মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ আগস্ট ২০১৭, ৭ ভাদ্র ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সত্যি আইএস না অন্য...

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫

ঢাকায় শিয়াদের ধর্মীয় উৎসব আশুরায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলার ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে ভেতরে-বাইরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি কুচক্রী মহল। এবার প্রকাশ্যেই যেন হত্যার মিশনে নেমেছে তারা। একের পর এক মুক্তমনা ব্লগারদের ওপর হামলা, বিদেশী নাগরিকদের হত্যা, বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের হত্যার চেষ্টা, মিরপুরে পুলিশের এক এএসআইকে হত্যার পর সর্বশেষ শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা একই সূত্রে গাঁথা বলে ধারণা অনেকের। এমন সন্ত্রাস, সহিংসতা যেটা আগে কখনও এদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেনি সেসবই যেন এখন অহরহ ঘটে চলেছে। ৪০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম পবিত্র আশুরাকে উপলক্ষ করে হামলার ঘটনা ঘটল। তবে বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার পরও ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে ঐতিহ্যবাহী হোসেনী দালানের ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। এই হামলার দায়িত্ব তড়িঘড়ি স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এর আগে বাংলাদেশে বিদেশী হত্যাসহ মুক্তমনা ব্লগারদের হত্যার দায়ও আইএস একইভাবে স্বীকার করেছিল।

নানা ধর্ম আর নানা মতের সহাবস্থান এদেশের ঐতিহ্য। ধর্মীয় উগ্রতা নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ কখনও মাথা ঘামায়নি। কিন্তু ইদানীং আইএস পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে একটি মহল নানা সন্ত্রাসী কর্মকা- সংঘটিত করছে। শুক্রবার রাতে হোসেনী দালানের সামনে শিয়াদের ওপর বোমা হামলা হয়েছে, তেমনটি হয়েছে পাকিস্তানেও। পাকিস্তানে মারা যায় ১৬ জন, বাংলাদেশে ১ জন। হোসেনী দালানে তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং দুটি অবিস্ফোরিত বোমা পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় অর্ধশতাধিক আহত হয়। অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দুর্বলতার সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ছত্রছায়ায় জঙ্গী সংগঠনগুলোর বিস্তার ঘটছেÑ যা কারও জন্যই সুখকর নয়।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে নানা সময় চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আখেরে লাভবান হয়নি। কারণ এ দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, কোন হিংস্রতা, উগ্রতা ও ধর্মান্ধতার প্রশ্রয় তারা দেয় না। রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির নামে ২০১৩ সাল থেকেই নানা লেবাসে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকা- চলছে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের এই সময়ে জামায়াত-শিবির হত্যাসহ নানাভাবে তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। তারা সাধারণ মানুষ হত্যা, পুলিশ হত্যাসহ নৃশংস সন্ত্রাস করেছিল। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পেট্রোলবোমায় মানুষ হত্যাসহ টানা ৯২ দিন ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে যে তা-ব চালিয়েছিল, সেই আলামতই এখন স্পষ্ট। এখন সন্ত্রাসী কর্মকা- হচ্ছে আইএস ও অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনের নামে। তাজিয়া মিছিলে হামলাসহ সাম্প্রতিক হত্যা ও সন্ত্রাসের ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। অপরাধগুলো সত্যিকারে আইএস করছে না কোন রাজনৈতিক পক্ষ স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় চূড়ান্ত প্রায়, রায় কার্যকরে বাধা সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব আলামত কিনা তা স্পষ্ট হওয়া জরুরী।

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫

২৭/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: