মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সাখাওয়াতসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ আমলে

প্রকাশিত : ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে এই প্রথম তদন্ত সংস্থার দেয়া রিপোর্টের পর ট্রাইব্যুনাল তিনজনের অপরাধের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

ট্রাইব্যুনাল যে নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন তারা হলেন সাখাওয়াত হোসেন, মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান, মোঃ আব্দুল আজিজ সরদার, মোঃ আজিজ সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মোঃ লুৎফর মোড়ল এবং মোঃ আব্দুল খালেক মোড়ল। আর যাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তারা হলেন, আকরাম হোসেন, অজিহার মোড়ল ওরফে ওজিয়ার মোড়ল ও মশিয়ার রহমান। এর মধ্যে কারাগারে আটক আছেন চারজন। এরা হলেন সাখাওয়াত, বিল্লাল, আকরাম ও অজিহার মোড়ল। শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জনকণ্ঠকে বলেন, এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের একটি; অপহরণ করে হত্যার দুটি; অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের দুটি অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এই ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। গত ১৮ জুন তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়।

বর্তমানে জাতীয় পার্টির ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সাখাওয়াত এক সময় ছিলেন জামায়াত নেতা। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু মেয়াদ পূর্তির আগেই জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। মাওলানা সাখাওয়াত নামে বেশি পরিচিত এই রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে এলডিপি ও পিডিপিতেও ঘুরে এসেছেন। গত সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নও পেয়েছিলেন।

পাঁচ অভিযোগ

অভিযোগ ১ : যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণ। অভিযোগ ২ : একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চান্দতুল্লা গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা। অভিযোগ ৩ : কেশবপুরের চিংড়া মোঃ নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন। অভিযোগ ৪ : কেশবপুরের হিজলডাঙার আঃ মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন। অভিযোগ ৫ : কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।

প্রকাশিত : ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৯/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: