২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

অবশেষে দুঃখিত টনি ব্লেয়ার


যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাক যুদ্ধের সময় সংঘটিত ভুলগুলোর জন্য শেষ পর্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করেছেন। রক্তক্ষয়ী ইরাক সংঘাত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটিয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। ব্লেয়ার ১২ বছর পর ইরাক যুদ্ধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও গার্ডিয়ান অনলাইনের।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবেলায় সঠিকভাবে পরিকল্পনা নিতে ব্যর্থতার জন্য ‘দুঃখিত’ বলেন। তিনি এক মার্কিন টিভির সঙ্গে সাক্ষাতকারে ইরাকে প্রথমে আক্রমণ চালানো যুক্তিসঙ্গত প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, আমরা যে তথ্য পেয়েছিলাম তা ভুল ছিল বলে আমি দুঃখিত। তিনি বলেন, আমরা শাসকগোষ্ঠীকে অপসারিত করলে যা ঘটবে তা মোকাবেলার পরিকল্পনা করতে এবং অবশ্যই তা বুঝতে আমাদের ভুলগুলোর জন্যও আমি দুঃখিত। ইরাক যুদ্ধ ইসলামিক স্টেটের উত্থানের ‘প্রধান কারণ’ কিনা ফরিদ জাকারিয়ার এ প্রশ্নের জবাবে ব্লেয়ার স্বীকার করেন : আমি মনে করি এতে কিছু সত্যতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অবশ্যই আপনারা বলতে পারেন না যে, আমাদের মধ্যে যারা ২০০৩ সালে সাদ্দামকে অপসারণ করেছিলেন, তারা ২০১৫ সালের পরিস্থিতির জন্য কোন দায়দায়িত্ব বহন করেন না। পরে ব্লেয়ারের এক মুখপাত্র বলেন, ব্লেয়ার তথ্যে ও পরিকল্পনায় ভুল হওয়ায় সব সময়েই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সব সময়েই এ কথাও বলেছেন এবং আবার এখানে বলছেন যে, তিনি কিন্তু সাদ্দামকে অপসারণ করা ভুল ছিল বলে মনে করেন না।

মুখপাত্র বলেন, ব্লেয়ার বলেননি সাদ্দামকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত আইএসের উত্থান ঘটিয়েছিল। আর ব্লেয়ার উল্লেখ করেন যে, ২০০৮-এর শেষ দিকে আইএসের নাম শোনা যাচ্ছিলমাত্র এবং আল কায়েদার মূলত পরাজয় ঘটেছিল। মুখপাত্র বলেন, ব্লেয়ার বলে যান যে, ২০০৯ সালে ইরাক অপেক্ষাকৃত বেশি স্থিতিশীল ছিল। তখন দুটি ঘটনা একসঙ্গে ঘটে : ইরাক সরকার এক সাম্প্রদায়িক নীতি গ্রহণ করে, যা ছিল ভুল। কিন্তু তখন আরব বসন্তও শুরু হলে আইএস ইরাক থেকে সিরিয়ায় গিয়ে নিজেদের শক্তিশালী করে আবার ইরাকে ফিরে আসে।

মুখপাত্র বলেন, ব্লেয়ার এসব কথা আগেও বলেছেন। সামরিক অভিযানে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তের সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড ব্লাঙ্কেট বলেন, সাদ্দাম পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার পরিকল্পনা নিয়ে ব্লেয়ারের কাছে আশ্বাস চেয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।

ব্লাঙ্কেট রবিবার মেইলকে বলেন, যুদ্ধাভিযান শেষ হলে কী ঘটতে যাচ্ছে টনি তা বলতে পারেননি। টনি কেবল মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, আমরা এখন জানি যে, তারা সমগ্র আসন কাঠামোকে ভেঙ্গে দিয়ে সাদ্দামের ইরাক থেকে বাথ পার্টিকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর ফলে যে কোন ধরনের কার্যকর সরকার খ-বিখ- হয়ে পড়ে এবং ক্ষমতার পুরো মাত্রায় শূন্যতা দেখা দেয়। সন্ত্রাসীরা ইরাকে অনুপ্রবেশ করে অসন্তোষে উস্কানি দিতে থাকে। তিনি বলেন, আমি টনি ব্লেয়ারকে বলির পাঁঠা করতে চাই না। ওয়াশিংটনের ওপর আমাদের অনেক বেশি প্রভাব রয়েছে বলে মনে করে আমরা আত্মপ্রচারণার জন্য সবাই একসঙ্গে দোষী।