১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

পেঁয়াজের দাম কমে ৪৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অবশেষে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ টাকা দাম কমে দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। এছাড়া জাত ও মানভেদে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ। দাম আরও নেমে আসবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতে দাম কমে আসায় ব্যবসায়ীরা এবার মজুদকৃত ‘রাখি’ পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে এসেছে। আগামী নবেম্বরের শেষ নাগাদ স্বাভাবিক মূল্যে নেমে আসবে মসলা জাতীয় এ পণ্যটির দাম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজির কারণেই দেশীয় পেঁয়াজের দাম এবার ৮০-৯০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। কোরবানির পরেও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়েছে এই পণ্যটি। এ নিয়ে ভোক্তাদের অস্বস্তি বাড়ছিল। দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠকে বসলেও তেমন কোন সুফল আসেনি বরং ভারতের দোহাই দিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে দেশীয় পেঁয়াজ। এতে হাতেগোনা কয়েক ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকের পকেট ফুলে-ফেঁপে উঠলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। পেঁয়াজ কিনতে তাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী সারা বছরে দেশে ২২-২৩ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে দেশে মুজদ রয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন। এছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে দেশে আনা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে পেঁয়াজের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ভারতের মূল্য বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে প্রতিনিয়ত এই পণ্যটির দাম বাড়ানো হয়েছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পূর্বাভাস সেলের উর্ধতন কর্মকর্তা নন্দন কুমার বণিক জনকণ্ঠকে বলেন, ভারতে দাম কমে আসায় দেশে পেঁয়াজের দাম কমে আসছে। তিনি বলেন, মজুদকৃত রাখি পেঁয়াজ এখন বাজারে আসা শুরু হয়েছে। সামনে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। ফলে এখন পেঁয়াজ মজুদ করে রাখা হলে ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছেন। আর এ কারণে দাম কমে আসছে।

এদিকে, পেঁয়াজের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা দিন আনেন দিনে বিক্রি করেন। মজুদ করার কোন সুযোগ নেই। তাই পাইকারি পর্যায়ে দাম কমে যাওয়ার কারণে খুচরা পর্যায় দাম কমে এসেছে। এ প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজারের পেঁয়াজ ও রসুন বিক্রেতা মনির হোসনে জনকণ্ঠকে বলেন, পাইকারি পর্যায়ে প্রতিদিন দাম কমছে। গত এক সপ্তায় কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দাম। তিনি বলেন, বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে গেছে একই সঙ্গে আমদানিকৃত পেঁয়াজেরও ঘাটতি নেই। এছাড়া আগামী মাসের শেষ নাগাদ ভারতে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। আর এ কারণে দাম কমে আসছে।

বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ ॥ বাজারে কাঁচা মরিচের দামে আরেক দফা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতিকেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া শাক-সবজির দামও কিছুটা কমে আসছে। গত সপ্তায় যে লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এ সপ্তায় তা ৫০ টাকায় কিনতে পারছেন ভোক্তারা।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: