২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দক্ষদের শ্রমবাজার


দেশের জনসংখ্যাকে প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে বরাবরই। একটু ভিন্নচোখে বিষয়টা দেখলে বলা যায়, জনসংখ্যা সমস্যা নয়, সম্পদ। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে সবার আগে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত করা যে জরুরী সেকথাও জোরেশোরে বলে থাকি। সে বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা হলো দক্ষ জনশক্তি তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। দুঃখজনক হলেও বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে দেশে কারিগরি ডিপ্লোমাধারী লাখ লাখ শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের বিপুল অংশের কর্মসংস্থান সম্ভব হয়নি। ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আরেকটু দক্ষ ও শিক্ষিত করে তুলবে তারও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ দীর্ঘ পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন করেনি দেশের কোন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।

এই বিপুলসংখ্যক ডিপ্লোমাধারীর সামনে আশার আলো হয়ে দেখা দিতে পারে বিদেশে কর্মসংস্থান। সেজন্য নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিকÑ সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর বাইরে বড় বাজার হলো মালয়েশিয়া। এটা ঠিক যে, বর্তমানে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা সীমিত হয়ে এসেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জনশক্তি রফতানি বাড়াতে প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে ১৬টি দেশের তালিকা করা হয়। দেশগুলোর পরিস্থিতি দেখতে প্রবাসী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে পাঁচটি দলও গঠন করা হয়। অবশ্য এখন পর্যন্ত আমরা এই ১৬টি দেশে উল্লেখ করার মতো শ্রমবাজার তৈরিতে সমর্থ হইনি। পরবর্তীকালে নতুন করে মরিশাস, কম্বোডিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশ এবং কানাডার মতো কয়েকটি উন্নত দেশে শ্রমবাজার সন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রত্যাশা থাকবে সামনের বছরে লক্ষ্যমাত্রার অন্তত পঞ্চাশ ভাগ অর্জনের পথে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সাধন। সারাবিশ্বে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়ার বার বার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমশক্তি তৈরি করার কাজটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করা দরকার। এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। বিদেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে শ্রমবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে।

আমাদের যে মানের শ্রমশক্তি আছে, তাকেই সম্ভাব্য সব বাজারে রফতানির জন্য কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। শ্রমিক ও সাধারণ পর্যায়ের কর্মীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি এখন থেকেই ডিপ্লোমাধারী লাখো ব্যক্তিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দক্ষকর্মী প্রেরণের পরিকল্পনা নেয়া দরকার। এ লক্ষ্যে নতুনভাবে শ্রমবাজারের সন্ধান যে জরুরী, সেকথা বলাই বাহুল্য।