১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আরও এক লাখ শরণার্থী নেবে॥ ইউরোপ


আরও এক লাখ শরণার্থীর জন্য আশ্রয় শিবির তৈরিসহ ১৭ দফা পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বলকান নেতারা। ইউরোপীয় ইউনিয়ভুক্ত (ইইউ) ১১টি দেশ এবং অ-ইইউয়ের তিনটি দেশ আলবেনিয়া, সার্বিয়া ও মেসিডোনিয়ার প্রধানরা শরণার্থীর ক্রমবর্ধমান স্রোত মোকাবেলা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে ব্রাসেলসে এক জরুরী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা শরণার্থীদের সীমান্তে নিবন্ধন এবং নৌ অভিযান বাড়ানোর মতো বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তারা। গত সপ্তাহে প্রতিদিন নয় হাজারের বেশি শরণার্থী গ্রীসে প্রবেশ করেছে। যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। খবর এএফপি, বিবিসি ও গার্ডিয়ানের।

বৈঠকের পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-ক্লদ জাঙ্কার সোমবার ব্রাসেলসে এক বিবৃতিতে বলেন, শরণার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত স্রোত কমানোর এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ হলো একসঙ্গে শরণার্থী প্রবাহ মোকাবেলা করা। মানুষের এই অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের দেশগুলো শরণার্থী নেয়া বন্ধ করলে বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও সার্বিয়া তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দেয়ার পর এই জরুরী বৈঠকে বসে ইইউ নেতারা। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভ শনিবার বলেছেন, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও সার্বিয়া লাখো নতুন শরণার্থীর নিরাপদ অঞ্চল বা ‘বাফার জোন’ হওয়ার জন্য তৈরি নয়। ইউরোপের সব দেশকে সম্মিলিতভাবে শরণার্থী সঙ্কটের সমাধান করতে হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৩০ ‘হাজার শরণার্থীর জন্য অভ্যর্থনা কেন্দ্র স্থাপন করবে গ্রীস। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর একই সময়ে আরও ২০ ‘হাজার শরণার্থীকে জায়গা দেবে। এছাড়া বলকান দেশগুলো অন্য ৫০ ‘হাজার শরণার্থীর জন্য অভ্যর্থনা কেন্দ্র স্থাপন করবে। শরণার্থীদের নিয়ে ইউরোপে এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় সঙ্কট চলছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে ইউরোপে প্রবেশ করেছে। তারা মূলত উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশগুলোতে আশ্রয় চায়। চুক্তিতে আরও বলা হয়, শরণার্থীদের মোকাবেলায় সেøাভেনিয়া সীমান্তে চারশ’ পুলিশ মোতায়েনসহ যারা সীমান্ত পারি দেয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের নিবন্ধন নিশ্চিত করবে ইইউ’র সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স। জাঙ্কার বলেন, শরণার্থীদের প্রয়োজনীয়তাকে মানবিক দিক থেকে চিন্তা করতে হবে। পশ্চিম বলকান রুটে শীতের আগেই যেন কোন মানবিক বিপর্যয় না ঘটে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল বলেন, এর আগে কখনও এতো বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়নি ইউরোপ। ইউরোপকে অবশ্যই দেখাতে হবে যে, এটি মূল্যবোধের মহাদেশ, সংহতির মহাদেশ। আমরা বিদ্যমান সঙ্কটে মৌলিক বিষয়ে একমত হয়েছি। তবে আমাদের আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। রবিবার এই বৈঠকের আগেই আলোচ্য পরিকল্পনার প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, বলকান ও ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিবেশীদের অনুমতি ছাড়া শরণার্থীদের প্রতিবেশী দেশগুলো পাঠানোর অনুমতি দেয়া বন্ধ করা উচিত। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জোরান মিলানোভিক এই বৈঠকের আগে বলেছিলেন, এই ধরনের প্রস্তাব মেনে নেয়া অসম্ভব। সেøাভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিরো সিরার হুশিয়ার করে বলেছেন, শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ইইউ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। ২০ লাখ লোকের দেশ সেøাভেনিয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৬০ ‘হাজারের বেশি শরণার্থী পৌঁছেছে।