১৯ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

টঙ্গীবাড়ী থানায় যুব লীগ নেতা মারধর করেছে ওসিকে


স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ॥ টঙ্গীবাড়ী থানার ভেতরে সালিস বৈঠকে ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসানকে মারধর করেছে যুব লীগ নেতা নাহিদ খান। তখন গ্রেফতার করতে না পারলেও এখন তাকে গ্রেফতারে চলছে পুলিশের চিরুনী অভিযান। মুন্সীগঞ্জ পুলিশ লাইন্স থেকে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে টঙ্গীবাড়ীতে। বিভিন্ন পয়েন্টে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট। এসব তথ্য নিশ্চিত করে টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, শনিবার দুপুরের এই ঘটনায় থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৫(১০)১৫। মামলাটির বাদী হয়েছেন ইন্সপেক্টর মেহেদী হাসান নিজে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রবিবার রাত সাড়ে ৭টা এই যুব লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, নাহিদ খানের বিরুদ্ধে পুলিশের গায়ে হাত তোলা ছাড়াও নানা অভিযোগ রয়েছে। তাই পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে তাকে গ্রেফতারে। তবে থানার ভেতরে এমনটি ঘটিয়ে কিভাবে বেরিয়ে গেলো এই প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, হট্টগোলের মধ্যে অনেক লোকজনের মাঝ থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে উর্ধতন পুলিশের নির্দেশে শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান। নাহিদ খানের গ্রাম থানার পাশের বাঁশবাড়িতে কয়েক দফা চিরুনী অভিযান হয়েছে। এরপর বাশবাঁড়ী গ্রাম প্রায় পুরুষ শূণ্য হয়ে পরেছে। এর পাশাপাশি শনিবার রাতে উপজেলার কামাড়খাড়া, দিঘিরপাড়, বেশনাল এলাকাসহ টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। টঙ্গীবাড়ীতে অঘোষিত কারফিউ অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কামরুল হাসান মুক্তার অভিযোগ করেন, নাহিদ খান তার ভাগ্নে হওয়ার কারণে পুলিশ শনিবার রাত ৯টার দিকে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এছাড়া নাহিদ খানের বাড়িতেও ভাংচুর চালায়। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে টঙ্গীবাড়ী থানার ভেতরে যশলং ইউনিয়নের জমি সংক্রান্ত ঘটনার সালিশ বৈঠক বসে। এ বিচার চলাকালে টঙ্গীবাড়ী থানা ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান একটি পক্ষ নেয়। তার ভাগ্নে যুবলীগ নেতা নাহিদ খান এর প্রতিবাদ করলে কথা কাটাকাটি। এক পর্যায়ে তার ভাগ্নেকে মারধর করে। পরে ওসি আলমগীর হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে নাহিদ খানকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তুর এর কিছুক্ষণ পরেই চলে পুলিশের হুলস্থুল অভিযান। তবে ওসি আলমগীর হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাংচুরের কোন ঘটনা ঘটেনি। অপরাধীরা নিজেদের রক্ষার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্ত রায়কে পুলিশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পলাশ কান্ত রায় জানান, জমি সংক্রান্ত ঘটনার সালিশ বৈঠকের এক পর্যায়ের ওসি তদন্ত মেহেদী হাসানের সাথে থানার ভেতরেই যুবলীগ নেতা নাহিদ খানের হাতাহাতি হয়। নাহিদ খান চলে যাওয়ার পর পুলিশ তার উপর চড়াও হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে টঙ্গীবাড়িতে বিশেষ এক থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে নাহিদ খান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সদস্য মাত্র। কিন্তু তান্ডপ চারিদিকে। অপরাধ এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে ওসির গায়েও হাত তুলতে দ্বিধা করেনি। অন্যদিকে সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পুলিশ যথা সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি বলেই সাধারণ মানুষের পর এখন পুলিশের উপরও চড়াও হচ্ছে। এজন্য পুলিশই দায়ী।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: