১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার, দর্শনার্থী প্রবেশে বাধা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের সব কটা বিমানবন্দরের হঠাৎ নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোন ধরনের নাশকতার আশঙ্কায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিমানবন্দরে এ বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ পরিস্থিতিকে ‘রেড এ্যালার্ট’ নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

জানা যায়, সোমবার সকালে প্রথমে শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরে সিলেটের এম এ জি ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বাদ যায়নি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোও।

এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জনকণ্ঠকে বলেছেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এটা অব্যাহত থাকবে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাড়তি নিরাপত্তাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা বা এতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার সকালে হঠাৎ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান ও পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। এরপর তারা অনির্ধারিত এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরে মোতায়েনকৃত সব কটা গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্যা সংস্থার কর্মকর্তারা। বৈঠকে সবাইকে নিজ নিজ ইউনিটে আরও সতর্ক হওয়ার তাগিদ দেয়া হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরে আগত যাত্রী ও দর্শকদের প্রবেশ মুখেই আটকে দেয়া হয়। এমনকি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালু হওয়া দর্শকদেরও টিকেট কেটে কনকর্স হলে প্রবেশের সুযোগ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিচতলার গেট ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তানহা ট্রেডার্সের কর্মকর্তা ওয়াহিদ খান বলেছেন, সকাল থেকেই টিকেট বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে আগত দর্শকরা হঠাৎ বিপাকে পড়েন। তারা ক্যানপীর বাইরে ভিড় জমান।

এ সময় ক্যানপীর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন জানান, তারা হাজী নিতে এসেও খুঁজে পাননি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

একই অবস্থা উপরেও। বহির্গমন যাত্রীদের সঙ্গে আসা স্বজনদের বাইরেই আটকে দেয়া হয়।

এ সম্পর্কে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এএসপি তানজিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে কেউ এমন বিস্ফোরক নিয়ে আসতে পারে যেটি মেটাল ডিটেক্টরে বা রে-তে ধরা পড়বে না। সে আশঙ্কায় বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ফোর্স বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ৩০০ টাকার টিকেট কেটে ভিজিটরদের বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকার ব্যবস্থাটি আপাতত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অবস্থা স্বাভাবিক হলে সেটি আবার চালু করা হবে।

জানতে চাইলে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসান বলেন, ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতরাত থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসা খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে রেড এ্যালার্ট জারির খবর ঠিক নয়। নিরাপত্তার স্বার্থেই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

তবে গোয়েন্দাদের কাছ থেকে ঠিক কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, বিমানবন্দরে হামলার কোন হুমকি এসেছে কি নাÑ সে বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারেনি সিভিল এভিয়েশানের কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

সিভিল এভিয়েশনের একজন পরিচালক জনকণ্ঠকে বলেন, শুধু শাহজালাল নয়, দেশের সব কটা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরেও একই সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বিমানবন্দরে কর্মরতদের মাঝে কিছুটা আতঙ্ক নেমে আসে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমেদ। সকাল থেকেই সেখানকার যাত্রী ও দর্শকদের তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। এতে দর্শনার্থীদের মাঝেও আতঙ্ক দেখা দেয়।

চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও দুপুর থেকে যাত্রী ও দর্শনার্থীরা হঠাৎ তল্লাশির মুখে পড়েন। তাদের ক্যানপীর বাইরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে বিমানবন্দরগুলোতে হঠাৎ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কয়েকটি গণমাধ্যম রেড এ্যালার্ট হিসেবে উল্লেখ করায় মুখ খুলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় তা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এটাকে রেড এ্যালার্ট বলা যাবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিমানবন্দরে রেড এ্যালার্ট জারি করা হয়নি।

কেন ঢেলে সাজানো হচ্ছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢিলেঢালা ভাব চলছিল। কোন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন ঢিলেঢালা ভাব চলে না। তাই বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

অবশ্য তিনি এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসরকারী বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এদিকে কয়েকটি গণমাধ্যম রেড এ্যালার্ট জারির যে খবর দেয়া হয়েছে তা ‘সঠিক নয়’ জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এতে ‘জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে’। প্রকৃতপক্ষে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিন্যস্থ করতে এবং সংস্কার ও মেরামত কাজ সম্পাদন করার জন্য সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: