১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সৌদি রাজপরিবারে বিদ্রোহের আলামত


সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজকে সরাতে রাজপরিবারের মধ্যে একটি বিদ্রোহের খবর এসেছে গণমাধ্যমে। সৌদি আরবের ১২ প্রিন্সের আটজনই বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজকে সরানোর পক্ষপাতি বলে তাদের একজন দাবি করেছেন। ব্রিটিশ দৈনিক ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’কে তিনি বলেছেন, তারা ৭৯ বছর বয়সী সালমানকে হটিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজকে সিংহাসনে বসাতে চান।

‘উলামা এবং ধর্মীয় নেতারা আহমদকেই পছন্দ করেন। সবাই নয়, তবে ৭৫ শতাংশ তো হবেই’Ñ বলেন ওই প্রিন্স। সৌদি আরবে ধর্মীয় নেতাদের মতামত সবসময়ই গুরুত্ব পায়। ধর্মীয় এবং রাজতন্ত্রের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনারও এখতিয়ার থাকে তাদের। নিরাপত্তার কারণে নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রিন্সের বক্তব্য সৌদি রাজতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে চলমান গুঞ্জনকে বাস্তবভিত্তি দিল মনে করছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট। প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে সৌদি দূতাবাসে কথা বলার চেষ্টা করলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে যুক্তরাজ্যের দৈনিকটি জানিয়েছে।

আব্দুল আজিজ আল সউদ ১৯৩২ সালে সৌদি আরবের বর্তমান রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার পর তার বড় ছেলে সউদ বিন আব্দুল আজিজকে পরিবারের বিদ্রোহে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়েছিল ভাই ফয়সলের কাছে। ১৯৬৪ সালের মতো ঘটনা এবারও ঘটতে পারেÑ ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন আল সউদের নাতি এই যুবরাজ। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় বাদশাহ সালমানের কাছে দুটি পথ খোলা আছে। ‘একÑ হতে পারে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন, তাকে সম্মান এবং শ্রদ্ধার চোখে দেখা হবে। নতুবা প্রিন্স আহমদকে পূর্ণ ক্ষমতাসহ ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করা যেতে পারে। তখন তিনি তেল, অর্থনীতি, সমরাস্ত্র, অভ্যন্তরীণ, গোয়েন্দা বিভাগ অর্থাৎ এ টু জেড সবকিছুই দেখবেন।’ ভাই আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের মৃত্যুর পর এ বছরের শুরুতে সালমান বাদশাহর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাজপরিবারে বিদ্রোহের গুঞ্জন চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি রাজপরিবারে নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে দুটো চিঠি বেশ আলোড়ন তুলেছে। ইন্ডিপেন্ডেন্টের সঙ্গে কথা বলা সৌদি প্রিন্স ওই চিঠি দুটি লিখেছেন। বর্তমান বাদশার ভাতুষ্পুত্র এই প্রিন্স বলেন, শাসক হিসেবে সালমানের কিছু সিদ্ধান্তে তার ‘কাছের লোকেরাও’ অসন্তুষ্ট। নিজের ছেলে ৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স’ বানানো, ইয়েমেনে যুদ্ধে জড়ানো এবং সাম্প্রতিক হজ ব্যবস্থাপনা সালমানকে আরও অজনপ্রিয় করে তুলছে বলে তার মন্তব্য। -ওয়েবসাইট