মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ আগস্ট ২০১৭, ৫ ভাদ্র ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কেশবপুরে শিক্ষা অফিসারের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর ২০১৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ২৫ অক্টোবর ॥ সেই আলোচিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দসহ বিভিন্ন খাত থেকে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দুর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। রবিবার তারা শিক্ষা অফিসারের অপসারণের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, শিক্ষা অফিস ঘেরাও, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ নিয়ে গত ৮ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২৭ আগস্ট ওই রিপোর্টের তদন্তও হয়।

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনিছুর রহমান ১০ মার্চ এখানে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে শিক্ষা অফিসার লাগামহীন দুর্নীতি করে চলেছেন। তিনি ২০১৪ ও ২০১৫ সালের উদ্বৃত্ত প্রায় ৪০ মণ বই বিক্রি করেছেন, শিক্ষক বদলির জন্য শিক্ষক প্রতি ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহণ করেন, স্লীপ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রত্যেকের ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করে মাত্র ২ হাজার টাকার ডিজিটাল উপকরণ প্রদান করে সাত লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন, শিশু শ্রেণীর উপকরণ বাবদ ১৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ হাজার টাকা করে গ্রহণ করে মাত্র দেড় হাজার টাকার উপকরণ দিয়ে ৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন, সুশিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষক প্রতি বরাদ্দকৃত ১ হাজার ২শ’ টাকা আত্মসাত করে শিক্ষদের দুপুরে হোটেলের লাঞ্চ করানো হয়েছে, ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ বরাদ্দকৃত টাকা থেকে শতকরা ১০ ভাগ উৎকোচ গ্রহণ করেন, নতুন জিপিএফ ফান্ড খোলার সময় শিক্ষক প্রতি পাঁচশ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেন, জিপিএফ ফান্ডের লোন বরাদ্দের জন্য বরাদ্দকৃত শতকরা ৫ ভাগ উৎকোচ গ্রহণ করেন, উচ্চতর ডিগ্রী গ্রহণের অনুমতি প্রদানের জন্য ৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেন, বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন, বিনা কারণে ঢালাওভাবে শিক্ষকদের শোকজ করে শিক্ষক প্রতি ২ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে মীমাংসা করেন, শিক্ষকদের টাইম স্কেল প্রদানের সময় শিক্ষক প্রতি ৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেন, দফতরি কাম প্রহরী পদে সর্বশেষ নিয়োগ প্রাপ্ত ৫ জনের কাছ থেকে প্রথম ২৪ দিনের বেতন জোরপূর্বক গ্রহণ করেছেন, ঈদ-উল-আযহার সময় দফতরি কাম প্রহরীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ শত টাকা করে গ্রহণ করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনিছুর রহমানের অপসারণের দাবিতে রবিবার এই লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে দিয়েছেন। তিন শতাধিক শিক্ষক কেশবপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষা অফিস ঘেরাও করে। তারা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মিলনায়তনে রবিবার প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সেখানে তারা দুর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার অনিসুর রহমানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে কেশবপুর থেকে অপসারণ না করলে শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলনে যাবে। একই দাবিতে শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর ২০১৫

২৬/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ:
চাহিদার চেয়ে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেশি ॥ কোন সঙ্কট হবে না || বঙ্গবন্ধুর খুনীরা যে গর্তেই লুকিয়ে থাকুক ধরে এনে রায় কার্যকর করা হবে ॥ আনিসুল হক || উত্তরের বন্যার পানি নামছে, মধ্যাঞ্চলে নতুন এলাকা প্লাবিত || রায় যদি বিরাগ প্রসূত হয়ে থাকে তাহলে শপথ ভঙ্গ হবে || কমলাপুরে মানুষের ঢল, প্রত্যাশিত টিকেট না পেয়ে অনেকেই হতাশ || সেই মৃত্যু- রক্তস্রোতের ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় || বিএনপির ক্ষমতার রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উবে গেছে ॥ কাদের || মেগা প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ওপরই নির্ভর করছে চট্টগ্রামের উন্নয়ন || যমুনার বাঁধে আশ্রয় নিতেও এককালীন নজরানা, দিতে হয় মাসিক ভাড়া || আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া ৪শ’ জামায়াতীর ওপর নজরদারি ||