১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জামালপুরে হাতির সন্ত্রাসে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ ॥ রাত কাটছে নির্ঘুম


নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর, ২৩ অক্টোবর ॥ জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও বকসিগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও বন্যহাতির দল ছুটে এসেছে।

বন্যহাতির আতঙ্কে বকসিগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের সোমনাথপাড়া, সাতানীপাড়া, দিঘলাকোনা, লাউচাপড়া, কোচপাড়া, বাবলাকোনা, পাথরেরচর, মাখনেরচর চন্দ্রপাড়া, কাড়ামারা, হাতিকোনা, ঝোলগাঁওসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আবার অনেকেই প্রাণের ভয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাখনেরচর গ্রামে বন্যহাতির দল ছুটে এসে এলাকার ফসল ধান তরিতরকারি, ছোট ছোট গাছ-পালা বিনষ্ট করতে থাকে। এসব বন্যহাতির উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য গ্রামবাসী বৈদ্যুতিক জেনারেটর চালু করে প্রবাহিত বৈদ্যুতিক তার দিয়ে ফাঁদ পাতে। তাতে দুটি বন্যহাতিকে ফাঁদে আটকে পড়ে। হাতির দল সেখান থেকে চলে গেলে গ্রামবাসী হাতি দুটিকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখে। প্রতিবছর বাংলাদেশ সীমান্তে সমতল ভূমিতে ফসল উৎপাদন হলে, ভারতের গহীন অরণ্যে বসবাসকারী বন্যহাতির দল সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের বনভূমিসহ লোকালয়ে ঢুকে কৃষকের কষ্টার্জিত হাজার হাজার একর জমির ফসল, গোলার ধান, তরিতরকারি, বাগানের ছোট ছোট গাছপালা খেয়ে ফেলে। এছাড়া অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। কখনও কখনও হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মানুষ। তিন বছরে বন্যহাতির আক্রমণে ওই এলাকার তিন নিহত হয় এবং কমপক্ষে ২২ জন মানুষ আক্রমণের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এ ব্যাপারে মাখনের চর গ্রাসের সাইফুল ইসলাম, বালুঝুড়ি গ্রামের ফতেহ সাংম, ফিলিপ মারাক, লাউচাপড়ার মুক্তার আলী জানায়, বন্যহাতির দল সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় বনাঞ্চলে বিচরণ করে। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে অবশেষে লোকালয়ে প্রবেশ করে উপদ্রব শুরু করে। এ সময় এলাকার লোকজন হাতি প্রতিরোধে ঢাকঢোল, টিন, আগুন জ্বালিয়ে আবার কেউ পটকা ফুটিয়ে তাড়াতে চেষ্টা করলে উত্তেজিত হাতির দল বাড়িঘর ভাঙ্গচুর করে। এদিকে হাতি হত্যার বদলা নিয়ে বন্যহাতির দল গ্রামে এসে ধান, উঠতি ফসল, বাগানের গাছপালা ঘরবাড়ি একের পর এক তা-ব চালিয়ে ধ্বংস করে যাচ্ছে। হাতি হত্যার অভিযোগে শেরপুরের বন কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।