২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উত্তেজনা


দক্ষিণ চীন সাগরে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের কাছে টহল দেয়ার উদ্দেশ্যে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি চীন যেখানে বালু ফেলে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেছে ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে এখন ঘোরাফেরা করছে এই ডেস্ট্রয়ার। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথে দুই বৃহৎ শক্তির সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে গেল। খবর নিউইয়র্ক টাইমস, এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।

প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন অংশের ওপর চীন এখন নিজের মালিকানা দাবি করছে। এই প্রতিবেশী প্রায় সব ক’টি দেশের সঙ্গেই বেজিংয়ের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে বালি ফেলে দ্বীপ তৈরি করা চীনের সামরিক উচ্চাভিলাষের অংশ বলে প্রতিবেশী দেশগুলো আশঙ্কা করছে। দ্বীপ তৈরির পর থেকে কূটনৈতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ নিয়ে চীনের দ্বন্দ্ব বেড়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই পদক্ষেপ দেশ দুটির সম্পর্কে আরও তলানিতে নিয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের দু’জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউএসএস লাসেন ডেস্ট্রয়ারটি দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের মিসচেফ ও সুবি প্রবাল প্রাচীরের নিকটবর্তী স্থানে টহলের বিষয়টি হোয়াইট হাউস অনুমোদন করেছে। তারা জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে কোন রকম শলাপরামর্শ না করেই এ কাজ করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কিরবি এদিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় স্বাধীনভাবে চলাফেরার যে অধিকার প্রত্যেকটি দেশের রয়েছে সেই অধিকার যখন আপনি প্রয়োগ করবেন তখন সেটি নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তিনি তার দেশের সদ্য গৃহীত পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘যেহেতু আমাদের একটি নৌবাহিনী রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে’ সে কারণে রণতরী ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরের বিভিন্ন অংশের ওপর চীন সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছিল। স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের অংশবিশেষ বেজিংয়ের দাবির মধ্যে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশটির আঞ্চলিক মিত্র জাপান ও ফিলিপিন্স চীনের কর্মকা-ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। যে কারণে দেশগুলোও প্রায়শই বেজিংয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকে। টহলের কাজে যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার ব্যবহার সম্পর্কে চীন ত্বরিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, ‘এরকম দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাজ শুরুর আগে অন্তত দুবার ভাবুন’। ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস জানিয়েছে, চলাফেরার স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করা উচিত নয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এ ব্যাপারে সংযত আচরণ করা প্রয়োজন। ওয়াশিংটন অবশ্য এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। প্রতিরক্ষা দফতরের মুখপাত্র জস আর্নেস্ট কেবল এতটুকু বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে যে কোন জায়গায় বিমান উড্ডয়ন বা জাহাজ চলাচলের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে সেখানে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে পারে সে সম্পর্কে গত মাসেই মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছেলেন।

উল্লেখ্য, গত মাসে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বৈঠক করেছেন। হোয়াইট হাউস দক্ষিণ চীন সাগরে সর্বশেষ অভিযান সম্পর্কে হোয়াইট হাউস কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। চীন ইতোমধ্যেই মার্কিন জলসীমায় পাঁচটি রণতরী পাঠিয়েছে।

আগস্ট মাসে ওবামা যখন তার দেশের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যটি সফর করেন তখন সেখান থেকে মাত্র ১২ মাইল দূরে জাহাজগুলো অবস্থান করছিল। অনেক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকের মতে, চীনের এই পদক্ষেপটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র কিছু করার আগেই আগ বাড়িয়ে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা।