২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাজানকে মোকাবেলায় প্রস্তুত এমিলিরা


বাজানকে মোকাবেলায় প্রস্তুত এমিলিরা

রুমেল খান, চট্টগ্রাম থেকে ॥ দুটি সেমিফাইনাল আর একটি ফাইনাল, আর মাত্র তিন ম্যাচ বাকি। তারপরই যবনিকাপাত ঘটতে যাচ্ছে ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর। পাঁচ দেশের আট ক্লাবের অংশগ্রহণে এই জমজমাট ফুটবল আসরের শেষ চারের লাইন চূড়ান্ত হয়ে গেছে রবিবার রাতেই। মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড বনাম ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তানের ডি স্পিন ঘার বাজান ফুটবল ক্লাব। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

‘এ’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কার সলিড এসসিকে ৩-১ গোলে, ঢাকা মোহামেডানকে ১-০ গোলে হারায় বাজান। এছাড়া ৩-৩ গোলে কলকাতা মোহামেডানের সঙ্গে ড্র করে। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপসেরা হয়ে সেমিফাইনালে উন্নীত হয় আফগান লীগের শিরোপাধারীরা। মজার বিষয় হচ্ছে, যে বাজান ক্লাবের বাংলাদেশে আসা নিয়েই অনিশ্চয়তা ছিল, তারাই কি না হলো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন!

পক্ষান্তরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কিংফিশার ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ১-২ গোলে হেরে যায় স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী। তবে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে দ্বিতীয় ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিতে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখে চট্টগ্রামের দলটি। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের করাচী ইলেকট্রিক ফুটবল ক্লাবকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে তারা। সেমির দ্বৈরথে অবতীর্ণ হওয়ার আগে সোমবার আবাহনী-বাজান অনুশীলনে শেষবারের মতো ঘাম ঝরায়। তার আগে এক ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন এবং আজকের সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনই আমাকে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়েছে সবার শেষে। মনে হচ্ছে টুর্নামেন্টের শেষদিন পর্যন্ত টিকে থাকব বলেই এমনটা হচ্ছে!’ প্রতিপক্ষ দল সম্পর্কে মানিকের মূল্যায়ন, ‘বাজান শক্তিশালী দল। বিশেষ করে ওদের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে স্ট্রং। টুর্নামেন্টের শুরুতে আমরা খুব বেশি সময় অনুশীলন করতে পারিনি। ফলে কম্বিনেশন তেমন ভাল হয়নি। এখানেই তাদের চেয়ে পিছিয়ে আমরা। পরে খেলতে খেলতে অনেকটাই ঠিক হয়েছে। ছেলেরা সেমিফাইনাল নয়, ফাইনাল খেলার জন্য মুখিয়ে আছে! আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল খেলা। সেটা পূরণ হয়েছে। ছেলেরা যদি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে, তাহলে অবশ্যই কাল (আজ) জিতবে।’

চট্টগ্রাম আবাহনীর অধিনায়ক-ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘আমাদের সামনে ফাইনাল খেলার চ্যালেঞ্জ। তাতে জয়ী হতে চাই। প্রথম ম্যাচে হেরে যে চাপে ছিলাম, পরের দুই ম্যাচ জিতে তা কাটাতে পেরেছি। সেমিতেই জ্বলে উঠতে চাই।’

দর্শক-প্রত্যাশা ও চাপ প্রসঙ্গে মানিকের ভাষ্য, ‘চাপ অনুভব করছি না। বরং অনুভব করছি, যে আমরা ক্লাব নয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। এ লড়াইয়ে জেতার তাড়না অনুভব করছি।’ দলের উইঙ্গার জাহিদের প্রতি নির্ভর করাটা বেশি হয়ে যাচ্ছে না? মানিক বলেন, ‘ফুটবল দলীয় খেলা। জাহিদকে যদি বাজান ম্যাচে আটকে দেয়, তাহলে আমাদের অন্য কেউ ঠিকই ক্লিক করবে। সবারই সে যোগ্যতা আছে।’

গত দুই ম্যাচে জিতলে গোলরক্ষণে এবং রক্ষণভাগে কিছু দুর্বলতা ছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর। সেমির ম্যাচের আগে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মানিক। শুধু তাই নয়, ফাইনাল নিয়েও আগাম চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন তিনি, ‘ফাইনালে আমরা ঢাকা মোহামেডানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে চাই!’

বাজানের কোচ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিপক্ষ আবাহনীর দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী আমরা হোমওয়ার্ক করে যাচ্ছি। ওদের তিন ফুটবলারকে আমরা মার্ক করে খেলব, যারা আমাদের জন্য বিপজ্জনক। আমাদের দলে কোন ইনজুরি সমস্যা নেই। এই মাঠে তিন ম্যাচ খেলেছি। মনে হচ্ছে এই মাঠই আমাদের হোমগ্রাউন্ড!’ তবে টুর্নামেন্ট শুরুর সময়ে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে বলে জানা ওয়াহিদুল্লাহ। চট্টগ্রাম আবাহনী পরিপূর্ণ দর্শক সমর্থন পাবে, এটা ভালমতোই বোঝেন কোচ। তারপর তিনি এটাকে ‘চাপ’ হিসেবে দেখতে নারাজ।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: