মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৬ বৈশাখ ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ঢাকার ভেতরে আরেক ঢাকা

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৫
  • পূর্বাচলকে গড়ে তোলা হচ্ছে মালয়েশিয়ার আদলে

মীর আব্দুল আলীম

ঢাকার ভেতর আরেক ঢাকা। রূপগঞ্জের পূর্বাচলকে গড়ে তোলা হচ্ছে ঢাকার আদলে। রূপগঞ্জের ইউসুফগঞ্জ পূর্বাচল উপশহর হবে দেশের প্রশাসনিক রাজধানী। এখানে থাকবে মন্ত্রিপাড়া, সচিবালয়সহ বাংলাদেশের সব প্রশাসনিক অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক কলেজ, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মনোরম দৃশ্য সংযোজিত এই উপশহর হবে সর্বাধুনিক সমারোহ। তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রূপগঞ্জে গড়ে উঠেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর। মালয়েশিয়ার আধুনিক শহর পুত্রাজায়ার আদলে গড়ে তোলা হবে এ উপশহরকে।

১৯৯৩ সালের ২রা নবেম্বর প্রস্তাবিত এ উপশহরটি বদলে দিয়েছে রূপগঞ্জের চেহারা। আধুনিক সব অবকাঠামো নান্দনিক শিল্পের সমাহার ঘটিয়ে এ উপশহরকে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ মডেল টাউন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে কাজ করছে সরকার। দিনরাত শ’ শ’ ড্রেজার, হাজার হাজার শ্রমিক উপশহর প্রকল্পের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। রূপগঞ্জের ১৪টি ও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দু’টি মৌজা নিয়ে এ প্রকল্পের অবস্থান। পরিকল্পনা অনুযায়ী জমির পরিমাণ নারায়ণগঞ্জে চার হাজার পাঁচশ’ একর, গাজীপুরে ১৫শ’ একর। এ প্রকল্পে ৩০ হাজার প্লট বরাদ্দের টার্গেট রেখে ২০০১ সালে ১২ হাজার প্লট বরাদ্দের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। বিজ্ঞাপন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাঙালীসহ দেশের অবস্থাশালী ব্যক্তিরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে প্লট পাওয়ার আশায়। ১২ হাজারের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩১ হাজার তিনশ’ ১৪টি। শুরু হয় যাচাই-বাছাই। ২০০৩ সালে বাছাই করে সাত হাজার আটশ’ ৯০টি প্লট বরাদ্দ করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে। এর মধ্যে দুই হাজার নয়শ’ ৪৭ জন সরকারী কর্মচারী-কর্মকর্তা, এক হাজার চারশ’ ১৬ জন স্বায়ত্তশাসিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, এক হাজার দুইশ’ ৯৩ জন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তা, এক হাজার সাতশ’ ৭৪ জন ব্যবসায়ী, দুইশ’ ছয় জন মুক্তিযোদ্ধা, একশ’ একজন অন্যান্য ব্যক্তি, ৮০ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য (এখনও বরাদ্দ দেয়া হয়নি), ৬৭ জন সাংবাদিক, ৪৪ জন শিল্পী-সাহিত্যিক, ২৫ জন সাবেক এমপি, ১৭ জন বিচারকের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয় তৎকালীন সময়ে। প্রকল্প শুরুর প্রথম দিকে

স্থানীয়রা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসে। তাদের দাবিগুলো ছিল স্থানীয় অধিবাসীদের পুনর্বাসন, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণসহ স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ। আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিগত সরকারগুলো একে একে মেনে নেয় তাদের দাবি। ’৯৭ সালে রাজউক তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে ২৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। পাশাপাশি গাজীপুর জেলাকে বরাদ্দ দেয় ৪২.৬০ কোটি টাকা। এ বরাদ্দ দিয়ে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ও জায়গা-জমির ক্ষতিপূরণের সিংহভাগই পরিশোধ হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বরাদ্দের টাকা পেয়ে নিজেরা উপশহরের আশপাশে জমি ক্রয় করে অনেকেই বাড়িঘর নির্মাণ করেন, কেউবা টাকা জমা রাখেন ব্যাংকে ভবিষ্যতে প্লট বরাদ্দ হলে উপশহরে বাড়িঘর নির্মাণের জন্য। সেই থেকে বদলে যেতে থাকে রূপগঞ্জের চেহারা। উপশহরকে পুঁজি করে রূপগঞ্জের সাধারণ জনগণ এখন অনেকেই কোটিপতি। ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রূপগঞ্জের একাধিক ঠিকাদার বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ঠিকাদার হিসেবে পরিণত হয়।

এ প্রকল্পে ৩০ হাজার প্লটের মধ্যে স্থানীয় ১০ হাজার অধিবাসী জমির হিস্যা অনুযায়ী এক থেকে তিন এর অধিক প্লট বরাদ্দ পাবেন। ইতোমধ্যে অনেকে পেয়েও গেছেন। পাঁচ কাঠা ও তিন কাঠার এ প্লটগুলো থাকবে উপশহরের মধ্যভাবে স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, উন্নত রাস্তাঘাট, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এ উপশহরে থাকবে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের শাখা, অফিস-আদালত, আধুনিক বিপণি বিতান, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, চিত্তবিনোদনের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা। বহুতল বিশিষ্ট হাইরাইজ ব্লকের জন্য বরাদ্দ থাকবে তিনশ’ ৮৯ একর জমি। স্কুল, কলেজের জন্য থাকবে আলাদা জোন। চিত্তবিনোদন, শিশুপার্কসহ প্রতিটি ব্লকেই থাকবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সুব্যবস্থা। প্রথম অবস্থায় এ প্রকল্পে খেলার মাঝের জন্য কোন স্টেডিয়ামের জমি বরাদ্দ না থাকলেও বর্তমানে রাউজক এ নিয়ে করছে চিন্তা ভাবনা। উপশহরকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ সাজছে আধুনিক সাজে।

উপশহরকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জের চারপাশে নির্মাণ হচ্ছে বাইপাস সড়ক। তৈরি হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর তৃতীয় কাঞ্চন সেতু। পাশাপাশি উপশহর ঘিরে চারপাশে উন্নয়ন ধাবিত হচ্ছে হু হু করে। উপশহরের আশপাশের জমি গুলশান, বনানীর দামকেও ছাড়িয়ে গেছে। উপশহরটির চারদিকে এক সময় বিল-ঝিল ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। আর উপশহর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই আশপাশের জমিতে তৈরি হচ্ছে ডেভেলপার কোম্পানির আধুনিক হাইরাইজ বিল্ডিং। উপশহরকে কেন্দ্র করে ঢাকার পূর্বাংশে একের পর এক নির্মাণ হচ্ছে ছোট ছোট শহর।

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৫

২৪/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: