১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এক যুগ পর দেশে ফিরল গীতা


এভাবেও ফিরে আসা যায়। বহু বছর আগে মনের ভুলে সীমান্ত পেরিয়েছিল ৮ বছরের ছোট্ট মেয়েটা। তার পর থেকে প্রতিবেশী দেশে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছে সে। কোন এক গোলক ধাঁধায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল তার বাড়ি ফেরার ঠিকানাটা। সেদিনের কিশোরী আজ পূর্ণ তরুণী। আজ এক যুগ পর মাতৃভূমি, ভারতে ফিরে এলো সে। সেই কন্যা, গীতার ভারতে ফিরে আসার জন্য ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের সরকারই সব আগেই আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলে ছিল। বছর ১৫ আগে লাহোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সমঝোতা এক্সপ্রেসে একদম একা বসে থাকা ছোট্ট গীতাকে উদ্ধার করেন পাকিস্তানী রেঞ্জাররা। তার পর থেকে সে দেশেই বাস তার। জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না সে। নেই কানে শোনার ক্ষমতাও। করাচীর এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাকে দত্তক নেয়। গীতা নামটাও তাদেরই দেয়া। সূত্র : ওয়েবসাইট।

সোমবার সকাল আটটায় করাচী থেকে বিমানে উঠে সে। ১০টা ৩০ নাগাদ নয়াদিল্লীতে পৌঁছে যায় গীতা। সঙ্গে আছেন ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও। সেখানেই পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে তাকে। কিন্তু তার আগে হবে প্রয়োজনীয় ডিএনএ টেস্ট। ভারত সরকার আশ্বাস দিয়েছে ডিএনএ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এলে সুরক্ষিত হেফাজতেই রাখা হবে তাকে। পাকিস্তানে হারিয়ে যাওয়া মেয়েটাকে পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দিল একটা সিনেমা! সালমন খান অভিনীত ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ নামের ওই ছবিতে দেখানো হয়, ভারতে এসে কীভাবে মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যায় ছোট্ট একটি পাকিস্তানী মেয়ে। ঘটনাচক্রে, পর্দার সেই মেয়েটিও ঠিত গীতার মতোই কথা বলতে পারত না! দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষমেশ এক ভারতীয় যুবকের হাত ধরে বাড়ি ফেরে মেয়েটি। সিনেমাটির জনপ্রিয়তা সীমান্ত পেরোতেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে গীতার কাহিনী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য নিজের পরিচয়টুকু ঠিক করে দিতে পারেনি গীতা। যদিও হাবভাবে বার বার প্রকাশ করেছে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটিও বহুবার চেষ্টা করেছিল গীতার পরিবারের সন্ধান পেতে। কিন্তু সারা মেলেনি দু’দেশের সরকারের তরফেই। কিন্তু একটা সিনেমাই বদলে দিল সব সমীকরণটাই। পর্দায় বজরঙ্গি ভাইজানকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে গীতা। মিডিয়ার হেডলাইনে এই খবর ঠাঁই পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে দুই দেশের সরকারই। নয়া উদ্যোগে শুরু হয় পরিবারের সঙ্গে গীতাকে মিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা।