ ট্যুর অপারেটরদের মতে, অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এসব স্থান ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা দেখতে প্রতিবছর লাখ লাখ বিদেশী পর্যটক বাংলাদেশে আসবেন। আয় করা সম্ভব হবে কোটি কোটি টাকা। মূলত এই হিসাব আমলে নিয়েই আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্মেলন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুদিনের আন্তর্জাতিক বুদ্ধিস্ট ট্যুরিজম সার্কিট কনফারেন্সে তিন বছরব্যাপী (২০১৬-১৮) পর্যটন বর্ষের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডাব্লিউটিও) সহায়তায় আয়োজিত সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের পর্যটন বিশেষজ্ঞ, বৌদ্ধ ধর্মের নেতারা যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল এবং ভুটানের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বৌদ্ধ পর্যটককে আকৃষ্ট করতে রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০০ প্রাচীন বৌদ্ধ পর্যটনকেন্দ্রে প্রতœসম্পদ ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রোডম্যাপটি চূড়ান্ত করার পর বুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যটন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। এর অংশ হিসেবে সম্মেলন শেষে দুজন বৌদ্ধ মং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন পরিদর্শনে যাবেন বলে জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনা সম্পর্কে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, পর্যটন বর্ষে ১০ লাখ পর্যটক আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি আমরা। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান এখন মাত্র ২ শতাংশ জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগের ফলে এটি বাড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে, ২০১৬ সালের পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন কর্পোরেশন। এই প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ ভ্রমণে আসা পর্যটকরা সরকারী-বেসরকারী হোটেল-মোটেল, বিমান ভাড়া, খাদ্যসহ বিভিন্ন সেবায় ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অপরুপ চৌধুরী জানান, পর্যটন বর্ষ ২০১৬ চলাকালীন দলবদ্ধ ভ্রমণের আওতায় দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসে আসা বিদেশী পর্যটক পর্যটন কর্পোরেশনের আবাসিক স্থাপনা ব্যবহার করলে সেসব হোটেল-মোটেলে বিনা মূল্যে নাশতাসহ ৩০ শতাংশ বিশেষ মূল্য ছাড় দেবে। দুপুরের খাবার ও নৈশভোজে মূল্য ছাড় পাবেন ২০ শতাংশ। পর্যটন কর্পোরেশনের স্থাপনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কার্যালয়ের মাধ্যমে পর্যটন কর্পোরেশন ও অন্যান্য আবাসিক ও আপ্যায়ন সুবিধা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত সুবিধা বিপণন করবে। দেশে-বিদেশে যেসব বিমান অফিস রয়েছে সেখানকার কাউন্টার থেকে সরাসরি বিমান টিকেট ক্রয় করলে টিকেটের ওপর ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন নভোএয়ারসহ অন্যান্য এয়ারলাইনসের প্রিভিলিজড কার্ড ও লয়্যালিটি কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণকারী বিদেশী পর্যটকরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত বলাকা ভিআইপি লাউঞ্জে ৩০ শতাংশ ছাড়ে খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন। আরও নানা সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার একটি প্রচেষ্টা দৃশ্যমান হচ্ছে। এ প্রচেষ্টা সার্থক হোক। সার্থক হওয়া জরুরী।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: