২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ওডেস্কের সেরা বাংলাদেশী!


দেশের অন্যতম সেরা ফ্রিল্যান্সার সাঈদ ইসলাম। ইন্টারনেটে আউটসোর্সিং কাজ পাওয়ার জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস ওডেস্ক (www.odesk.com)প্রকাশিত বিভিন্ন কাজে দক্ষ ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষে আছে বাংলাদেশী মুক্ত পেশাজীবীরা (ফ্রিল্যান্সার)। কিছুদিন আগে ওডেস্ক প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক সেরা দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রকাশিত এ সেরা দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিষয়ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সারদের তালিকায় গ্লোবালাইজেশন বিভাগের তিনটিতে শীর্ষে আছেন বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার সাঈদ ইসলাম। এর মধ্যে নেটওয়ার্ক এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের লিনাক্স এবং এ্যাসটারিস্ক ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ভিওআইপিতে শীর্ষে আছেন তিনি। তিনটি বিভাগে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি এটুবিলিংয়ে ও ফ্রিপিবিএক্সে দ্বিতীয়, ট্রিক্সবক্স ও জিমবার্তে পঞ্চম স্থানে আছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ওডেস্কে তিন হাজার ৪০০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা সাঈদ ইসলাম ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওডেস্কে থেকে কাজ নেয়া শুরু“করেন, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসেই তিনি ওডেস্কের স্পট লাইট কনট্রাক্টর তালিকায় জায়গা করে নেন। ওডেস্কে তার এজেন্সি ‘বিগমাসটেক’ বাংলদেশ থেকে সব থেকে বেশি উপার্জন করা এজেন্সি।

বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল থেকে সিনিয়র সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরির সুযোগ পান সাইদ ইসলাম কিন্তু দেশের প্রতি ভালবাসা ও দেশে নতুনদের শিখানোর জন্য গুগলের প্রস্তাব করা চাকরি ফিরিয়ে দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ সুযোগ পাওয়ার পর দেশের পাশাপাশি ভারতে কাজ করার সুযোগ চেয়ে জানতে পারি, সেখানে গুগলের এ অফিস কার্যক্রম নেই। তাই আমার আর এ পদে যোগ দেয়া হয়নি।’

তরুণ এই প্রতিভাবান তরুণের কিছু প্রশ্নের উত্তর পাঠক সমীপে তুলে ধরা হলোÑ

ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং শুরু করতে কি কি প্রস্তুতি দরকার?

একটু মজা করে শুরু করি। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে তেমন কোন প্রস্তুতির দরকার হয় না, পথে-ঘাটে বিজ্ঞাপন দিলেই হয়। যেমন ধরা যাক ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার, ফ্রিল্যান্স পিএইচপি প্রোগ্রামার, ফ্রিল্যান্স কাঠমিস্ত্রি, ফ্রিল্যান্স ক্লিনার ইত্যাদি; তবে আউটসোর্সিংয়ের (ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এক জিনিস নয়) কাজ শুরু করতে হলে কয়েকটা ব্যাপার মনেপ্রাণে গেঁথে নিতে হবে যেগুলো হলোÑ

এটি শুনতে যতটা সহজ মনে হয় প্রকৃত পক্ষে তা নয়। আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে কোন প্রকার অর্থের প্রয়োজন হয় না শুধু মেধাই পুঁজি। পূর্ণ ধারণা এবং আউটসোর্সিংয়ের উপযোগী এমন অন্তত একটি কাজের দক্ষতা থাকতে হবে। আউটসোর্সিং আর আইটি একই জিনিস নয়, অর্থাৎ আইটি অভিজ্ঞতা না থাকলে যে এ কাজ করা যাবে না সেটা ভুল। আউটসোর্সিং ব্যাপারটি কি এর উপর পর্যাপ্ত রিসার্চ করতে হবে। শুরুতে এক্ষেত্র থেকে কত আয় করা যাবে তা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে মানসম্পন্ন দক্ষতার দিকে মনোযোগী হতে হবে। অর্থ উপার্জন যে একটি সহজ কাজ নয় সেটি মনে রাখতে হবে। ইংরেজীতে দখল থাকতে হবে।

হ কোন ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন আছে কিনা?

সঠিকভাবে রিসার্চ করলে কোন প্রকার ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন নেই, তবে গাইড লাইনের প্রয়োজন হতে পারে তাদের জন্য যাদের আউটসোর্সিংয়ের উপযোগী কাজে দক্ষতা আছে কিন্তু রিসার্চে সফল হয়নি।

হ ট্রেনিং ছাড়াও অনলাইনে শেখা যায় কিন্তু কোন কাজগুলো?

‘শেখা’ ব্যাপারটি সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি ব্যাপার। আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে সব কাজই শেখা সম্ভব তবে সে ক্ষেত্রে ওই বিষয়ের উপর সঠিক ধারণা থাকতে হবে, যেমনÑ সঠিক বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাকরণ জানা প্রয়োজন। ধারণায় ঘাটতি থাকলে অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিখতে অসফল হলে ট্রেনিংয়ের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।

হ কোন কোন কাজগুলোর বর্তমানে চাহিদা বেশি?

প্রথমত আমি বলব ডেটা এন্ট্রি, যা অনেকেই একে এসইও বলে থাকে, এর চাহিদা অনেক বেশি, এরপর মূল এসইও এর কাজ ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ইউনিক কিছু কাজ জানা থাকলে ভাল; যেমন এ্যানিমেশন, থ্রিডি গ্রাফিক্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, জনপ্রিয় ওপেনসোর্স প্রযুক্তি, ইত্যাদি।

হ ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং-এ ইংরেজীর গুরুত্ব?

মূলত ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইংরেজী জানা প্রয়োজন কারণ এটি কাজ পাবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, যে সকল কাজের সঙ্গে ইংরেজীর সম্পৃক্ততা আছে সেক্ষেত্রে ইংরেজী জানা খুবই প্রয়োজন। যেমন ধরা যাক, আর্টিকেল রাইটিং অথবা কমেনটিং। এছাড়া ক্লায়েন্টের সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ অথবা কথা বলতে হবে সে ব্যাপারে অবশ্যই সঠিক ধারণা থাকতে হবে। এক দেশের গালি অন্য দেশের বুলি, কথাটি মনে রাখতে হবে।

হ অনেকেরই প্রথম কাজ পেতে অনেক সময় লাগে, আপনি নিজে কিভাবে প্রথম কাজ পেয়েছিলেন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলুন-

শুরুতে কাজ পেতে সময় লাগে কথাটির সঙ্গে আমি একমত নই। সঠিকভাবে আবেদন পদ্ধতি অনুসরণ করলে কাজ পেতে দেরি হওয়ার কথা নয়। আমি প্রথমে আউটসোর্সিং ব্যাপারটি কিভাবে কাজ করে সেটির সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিই। মার্কেট প্লেসে সুন্দর একটি প্রোফাইল তৈরি করি সঙ্গে করে কিছু পরীক্ষা দিই যা আমার দক্ষতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারপর নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পোস্টের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে কাজ খুঁজতে থাকি। শুধুমাত্র পছন্দমতো কাজের পোস্ট পড়ি এবং ক্লায়েন্টের প্রয়োজনটি বোঝার চেষ্টা করি। তারপর প্রোফেশনাল কভার লেটার লেখার পদ্ধতি অনুসরণ করে আমার দক্ষতা ও যোগ্যতার বর্ণনা দিয়ে আবেদন করি। প্রথম কাজটি সিস্টেম মাইগ্রেশনভিত্তিক ছিল যেখানে আমি আবেদনের সময় কাজ সম্পৃক্ত একটি প্রস্তাবিত ড্রাফ্সিস্টেম নেটওয়ার্ক নক্সা করে ক্লায়েন্টকে পাঠিয়েছিলাম যেটা তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছিল।

হ নতুনদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে কোন সেমিনার বা কর্মশালার আয়োজন করা হয় কি?

কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে আমার কর্মস্থল বিগমাসটেকের অফিসে এ সাপ্তাহিক কিছু কর্মশালার আয়োজন করে থাকি। যেহেতু আমি ইনফরমেশন টেকনোলজির বিশেষ একটি ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত সেহেতু কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং এ শেষ বর্ষের অথবা সদ্য পাস করা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি, রেজুইমি, ইন্টারভিউ, আউটসোর্সিং, ওপেন সোর্স টেকনোলজি ও এর কর্মক্ষেত্র বিষয়ক সেমিনার এবং কর্মশালা করে থাকি। এছাড়া অন্যান্য যারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে আগ্রহী কিন্তু জানে না কিভাবে বা কোথা থেকে শুরু করতে হয় তাদের নিয়েও কর্মশালা করে থাকি।

হ আপনি কি একাই কাজগুলো করে থাকেন না কোন টিম রয়েছে আপনার?

আমি সাধারণত যে ধরনের কাজ করে থাকি সেগুলোর জন্য বাংলাদেশে দক্ষ মানুষের বেশ অভাব। ছয় সদস্য বিশিষ্ট ছোট একটি টিম আছে যারা আমার প্রতিষ্ঠান বিগমাসটেকে কর্মরত। টিমের সদস্যদের আমি নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি এবং তারা অসাধারণ কাজ করছে।

এদের মধ্যে সুশান্ত রায়, কামরুন নাহার ও শাফরিনা এর না বললেই নয়। কাজের ধরন বিশেষে বেশিরভাগ কাজই আমার নিজেকেই করতে হয় তারপরও আমার টিম আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করে থাকে।

হ সবশেষে যারা ফ্রিল্যান্সিং মোটামোটি শুরু“করেছে, তাদের জন্য কিছু টিপস দিন। কিভাবে তারা নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারে?

কাজ জানা না থাকলে আগে কাজ শিখতে হবে এবং দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, তারপর আউটসোর্সিংয়ের উপর পর্যাপ্ত রিসার্চ যা এই ক্ষেত্রটির উপর পূর্ণ ধারণা দেবে। শুরুতে কত অর্থ উপার্জন করা যাবে তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে প্রথম কাজটি কিভাবে পাওয়া যায় সেটির জন্য ধৈর্যসহকারে যথেষ্ট চেষ্টা করতে হবে। অনুকরণ না করে কাজ সম্পৃক্ত সফল কিছুকে অনুসরণের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করা সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।