মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস গবর্নরের

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫

রহিম শেখ/তপন কুমার খাঁ, জয়পুরহাট থেকে ॥ আঞ্চলিক পর্যায়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের মূলধনী যন্ত্রপাতি কেনার ঋণসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, তরুণ ও বেকারদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। গবর্নর বলেন, উদ্যোক্তাদের অর্থ সঙ্কটে কোন শিল্প বন্ধ হবে না, আটকাবে না শিল্প স্থাপনও। এভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে সারাদেশে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। যা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সোমবার দুপুরে জয়পুরহাট সার্কিট হাউস মাঠে ‘কৃষিঋণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান এসব কথা বলেন।

জয়পুরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এ্যাড. সামছুল আলম দুদু এমপি, পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম সোলায়মান আলী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক বিষ্ণুপদ সাহা। অনুষ্ঠানে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর আহমেদ, জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার উদ্যোক্তার উপস্থিতিতে এক বিশাল সমাবেশের আকার ধারণ করে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলেন, এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণ কৃষি ফসল উৎপাদন হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দাম পান না কৃষক। দুগ্ধ খামারিরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় নানামুখী সঙ্কটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। এ জেলায় গড়ে উঠা ২৫ শতাংশ খামার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরও ২৫ শতাংশ দুগ্ধ খামার রুগ্ন হয়ে বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এখানকার উন্নয়নে কৃষির পাশাপাশি শিল্পায়নে ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠানে গবর্নর বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। এ সময় তিনি বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন ঘাটতির সঙ্কটে তখন বাংলাদেশ উদ্বৃত্তের চাপে রয়েছে। এখন এ উদ্বৃত্তটাকে সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে প্রবৃদ্ধি অর্জনের সঙ্গে বৈষম্য বাড়ে বাংলাদেশে তেমনটা ঘটছে না বলেও জানান তিনি।

গবর্নর এ অঞ্চরে মানুষদের কম সুদের ঋণ গ্রহণের সুযোগ নিতে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, আমদানি বিকল্প ডাল, তৈলবীজসহ বিভিন্ন মসলা জাতীয় ফসল চাষের জন্য ৪ শতাংশ হারের ঋণ ব্যবস্থা চালু আছে। কৃষি ঋণ পেতে কোন কৃষক হয়রানির শিকার হলে ১৬২৩৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর পরামর্শও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কৃষি ঋণ, দুগ্ধ উৎপাদন, মাছ চাষ, পোল্ট্রিসহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ১৪টি ব্যাংক ও দুটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার পক্ষে এক কোটি ১৮ লাখ টাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রকাশ্যে বিতরণ করেন গবর্নর। এছাড়া ১৪ জন সফল উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করা হয়। এর আগে কৃষি ঋণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা মেলায় অংশ নেয়া ব্যাংক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর স্টল পরিদর্শন করেন গবর্নর।

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫

২৭/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: