২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

হ্যাটট্রিক- ম্যাচসেরার পুরস্কার না পাওয়ায় জাহিদের ক্ষোভ!


হ্যাটট্রিক- ম্যাচসেরার পুরস্কার না পাওয়ায় জাহিদের ক্ষোভ!

রুমেল খান, চট্টগ্রাম থেকে ॥ ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর আয়োজক হচ্ছে চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড। এই টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দলও তারা। নিজেদের দল যদি কমপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে না পারে, তাহলে টুর্নামেন্টই তো পানসে হয়ে যাবে! এই আশঙ্কা ছিল যখন নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভারতের ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ১-২ গোলে হেরে যায় তারা। তবে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে দ্বিতীয় ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিতে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখে চট্টগ্রামের দলটি। আর শনিবার শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের করাচী ইলেকট্রিক ফুটবল ক্লাবকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিতই করে ফেলে স্বাগতিক দল। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্ট জমিয়েও দেয়। মজার বিষয়, যে ইস্ট বেঙ্গলের কাছে হেরে সেমিতে যাওয়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গিয়েছিল তাদের, সেই ইস্ট বেঙ্গলের সঙ্গেই সেমিতে যাওয়া নিশ্চিত হয়েছে তাদের! ইস্ট বেঙ্গলের পয়েন্ট ৭, আর চট্টগ্রামের ৬। ফলে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল ইস্ট বেঙ্গল, আর রানার্সআপ চট্টগ্রাম আবাহনী। শনিবার একই গ্রুপের শেষ ম্যাচে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে শেষ চারে নাম লেখায় ইস্ট বেঙ্গল। ব্যর্থ হয় ঢাকা আবাহনী। অনেক ফুটবলপ্রেমী আক্ষেপ করেছেন এই বলে, ‘শেখ কামাল আবাহনী বানিয়েছিলেন। তার নামে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট থেকে আবাহনীর বিদায় নেয়াটা ছিল হতাশাজনক!’ শনিবারের ম্যাচে পাকিস্তানের ঘরোয়া লীগের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম আবাহনীর জয়ের নায়ক ছিলেন জাহিদ হোসেন। নয়নাভিরাম হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে ১০, ৩৩ ও ৮২ মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান এই তারকা ফুটবলার। টুর্নামেন্টে এ নিয়ে চার গোল করলেন জাতীয় দলের এই উইঙ্গার, যা যুগ্মভাবে এই আসরের সর্বাধিক অংশীদার করাচী ইলেকট্রিকের মোহাম্মদ রসুল। তবে করাচী বিদায় তার সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ থাকছে জাহিদের।

শনিবারের ম্যাচে ছয় মিনিট পর জাহিদ হাসান এমিলির বুক দিয়ে নামানো বলে কিংসলে লক্ষ্যভেদ করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। পরের মিনিটেই হতাশা ঘোচান জাহিদ। সতীর্থ আরেক ‘জাহিদ’ এমিলির দ্রুত থ্রো থেকে বল নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে যাওয়া কিংসলের ক্রস খুঁজে পায় ফাঁকায় থাকা জাহিদকে। শেখ রাসেল থেকে ধারে খেলতে আসা এই ফরোয়ার্ডের শট প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের পা ছুঁয়ে জালে ঢোকে। ৩৩ মিনিটে জাহিদের ক্রসে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়ে ব্যবধান বাড়ান কিংসলে। ২৬ মিনিটে হায়াত উল্লাহর ক্রসে মোহাম্মদ রসুল হেডে গোল করে ব্যবধান কমান। ৩৩ মিনিটে জাহিদের আরেকটি চমৎকার শটে স্কোরলাইন ৩-১ করে নেয় শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা। ডানদিকের বক্সের বাইরে বল নিয়ে ছোটা হেমন্তকে ফাউল করেন করাচী ইলেক্ট্রিকের মোহাম্মদ মুসা। কিংসলের ফ্রি-কিক গোলরক্ষকের হাত হয়ে আসে বাম কোনার পোস্টের খুব কাছাকাছি থাকা জাহিদের কাছে। জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড নিখুত শটে বলে ঠিকানায় পৌঁছে দেন।

৪৩ মিনিটে বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে বলে হাত লাগান আবাহনীর ইউসুফ ইসা। বলের লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়েও রসুলের পেনাল্টি রুখতে পারেননি আবাহনীর গোলরক্ষক রাসেল। ৬৬ মিনিটে ইউসুফ ইসা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় আবাহনী। তারপরও ৮২ মিনিটে আবারও গোল করে তারা! বক্সের মধ্যে রেজা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। জাহিদের পেনাল্টি রুখে দিলেও তার ফিরতি শট আটকাতে ব্যর্থ হন করাচী গোলরক্ষক গুলাম নবী।

ম্যাচ শেষে যখন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দেয়া হয় কিংসলকে, তখন সবাই হতভম্ব হয়ে যান। কেননা হ্যাটট্রিক করা জাহিদই পুরস্কার পাওয়ার প্রধান দাবিদার ছিলেন। পরে জাহিদ বলেন, ‘মাঠে সবাই দেখেছেন আমি কেমন খেলেছি। কিন্তু পুরস্কার পেল আরেকজন। বিচারকরা কিসের ভিত্তিতে এটা নির্ধারণ করলেন, সেটা আপনারাই বলুন। শুধু বলব, এতে আমি তো বটেই আমার সতীর্থ, শুভানুধ্যায়ী এবং ক্লাবের সবাই বিস্মিত ও ব্যথিত। তবে আমি প্রতিজ্ঞা করছিÑ সেমির ম্যাচে সবাইকে আরও ভাল খেলে দেখিয়ে দেব আমাকে সেরা পুরস্কারের মর্যাাদা না দেয়াটা ছিল সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত!’