১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জালনোটের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গ্রাহকদের কাছ থেকে মূল্যমান নির্বিশেষে সকল প্রকার নোট গ্রহণ, বিধি মোতাবেক ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময়মূল্য প্রদান, ধাতব মুদ্রা গ্রহণ এবং বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে যথাযতভাবে নোট বাছাই (সর্টিং) করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। এর আগে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়ার কথা বলা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহার সভাপতিত্বে বৈঠকে দেশের কার্যরত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কারেন্সি ডিপার্টমেন্টের ডিএমডি এবং ক্যাশ বিভাগের প্রধান নির্বাহীগণ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে জালনোট প্রতিরোধে সচেতনাতামূলক ভিডিও প্রদর্শন, গণমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রচার চালাতে ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে জালনোট চক্রের অপতৎরতা রোধে লেনদেন ও এটিএম মেশিনে টাকা ঢোকানোর সময় জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবহারের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। বৈঠকে নোট সর্টিংয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন, লেনদেন ও এটিএমে টাকা ঢোকানোর আগে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবহার ও ছোট মূল্যমানের নোট গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক পরিমল চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ব্যাংকগুলো নোট সর্টিংয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন না করায় আমাদের নোট এক্সিমেনারদের ভোগান্তি ও ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্যই এ বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে বