১৭ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এবার ৩০ হাজার বেকার যুবক জাতীয় সেবা কর্মসূচীতে আসছে


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশের শিক্ষিত অসচ্ছল বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী সম্প্রসারণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় চতুর্থ দফায় দেশের ২০ উপজেলার ৩০ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে অস্থায়ীভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা ভিত্তিক নয়, দেশের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র উপজেলাকে এই কর্মসূচীতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প পরিচালক হিসেবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে ন্যাশনাল সার্ভিস নিয়ে আলোচনা কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলাওয়ারী নয়, যে সকল উপজেলায় বেশি গরিব লোকের বাস সে সকল উপজেলাকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, পাটকলগুলোতে প্রতিবছর ব্যাপক হারে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ সেক্টরে কোন লাভই হচ্ছে না। এটি বন্ধ করে দেয়া উচিত। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সেক্টরে অনেক লোক জড়িত। তাছাড়া এই সেক্টরগুলোয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জড়িত। বন্ধ না করে এই সেক্টরকে উন্নয়নের জন্য সকলকে যতœশীল হতে হবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী সম্প্রসারণ করা হয়েছে মন্ত্রিসভায়। এই কর্মসূচী শুরু হয় ২০১০ সালে। বেকার যুব নারী-পুরুষদের দৈনিক এক শ’ টাকা করে ভাতা ও তিন মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে সরকারী কাজে নিয়োজিত করা হতো। এরপর দৈনিক ২শ’ টাকা ভাতা ও দুই মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারী কাজে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অনুমোদনের ফলে ২০ উপজেলার প্রতিটিতে দেড় হাজার নতুন কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে উপজেলার নাম ও অর্থের পরিমাণ এখনও ঠিক হয়নি। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে সব উপজেলায় এ কর্মসূচী ইতোপূর্বে ছিল না, এমন দরিদ্রতম ২০ উপজেলাকে এর আওতায় নিয়ে আসার সুপারিশ করা হয়েছে।’

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রথম পর্যায়ে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জের ১৯ উপজেলায় ৫৬ হাজার ৮০১ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৫৪ জনকে অস্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়। এ সময় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুব নারী-পুরুষ যাদের এসএসসি পাস পর্যন্ত নেয়া হয়। পরে এর বয়স বাড়িয়ে পরে ২৪ থেকে ৩৫ বছর করা হয়। আর শিক্ষাগত যোগ্যতা করা হয় এইচএসসি। দ্বিতীয়

পর্যায়ে রংপুর বিভাগের দুই উপজেলাসহ ৮ উপজেলায় এ কর্মসূচী চলে। সেখানে ১৪ হাজার ৪৬৭ জনকে কর্মসূচীতে নেয়া হয়। এ জন্য ব্যয় হয় ৮৪৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে ব্যয় করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১১-১২ সালে রংপুর বিভাগের সাতটি জেলার আটটি উপজেলায় ১৪ হাজার ৪৬৭ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং খরচ হয় ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২৭ উপজেলায় এ কর্মসূচী চালু আছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল দারিদ্র্য বিবেচনা করে কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই বিবেচনায় তৃতীয় পর্যায়ে আরও ১৭ জেলার ১৭ উপজেলা কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়। জেলার উপজেলা প্রভার্টি ম্যাপ বিবেচনা করে এ কর্মসূচী নেয়া হয়। এবার থেকে উপজেলার প্রভার্টি ম্যাপ বিবেচনা করে বিভিন্ন উপজেলা ধরে কর্মসূচী নেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় এ কর্মসূচী সম্প্রসারণ (এক্সটেনশন) ও পরিধি (এক্সপানশন) বাড়ানো হয়েছে। এবার ২০ উপজেলায় কর্মসূচী চলবে। এক্সটেনশন হচ্ছে আরও এক বছর। আর এক্সপানশন ১৭ ছিল, এবার ২০ উপজেলা এর আওতায় আসবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: