১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় এসে প্রাণ গেল গাইবান্ধার যুবকের


স্টাফ রিপোর্টার ॥ জীবিকার প্রয়োজনে স্ত্রীকে নিয়ে উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা থেকে ভোরের আলো ফোটার আগেই রবিবার ঢাকায় আসেন অনন্ত বিশ্বাস (২৮) নামের এক যুবক। বাস থেকে নেমেই পড়েন ছিনতাইকারীদের কবলে। স্ত্রীর গলার চেন রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। পরে তাকে গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এভাবেই প্রাণ হারালেন অনন্ত। নিহত অনন্ত বিশ্বাসের (২৮) বাড়ি গাইবান্ধার কলেরপাড়া এলাকায়। তিনি স্ত্রী কাকলী বিশ্বাসকে নিয়ে গাইবান্ধা থেকে বাসে করে এসে কুড়িলে নামার পরপরই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। গুরুতর জখম অনন্তকে তার স্ত্রীই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কাকলী তার স্বামী অনন্তকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাকলীর বরাত দিয়ে মোজাম্মেল বলেন, গাইবান্ধার বাস থেকে নেমে মিরপুরে বাসায় যাওয়ার জন্য কুড়িলে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন ওই দম্পতি। হঠাৎ একটি সাদা প্রাইভেটকার আসে এবং সেখান থেকে ৪/৫ যুবক নেমে কাকলীর গলার চেন, গয়নাসহ সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অনন্ত বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। ছিনতাইকারীরা অনন্তর মাথায় আঘাত করে, কিল ঘুষি মেরে পথে ফেলে দেয়। পরে তারা গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার সময় অনন্তকে চাপা দিয়ে যায় বলে কাকলী জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কে খিলক্ষেত থানার ওসি বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার ওই যুবককে চাপা দিয়ে চলে গেছে।’

অনন্তের স্ত্রী কাকলী বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, তারা মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় থাকেন। ভোরে গাইবান্ধার বাস থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে নামেন। ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারে থাকা ছিনতাইকারী তার গলা থেকে চেন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অনন্ত এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে প্রাইভেটকারে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

শিশু নিহত ॥ রাজধানীর পল্লবীর মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের সাগুফতা ক্যান্টিনের সামনে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সামী (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতাবস্থায় পথচারীরা সামীকে আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সামীর প্রতিবেশী রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম জানান, তার মা কুসুম তিন ছেলেসহ মিরপুর-১২ নম্বরের কালামের বস্তিতে থাকেন। স্বামী পরিত্যক্ত কুসুম গৃহকর্মীর কাজ করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বড় ভাই রাব্বীর সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিল সামী। ওই সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সে আহত হয়।

শিশুর আত্মহত্যা ॥ রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর এলাকায় সাব্বির (১১) নামে এক শিশু নিজ বাড়িতে মায়ের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কামরাঙ্গীর চর পূর্ব রসুলপুরের চার নম্বর গলিতে একটি টিনশেড বাড়িতে তার পরিবারের বসবাস। সে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। দুই ভাই, এক বোনের সংসারে সেই সবার বড়। লেখাপড়া করত কাছেরই একটি স্কুলে। বাবা জাহাঙ্গীর আলম ছোটখাটো একটি জুতোর কারখানা পরিচালনা করেন। আর মা রাজিয়া তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে।

সন্তানের এ অকাল মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মা রাজিয়া। খবর পেয়ে ঢামেকে ছুটে এসেছেন সাব্বিরের বাবা জাহাঙ্গীরও। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সাংবাদিকদের জানালেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছোট ছেলে তানভিরের (৭) সঙ্গে সাব্বিরের ঝগড়া হয়। ঝগড়া থামাতে তিনি সাব্বিরকে শাসন করেন এবং তার মা বাড়ি ফিরলে বিচার দেয়ার ভয় দেখিয়ে তিনিও কাজে চলে যান।

সাব্বিরের মা রাজিয়ার বিলাপÑ বাবা মরার পর আমি এতিম হই নাই, আজ হইয়া গেলাম। আমার পুত (ছেলে) আমারে ছাইড়া চইলা গেছে। ও আমার পুত, কথা বল। কাঁদতে কাঁদতে রাজিয়া বলেন, বড় পুতের (ছেলে) কাছেই ছোট দুইটারে রাইখা কামে যাইতাম আমরা। আইজও গেছিলাম। দুপুরে ফিরা দেখি বাড়ির দরজা বন্ধ। কোনো সাড়াশব্দ নাই। পেছনের জানালা দিয়া দেখি, পুত আমার ঝুইল্লা আছে। তিনি বলেন, সকালে কামে যাওনের সময় পুত ভাত খাইতাছিল। কইছিলাম, খাইয়া যেন পড়তে বয়। আমার পুত আমারে এতিম বানাইয়া চইলা গেল।

যুবকের পচা লাশ ॥ রাজধানীর রামপুরা থেকে বিপ্লব ঘোষ (৩৫) নামে এক যুবকের পচন ধরা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রামপুরার কুঞ্জবন এলাকার ৩৮০/১৫ নম্বর বাসার চারতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শনিবার রাত ১টায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রবিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

মৃত বিপ্লব ঘোষের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির দক্ষিণনগর এলাকায়। তিনি রঞ্জিত ঘোষের ছেলে। তার বাসার সবাই পূজার ছুটিতে বাড়ি যান। বিপ্লব ঘোষ একা বাসায় ছিলেন। শনিবার রাতে ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙ্গে বিপ্লব ঘোষের পচন ধরা লাশ উদ্ধার করে। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এসআই।

ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু ॥ কাওরানবাজারে ট্রেনে কাটা পড়ে আবুল কালাম (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রেললাইনের পাশে রবিবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কালাম নোয়াখালী জেলার মাইজদী উপজেলার আলী আহম্মেদের ছেলে।

জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে কাওরানবাজার রেললাইনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই যুবক। তখন ট্রেনে কাটা পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আবুল কালামের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়।

ইয়াবাসহ ৫ বিক্রেতা আটক ॥ কাওরানবাজারে আবারও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এ সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির টাকা জব্দ করা হয়।

মাদক অধিদফতরের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা। এ সময় ৫ মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়। তারা হলেনÑ রুবেল, ইদ্রিস আলী, রবি, কলি ও নিপা। তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বস্তাবন্দী কিশোরের লাশ ॥ রাজধানীর তুরাগের ধৌর এলাকা থেকে আনুমানিক ১৪ বছরের এক কিশোরের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানের উত্তরণ প্রপার্টিজ লিমিটেডের একটি ফাঁকা জায়গা থেকে শনিবার দুপুরে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে দুপুরে এক কিশোরের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার রাত পর্যন্ত তার কোন পরিচয় জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বস্তায় ভরে সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: