মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ আগস্ট ২০১৭, ৭ ভাদ্র ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ভুল চিকিৎসায় শ্রমিকের মৃত্যু ॥ ধামাচাপা

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভৈরব, ২৭ অক্টোবর ॥ ভৈরব শহরের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভুুল চিকিৎসায় সোমবার রাতে পাদুকা শ্রমিক হেদায়েত উল্লাহ (১৪) মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনাটি স্থানীয় নেতা ও দালালদের হস্তক্ষেপে ৫০ হাজার টাকায় ধামাচাপা দেয়া হয়। নিহতের মা ও স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে হেদায়েত উল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। সামান্য পায়ের ব্যথায় আমার ছেলে মরতে পারে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান হেদায়েতের অপারেশন করেন ডাক্তার মাসুদুর রহমান সাগর, সহকারী ছিলেন ডাঃ হোসাইন ও নার্স মোমেনা বেগম।

নিহতের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার ভৈরব শহরের কমলপুর নিউ টাউন মোড়ে অবস্থিত মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের মোঃ শামসুল হকের ছেলে পাদুকা শ্রমিক হেদায়েত উল্লাহকে পায়ে ফোলাজনিত কারণে ভর্তি করেন। একই দিন রাতে হেদায়েত উল্লাহর পায়ে অস্ত্রোপাচার শেষে বেডে শোয়াতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বিষয়টি রোগীর আত্মীয়স্বজনকে বুঝতে না দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িগড়ি করে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মৃত ব্যক্তিকে মুমূর্ষু রোগী সাজিয়ে ঢাকা পাঠাতে চাইলে বিষয়টি নিহতের আত্মীয়স্বজন টের পায়। তখনই ধরা পড়ে হাসপাতাল মালিক ও ডাক্তারদের চালাকি।

নিহতের আত্মীয়স্বজনরা লাশ নিয়ে হাসপাতালের সামনে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকলে আনুমানিক একশ’ গজ অদূরে অবস্থিত ভৈরব থানা, খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

রোগীর আত্মীয়স্বজন কর্তব্যরত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ লাশ থানায় নিয়ে যেতে বলে। স্বজনরা তাৎক্ষণিক লাশ নিয়ে থানায় গেলে আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পর রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের থানা থেকে বের করে দিলে আবারও তারা লাশ নিয়ে হাসপাতালের সামনে অবস্থান করতে থাকে। এ সময় হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার বুলবুল আহাম্মদের অফিস কক্ষে দরজা বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থায় না গিয়ে আপোস রফার মাধ্যমে মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ বুলবুল আহাম্মদ, ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ আবু তাহের, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ফারুক মিয়া, কালিকাপ্রসাদ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল কবির, সাদেকপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক, গোধূলী সিটির ছিদ্দিক মিয়া, নজরুল ইসলাম সরকার, সাংবাদিক ডাক্তার লতিফ, নিহতের চাচা সানু মিয়া, সেলিম মিয়া, আতকাপাড়ার লতিফ মিয়াসহ স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

ভৈরব ডক্টরস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান কবির বলেন, ঘটনা শুনে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তবে দফার-রফা সময় ছিলাম না।

এ বিষয়ে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ বুলবুল আহম্মদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে এ বিষয়ে কথা না বলে প্রতিবেদকে চায়ের দাওয়াত দেয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা য়ায়, ভৈরবে ব্যাঙের ছাতার মতো অনুমতিবিহীন ও অব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে বিশটিরও অধিক ক্লিনিক ও হাসপাতাল। এ হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাশালী দালাল চক্র। যাদের কাজই হলো কোন হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলা, ভুল ও অপচিকিৎসায় কেউ মারা গেলে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ে দফায়- রফা।

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৫

২৮/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: