মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৯ আগস্ট ২০১৭, ৪ ভাদ্র ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন সোহেল রানা ও শহীদুল হক খান

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫
ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন সোহেল রানা ও শহীদুল হক খান
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত শতকের পঞ্চাশের দশকের কথা। তখনও এদেশে যাত্রা শুরু করেনি চলচ্চিত্রশিল্প। ওই সময় মফস্বল শহর বগুড়া থেকে ‘সিনেমা’ নামে চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেন ফজলুল হক। এ পত্রিকাটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সিনেমাবিষয়ক মাসিক সাময়িকী। সেই সূত্রে এদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ফজলুল হক। চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেই থেমে যায়নি তার সৃজনশীলতার প্রকাশ। ষাটের দশকে ‘প্রেসিডেন্ট’ নামে দেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্রটিও নির্মাণ করেন তিনি। সোমবার ছিল এই গুণীজনের ২৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ পুরস্কার পেয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য মাসুদ পারভেজ, যিনি সোহেল রানা নামে সর্বাধিক পরিচিত এবং চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল হক খান। ২০০৪ সাল থেকে ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির পক্ষ থেকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এটি ছিল পুরস্কার প্রদানের ১২তম আসর।

ফজলুল হকের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ফজলুল হকের স্মৃতিচারণ এবং তার বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর আলোকপাত করেন পরিবারের সদস্যসহ তাঁর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত বিশিষ্টজনরা। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের পদক ও সম্মাননা তুলে দেন ফজলুল হক স্মৃতি পদকের প্রর্বতক কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। প্রতিটি পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ২৫ হাজার টাকা করে। এ সময় ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

পদকপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে মাসুদ পারভেজ বলেন, ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে এ পুরস্কারটি প্রদান না করে তার জন্মদিনে দেয়া হলে উদ্যোগটি আরও প্রশংসনীয় হতো। অভিনয়শিল্পী হিসেবে অনেক পুরস্কার পেলেও চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য এই প্রথম কোন পুরস্কার পেলাম। ৪২ বছর ধরে পরিচালক হিসেবে কাজ করলেও পরিচালনার জন্য কোন সম্মাননা পাইনি। এছাড়া সব পুরস্কারের মানদ-ও এক নয়। এ পুরস্কার আমার জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে। কারণ এদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন ফজলুল হক। তার নামাঙ্কিত এই স্বীকৃতি আমাকে চলচ্চিত্র নির্মাণে আরও অনুপ্রাণিত করবে। জীবনের এই শেষ বেলায় পনেরোই আগস্টের হত্যাকা- নিয়ে ‘সিক্রেট ব্লাড’ এবং ‘বিদায় রানা’ নামে দু’টি চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা আছে। বক্তৃতার একপর্যায়ে আক্ষেপ করে এই অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা বলেন, ওরা এগারোজন নামের একটি চলচ্চিত্রে আমরা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা অভিনয় করেছিলাম। কিন্তু তাদের মধ্যে থেকে কেউই আজ পর্যন্ত স্বাধীনতা পদক পায়নি। তিনি আরও বলেন, দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের দুরবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সরকারকে আরও বেশি সহযোগিতা করতে হবে। নির্মাতাদের জন্য কারিগরি সুবিধা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) মতো প্রতিষ্ঠানে ৪০ বছরে ৪২ জন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রদবদল হয়েছে। এভাবে দায়সারা গোছের কর্মকা- দিয়ে কোন দেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেয়া যায় না।

শহীদুল হক খান বলেন, ফজলুল হকের নামে প্রবর্তিত এ পুরস্কার পেয়ে আমি আনন্দিত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, একজন উদার মনের ও স্বপ্ন দেখানো মানুষ ছিলেন ফজলুল হক। দেশের চলচ্চিত্র উন্নয়নের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশের কথা বলতে হলে তার নাম সর্বাগ্রে উচ্চারণ করতে হবে। এই গুণী ব্যক্তিত্বকে যেন আগামী বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। ফজলুল হকের মতো গুণী ব্যক্তিকে আরও আগেই এ পুরস্কার দেয়া উচিত ছিল। সৈয়দ হক আরও বলেন, ছন্নছাড়া স্বভাবের মহাপ্রাণ এই মানুষটি আমাদের পথ দেখিয়েছেন। তার দেখানো পথে অনেকেই হাঁটছেন। আশা করি আগামী বছর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হবেন তিনি। এছাড়া ফজলুল হকের নামে একটি সিনেমা সিটি নির্মাণের জন্য তার ছেলে ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতি আহ্বান জানান বরেণ্য এই কথাসাহিত্যিক।

