২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

টঙ্গিবাড়ী থানায় সালিশ বৈঠকে ওসিকে মারধর যুবলীগ নেতার


স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ টঙ্গিবাড়ী থানার ভেতরে সালিশ বৈঠকে ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসানকে মারধর করেছে যুবলীগ নেতা নাহিদ খান। তখন গ্রেফতার করতে না পারলেও পরে তাকে গ্রেফতারে চলছে পুলিশের চিরুনি অভিযান। মুন্সীগঞ্জ পুলিশ লাইন্স থেকে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে টঙ্গিবাড়ীতে। বিভিন্ন পয়েন্টে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট। এসব তথ্য নিশ্চিত করে টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, শনিবার দুপুরের এই ঘটনায় থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা ১৫(১০)১৫ হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা এই যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, নাহিদ খানের বিরুদ্ধে পুলিশের গায়ে হাততোলা ছাড়াও নানা অভিযোগ রয়েছে। তাকে পুলিশ গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, হট্টগোলের মধ্যে অনেক লোকজনের মাঝ থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছে নাহিদ খান। পরবর্তীতে উর্ধতন পুলিশের নির্দেশে শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান। নাহিদ খানের গ্রাম থানার পাশের বাঁশবাড়িতে কয়েক দফা চিরুনি অভিযান হয়েছে। এরপর বাঁশবাড়ি গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি শনিবার রাতে উপজেলার কামাড়খাড়া, দীঘিরপাড়, বেশনাল এলাকাসহ টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। টঙ্গিবাড়ীতে অঘোষিত কার্ফু অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামরুল হাসান মুক্তার অভিযোগ করেন, নাহিদ খান তার ভাগ্নে হওয়ায় পুলিশ শনিবার রাত নয়টার দিকে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে, এছাড়া নাহিদ খানের বাড়িতেও ভাংচুর চালায়। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে টঙ্গিবাড়ী থানার ভেতরে যশলং ইউনিয়নের জমি সংক্রান্ত ঘটনার সালিশ বৈঠক বসে। এ বিচার চলাকালে টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান একটি পক্ষ নেয়। তার যুবলীগ নেতা নাহিদ খান এর প্রতিবাদ করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার ভাগ্নেকে মারধর করে। পরে ওসি আলমগীর হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে নাহিদ খানকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই চলে পুলিশের অভিযান। তবে ওসি আলমগীর হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাংচুরের কোন ঘটনা ঘটেনি। অপরাধীরা নিজেদের রক্ষার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্ত রায়কে পুলিশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পলাশ কান্ত রায় জানান, জমি সংক্রান্ত ঘটনার সালিশ বৈঠকের এক পর্যায়ে ওসি তদন্ত মেহেদী হাসানের সঙ্গে থানার ভেতরেই যুবলীগ নেতা নাহিদ খানের হাতাহাতি হয়। নাহিদ খান চলে যাওয়ার পর পুলিশ তার ওপর চড়াও হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টঙ্গিবাড়ীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: