১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ঘরের মাঠে জর্দানের কাছে হার বাংলাদেশের


রুমেল খান ॥ এক দলের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৯১। অন্য দলের ১৭৩। এ তফাতই বলছিল জর্দান ও বাংলাদেশের ফুটবলের ব্যবধান। তবে আশা জোগাচ্ছিল ঘরের মাঠ বলে খাতা-কলমের এ পার্থক্যটাকে খুব বেশি ধর্তব্যে নেয়নি বাংলাদেশ। এমন কী জর্দানও বার বার বলছিল র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রভাব অনেক সময় মাঠে না-ও পড়তে পারে। জর্দানের কোচ-অধিনায়কের মুখে বাংলাদেশকে সমীহর কথা বলেছিলেন ঠিকই। কিন্তু মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে তারা বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়ে প্রমাণ করল ওগুলো ছিল নিছক কথার কথা! চেনা মাঠে অচেনা প্রতিপক্ষের কাছে বড় ব্যবধানেই পরাভূত হতে হলো স্বাগতিকদের। ফিফা বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের এ ম্যাচে মধ্যপ্রাচ্যের ও অতিথি দলটি প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে। এ জয়ে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেল জর্দান। ৪ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ (এ্যাওয়ে) ১৩ অক্টোবর কিরগিজস্তানের বিপক্ষে।

জর্দান এমন একটি দল, যারা গত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফে উরুগুয়ের সঙ্গে না হারলে ব্রাজিল বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে পারত। তাদের সঙ্গে এবারই প্রথম মোকাবেলা হলো বাংলাদেশের। শক্তিশালী এমন প্রতিপক্ষের কাছে যে বাংলাদেশ হারবে, এমনটাই অনুমেয় ছিল। কিন্তু হারের ব্যবধানটা একটু বেশি হওয়াতেই আফসোস হচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলা উপভোগ করতে আসা প্রায় দশ হাজার বাংলাদেশী ফুটবলপ্রেমীদের। পূর্ণ দর্শক সমর্থন নিয়েও পরিচিত পরিবেশে বিবর্ণই দেখায় ক্রুইফের শিষ্যদের। তবে গত ৩ সেপ্টেম্বর পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে (ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ০-৫ গোলে) চরম রক্ষণাত্মক খেলে যেভাবে হেরেছিল, এবার ঘরের মাঠে জর্দানের বিপক্ষে সেভাবে খেলেনি বাংলাদেশ। বরং তারা মোটামুটি আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলার চেষ্টা করেছে। বল নিয়ন্ত্রণও ছিল গত ম্যাচের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি (বাংলাদেশ ৪০%, জর্দান ৬০%)। দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত মুন্সিয়ানায় ভাস্বর ছিলেন ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা। গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটনের অসামান্য প্রতিরোধ ছিল দেখার মতো (নিয়মিত গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল খেলেননি গোড়ালির চোটের কারণে)। দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন জুয়েল! হারলেও বাংলাদেশের আসল নায়ক তিনিই। দীর্ঘদেহী জর্দান ডিফেন্ডারদের একাধিবার কাবু করেছেন একমাত্র একেবারেই হাল্কা গড়নের জুয়েলই!

বাংলাদেশ দলে চারটি পরিবর্তন ছিল একাদশে। অস্ট্রেলিয়ায় না খেলা গোলরক্ষক রাসেল, মোনায়েম রাজু, আতিকুর রহমান মিশু ও ইয়ামিন মুন্না ছিলেন প্রথম থেকেই। শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলে জর্দান। ১৩ মিনিটে নিজেদের বক্সে মিশু হ্যান্ডবল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান চাইনিজ তাইপের রেফারি ইয়ো মিং সান। স্পট কিক থেকে নেয়া আব্দুল্লাহর জোরালো শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও রক্ষা করতে পারেননি বাংলাদেশ গোলরক্ষক রাসেল (১-০)। ৩৩ মিনিটে বাংলাদেশের বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত ভলিতে বাংলাদেশের জাল কাঁপান জর্দানের মুনতেহের আবু আমারা (২-০)। ৫৬ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে ফাদেল হাসানের পাসে বক্সের মধ্যে তীব্র শটে গোল করেন জর্দানের আব্দুল্লাহ (৩-০)। ৫৮ মিনিটে দ্রুত বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়া জর্দানের ইয়াসিন বাখেটের শট রুখতে পারেননি বাংলাদেশ গোলরক্ষক (৪-০)। এরপর আর কোন গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। ৪-০ গোলের সাবলীল ও স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জর্দান।

বাংলাদেশ দল ॥ রাসেল, তপু, ইয়াসিন, রাজু, নাসিরু (লিংকন), মিশু (কোমল), ইয়ামিন (রায়হান), জামাল, মামুনুল (অধিনায়ক), এমিলি ও জুয়েল।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: