২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

লাভ বেশি ॥ তাই চাষীরা ঝুঁকছে সবজি চাষে


সব ধরনের সবজির ভা-ার রাজশাহী। বিশেষ করে জেলার পবা মোহনপুর আর গোদাগাড়ীর সবজির খ্যাতি দেশজুড়ে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ তিন উপজেলার সবজি এখন বড় বড় মোকাম ধরছে। এতে ক্রমেই লাভবান হয়ে উঠছে কৃষক।

এক সময় লালমাটি অধ্যুষিত বরেন্দ্র অঞ্চলে ধানই ছিল প্রধান অর্থকরি ফসল। এখন সে ধারা পাল্টে চাষাবাদ হচ্ছে সব ধরনের সবজির। লাভ বেশি হওয়ায় ধান চাষের পরিবর্তে অনেকে করছে সবজি। ক্রমেই আওতা বাড়ছে সবজির। সবজিকে ঘিরে রাজশাহীতে বড় বড় মোকাম গড়ে উঠেছে হালে। আলু চাষাবাদে কয়েক বছর ধরে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় পাশাপাশি সবজি চাষে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে তিন উপজেলায়। এর মধ্যে পবা ও মোহনপুরে সারাবছর চাষ হচ্ছে লাউ, কুমড়া, পুঁই, পালং, মুলা, ফুলকপি. বাঁধাকপি, বেগুন, পটোল, করলা আর গোদাগাড়ীতে বিপ্লব ঘটেছে টমেটো-শিমে। দেশের মোট উৎপাদনের সিংহভাগ টমেটো এখন উৎপাদন হচ্ছে গোদাগাড়ীতে। এসব উপজেলার বাড়ির আঙ্গিনা থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ সবখানেই সবজি আর সবজি।

রাজশাহী শহর থেকে নওগাঁর পথ ধরে এগুলে দুই পাশে চোখে পড়বে ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ। সারি সারি লাউ কুমড়ার মাচান। মহাসড়কের পাশেও দেখা মিলবে মণকে মণ সবজির স্তূপ। আর হাটবাজারে যেন শুধুই সবজির ভা-ার। গত কয়েক বছর থেকে শীত আর গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করে আসছে দুই উপজেলার কৃষক। শীতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, পালং, মুলা, বরবটি, গাজর আর গ্রীষ্মে লাউ, কুমড়া, বেগুন, পুঁই, পটোল, করলা।

স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এ দুই উপজেলার সবজির কদর এখন রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতিদিন ট্রাকের পর ট্রাক সবজির চালান যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কম খরচে লাভের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় প্রতিবছর দুই উপজেলায় বাড়ছে সবজি চাষের আওতা। বিপুল পরিমাণ সবজি চাষের কারণে ইতিমধ্যে পবা ও মোহনপুরের বিভিন্ন হাটে গড়ে উঠেছে বড় বড় আড়ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকার ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থাকে বছর জুড়ে।

এক সময় এ দুই উপজেলার মধ্যে মোহনপুরে শুধুমাত্র পানের বরজ আর পবায় বছরে একবার ধান-পাট আর আলু ছাড়া তেমন ফসল হয়নি। তবে এখন পাল্টে গেছে চিত্র। পানের বরজও আছে। ধান পাটের পাশাপাশি বছরের সবসময় চাষাবাদ হচ্ছে সবজি। এ দুই উপজেলার গ্রামে গ্রামে রীতিমতো ‘সবুজ বিপ্লব’ সবজিতে। বাড়ির মেয়েরাও পিছিয়ে নেই। সবাই মিলে সবজি উৎপাদন করে তা বাজারে বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

উৎপাদিত ফসলের বাজারজাতের জন্য কৃষি বিপণন অধিদফতর নির্মাণ করেছে গ্রোয়ার্স মার্কেট। সেখান থেকে পাইকাররা কৃষকের সবজি কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন জেলার হাটবাজারে। কৃষি বিভাগের সূত্রমতে রাজশাহীর দুই জেলার সবজি বিশেষ করে লাউ কুমড়া দেশের মোট চাহিদার সিংহভাগ জোগান দেয়।

মাঠ থেকে কৃষকের আঙ্গিনা সবখানেই সবজির সমারোহ। এখন মাঠে মাঠে উঁকি দিচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি আর মুলা। এসব সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণি। কেউ মুলা তুলে নিয়ে আসছে স্থানীয় হাটবাজারে। কেউ ক্ষেত থেকে ফসল তুলে স্তূপ করে রাখছে মহাসড়কের দুই ধারে। কেউ দিচ্ছে স্থানীয় আড়তে।

মাঠে মাঠে সবুজ ফসলের অপার হাতছানি। বেশি দাম পাওয়ার আশায় আগাম মুলা তুলছে নারী-পুরুষ। সেই মুলা স্থানীয় পুকুরে নিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। এ রকম দৃশ্য মোহনপুর ও পবায়। পবার বড়গাছী, খাপাড়া, নওহাটা, কালুপাড়া, দাদপুর, শ্রীপুর, সবসার, খুঁটিপাড়া, টিকরিপাড়া, মদনহাটি, বাগধানি, বাগসারাসহ গ্রামজুড়ে চলছে সবজি নিয়ে কর্মযজ্ঞ। কেবল বড়গাছী গ্রামেই এ বছর ৫০ হেক্টর জমিতে মাচায় লতাজাতীয় সবজি চাষ হয়েছে।

এদিকে জেলার গোদাগাড়ীতে এখনও শীতকালীন টমেটো ওঠেনি। আর সপ্তাহখানেক পরে দেখা মিলবে নতুন টমেটোর। শিম চাষও হয়েছে বিস্তীর্ণ ক্ষেতে।

-মামুন-অর-রশিদ

রাজশাহী থেকে