মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ আগস্ট ২০১৭, ৫ ভাদ্র ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাপানে এ্যাবেনোমিক্স কি ব্যর্থ হতে চলেছে

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫
  • অর্থনীতিতে কাটছে না দুই দশকের স্থবিরতা

গত কয়েক বছরে জাপানের অর্থনীতি অনেকবার সঙ্কুচিত হয়েছে। এর অর্থ দেশটির অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যদি এর সঙ্কোচনও অব্যাহত থাকে তাহলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়াল?

অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে, জাপানের অর্থনীতির গতি ফের মন্থর হতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম দুটো কোয়ার্টারে প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ার পর তৃতীয় কোয়র্টারে এসেও তা অব্যাহত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। চীনের অর্থনৈতিক মন্থরতার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, অর্থনৈতিক সঙ্কোচনের হার যদি সীমিত সময়ের জন্য হয় তবে পুরো অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্থায়ী হয় না। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে সমস্যা হতে পারে।

শিনজো আবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিন বছর হতে চলল। রুগ্ন অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তার প্রবর্তিত ফর্মুলা এ্যাবেনোমিক্স নামেও খ্যাতি অর্জন করেছিল। কিন্তু তার কৌশল কাজে আসছে না বলেই মনে হয়। কারণ তার শাসনামলে অর্থনীতি ক্রমাগত সঙ্কুচিত হয়ে চলেছে। ‘সার্বিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় শূন্যের কোটায় হওয়ায় সামান্য আঘাত সামাল দেয়াও অর্থনীতির জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রবৃদ্ধির আশা ক্রমেই দুরাশা হয়ে উঠছে’Ñ জেপি মর্গানের জাপানী অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাসমিচি আদাচি। সরকারী ঋণ কিনে নিতে ব্যাংক অব জাপান সম্প্রতি অর্থনীতিতে ব্যাপক হারে নগদ অর্থের প্রবাহ ঘটিয়েছে। আগামী শুক্রবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যে সভা হচ্ছে সেখানে আরও প্রণোদনামূলক পদক্ষেপের ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নগদ প্রবাহের ধারণাটি এ্যাবেনোমিক্সের মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু এতকিছু করেও অর্থনীতিতে গতি ফেরানো যাচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে আবের অর্থনৈতিক এজেন্ডা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছর অনেকটা অসময়ে জাপানে কর হার বাড়ানো হয়েছিল। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভোক্তা বাজারে। ক্রেতারা অনেকটা বাধ্য হয়েই খরচ কমিয়ে দেন। এর ফলে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে যায়। এরপর চীনে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। চীনের কল-কারখানাগুলো জাপানী মেশিনারির অন্যতম ক্রেতা। সবচেয়ে আশঙ্কার কথা কথা হলো, জাপানের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি না ঘটায় এ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা উদ্বিগ্ন। জিডিপির পরিমাণও বাড়েনি। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যেখানে ছিল সেখানেই আটকে রয়েছে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫

২৭/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: