১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রোবেনের রঙ্গিন প্রত্যাবর্তন...


ঘাতক ইনজুরি ক্যারিয়ারের অনেকটা সময়ই যন্ত্রণা দিয়েছে আরিয়েন রোবেনকে। এ কারণে হল্যান্ড জাতীয় দল ও ক্লাব দল বেয়ার্ন মিউনিখের হয়ে প্রায়শই পথচলা রুদ্ধ হয়েছে ৩১ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের। সদ্যই ইনজুরি কাটিয়ে মাঠের লড়াইয়ে ফিরেছেন রোবেন। ২৪ অক্টোবর জার্মান বুন্দেসলীগায় তার ফেরাটা হয় রঙিন। এবারের মৌসুমে বেয়ার্ন মিউনিখের অপ্রতিরোধ্য ছন্দ থামে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে। কিছুদিন আগে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের কাছে প্রথম হারের স্বাদ পায় বাভারিয়ানরা। তবে জার্মান বুন্দেসলিগায় ঠিকই অপ্রতিরোধ্য ছন্দ ধরে রেখেছে দলটি। গত শনিবার রেকর্ড টানা দশম জয় পায় পেপ গার্ডিওলার দল। ঘরের মাঠ মিউনিখের এ্যালিয়েঞ্জ এ্যারানায় বেয়ার্ন মিউনিখ ৪-০ গোলে পরাজিত করে এফসি কোলনকে।

বুন্দেসলিগার ইতিহাসে প্রথম ক্লাব হিসেবে মৌসুমের শুরু থেকে টানা দশ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বেয়ার্ন। সেই সঙ্গে এই জয়টি জার্মান লীগে বেয়ার্নের ১০০০তম জয়। রেকর্ড গড়া ম্যাচে বেয়ার্নের হয়ে গোল করেন ইনজুরি থেকে ফেরা আরিয়েন রোবেন, আর্টুরো ভিদাল, রবার্ট লেভানডোস্কি ও টমাস মুলার। টানা জয়ে শীর্ষে থাকা বেয়ার্নের পয়েন্ট ১০ ম্যাচে পূর্ণ ৩০। সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। বুন্দেসলিগার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে হাজার ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে বেয়ার্ন। ১৭১৪ ম্যাচে বেয়ার্ন পেয়েছে এক হাজারতম জয়। এরমধ্যে ৩৮৫ ম্যাচ ড্র হয় ও ৩২৯ ম্যাচে হার মানে বাভারিয়ানরা। এক্ষেত্রে বেয়ার্নের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বেশ দূরে। অর্থাৎ দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ওয়েডার ব্রেমেন। তাদের জয় ৭৪১টি। এ্যালিয়েঞ্জ এ্যারানায় পরশু রাতটি যেন ছিল রেকর্ড আর ইতিহাস গড়ার। রেকর্ডময় ম্যাচটি নান্দনিক পারফর্মেন্স দিয়ে স্মরণীয় করে রেখেছে গার্ডিওলার দল।

কোলনের বিপক্ষে স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামে বেয়ার্ন। শুরু থেকে আধিপত্য ধরে রেখে খেলতে থাকে তারা। তবে প্রথম আধাঘণ্টায় গোল পায়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে পেয়ে যাওয়া বলে সহজেই গোল করেই প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখেন ডাচ্ উইঙ্গার রোবেন। মাঠের লড়াইয়ে ফিরতে পেরে বেজায় খুশি সাবেক চেলসি ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তিনি বলেন, আমি সবসময় খেলতে চাই। কিন্তু ইনজুরির কারণে অনেক সময় প্রত্যাশ পূরণ হয় না। তবে এবার ফিরতে পেরে আমি খুশি। আশা করছি বাকি মৌসুম খেলতে পারব। এর আগে চলমান বছরের জানুয়ারিতে অবসর নিয়ে চিন্তাভাবনার কথা জানান রোবেন। তারকা এই উইঙ্গার সাক্ষাতকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আগামী বছর কিংবা ১০ বছর পরও তিনি অবসর নিতে পারেন। তবে বেয়ার্ন মিউনিখের হয়েই ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইচ্ছা আছে তার। তিনি বলেছিলেন, আমি ঠিক কবে অবসর নেব নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। ধীরে ধীরে বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। তবে, এ মুহূর্তে বেশ ভালোই উপভোগ করছি। যতদিন ফিট থাকবো ততদিন ফুটবল খেলে যাব। দু’বছর পরও অবসর নিতে পারি আবার দশ বছর পরও অবসর নিতে পারি। ব্রাজিল বিশ্বকাপ মাতানো এই তারকা আরও বলেন, পেপ গার্ডিওলা বেয়ার্ন মিউনিখের খেলার কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। তবে নতুন কৌশলের সঙ্গে আমি মানিয়ে নিয়েছি। এ মৌসুমে আমি বিভিন্ন পজিশনে খেলেছি। গার্ডিওলার অধীনে বেয়ার্ন প্রতিনিয়তই উন্নতি করছে। তিনি খেলার ধরনে অনেক বৈচিত্র্য এনেছেন। ২০১৩ সালের ২৫ মে যেন কান্নার সাগরে ভেসে যান রোবেন! লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলের ট্রফি জয়ের পর আবেগে আত্মহারা হয়েছিলেন। জয়সূচক গোলের পর কাঁদেন, কাঁদেন ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর। এই কান্না আগের তিনবারের মতো বেদনার নয়, সুখের। ডাচ তারকার গোলেই সেবার বহু আরাধ্যের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ট্রফি নিশ্চিত হয় বেয়ার্ন মিউনিখের। এর আগে বাভারিয়ানদের এগিয়ে যাওয়া গোলটির রূপকারও ছিলেন হল্যান্ডের এই তারকা ফরোয়ার্ড। দুই বছর আগে শিরোপা জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাই ‘নায়ক রোবেন’কে নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেন ফিলিপ লাম, শোয়েনস্টেইগার, রিবেরি, মুলার, নিউয়েররা। সতীর্থদের আলিঙ্গন মুক্ত হয়ে দর্শক অভিবাদনের জবাব দিয়ে সে সময় চিৎকার দিয়ে বার বার রোবেন বলতে থাকেন, ‘আই এ্যাম রোবেন, আই এ্যাম রোবেন’। চারটি ভিন্ন ভিন্ন দেশের হয়ে লীগ জেতার কৃতিত্ব রয়েছে ন্যাড়া মাথার রোবেনের। এরপরও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের আগে বুকের কোণে ছিল দীর্ঘশ্বাস। কখনও কখনও মাঝরাতে হয়ত বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠতো। কারণ ২০১৩ সালের ফাইনালের আগের চার বছরে একটি বিশ্বকাপ ও দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে খেলেন। প্রতিবারই নিজেকে আবিষ্কার করেন হেরে যাওয়া দলে কান্নায় ভেঙে পড়া সতীর্থদের মাঝখানে। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে অসাধারণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন ডাচ ফুটবলের কিংবদন্তিগাথায় নিজের নামটি খোদাই করার। দক্ষিণ আফ্রিকায় পুরো আসরে অসাধারণ পারফরমেন্স প্রদর্শন করে নিজ দেশ হল্যান্ডকে নিয়ে এসেছিলেন ফাইনালের রঙ্গমঞ্চে। কিন্তু তাঁর সাবেক রিয়াল সতীর্থ ইকার ক্যাসিয়াস দুই দুইবার দুর্দান্তভাবে সেভ করে বাঁচিয়ে দেন প্রায় নিশ্চিত দুটি গোল।