অনুষ্ঠানে ফজলুল হককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম, দুই চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী ও মোরশেদুল ইসলাম, অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক চিন্ময় মুৎসুদ্দী, সাংবাদিক আবদুর রহমান, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান এবং রন্ধনশিল্পী কেকা ফেরদৌসী। ‘ফজলুল হক স্মৃতি পদক’ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। শহিদুল হক খান প্রাপ্ত পুরস্কারটি উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিকে (বাচসাস)। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত হয় শহিদুল আলম সাচ্চু নির্মিত ফজলুল হককে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র দ্য ফ্রন্টিয়ারম্যান ফজলুল হক।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রয়াত ফজলুল হক ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। তিনি ছয় দশক আগে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার স্বপ্নের পথ ধরে আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা তথা চলচ্চিত্র জগত এগিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে তার স্বপ্নকে ছড়িয়ে দিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, এদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সূচনালগ্নে ফজলুল হকের অবদান অবিস্মরণীয়। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আগামী বছর যেন ফজলুল হককে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে সম্মান জানানো হয়।

এর আগে ফজলুল হক স্মৃতি পদক পেয়েছেন কবি ফজল শাহাবুদ্দিন, চিত্রপরিচালক আমজাদ হোসেন, সাইদুল আনাম টুটুল, চাষী নজরুল ইসলাম, আহমদ জামান চৌধুরী, হুমায়ূন আহমেদ, রফিকুজ্জামান, সুভাষ দত্ত, হীরেন দে, গোলাম রব্বানী বিপ্লব, আবদুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, মোরশেদুল ইসলাম, চিন্ময় মুৎসুদ্দী, ই আর খান, অনুপম হায়াৎ, গোলাম সারওয়ার ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ।

শেষ হলো বাতিঘর নাট্যমেলা ॥ সম্মাননা প্রদান, নাট্যপ্রদর্শনী, লোকজ মেলা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চার দিনব্যাপী বাতিঘর নাট্যমেলা। সোমবার সমাপনী সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় প্রাচ্যনাট প্রযোজিত নাটক ‘এ ম্যান ফর অল সিজন’। একই সময়ে এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চায়িত হয় প্রাঙ্গণেমোর প্রযোজিত নাটক ‘আওরঙ্গজেব’।

মোহিত চট্টোপাধ্যায় রচিত ও অনন্ত হীরা নিদের্শিত আওরঙ্গজেব নাটকের কাহিনী বিন্যাস্ত হয়েছে তৈমুরলং ও চেঙ্গিস খাঁর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নিয়ে। শাহজাহান পুত্র আওরঙ্গজেব একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হয়েও পিতাকে বন্দী করে মসনদ দখল করেন এবং মসনদের অন্য দাবিদার আপন ভাই দারা, মুরাদ ও সুজাকে একে একে হত্যা করেন। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনী। প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑ অনন্ত হীরা, নূনা আফরোজ, রামিজ রাজু, ইউসুফ পলাশ, শুভেচ্ছা, মাইনুল তাওহীদ, সরোয়ার আলম সৈকত, তৌহিদ বিপ্লব, রিগ্যান সোহাগ রতœ, দৃষ্টি, সাগর রায়, তৌহিদ আলম, কাওসার, মুমু প্রমুখ।

রবার্ট বোল্ট রচিত ও শাহেদ ইকবাল অনুদিত এ ম্যান ফর অল সিজনস নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম।

নাটক মঞ্চায়নের আগে বিকেলে জাতীয় নাট্যশালার লবির নিচে মুক্তমঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করে গানের দল ‘জলের গান’। সমাপনী আয়োজনে নাটক মঞ্চায়নের পর বাতিঘর সম্মাননা প্রদান করা হয় নাট্যদল প্রাচ্যনাট ও প্রাঙ্গণেমোরকে।

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫

২৭/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: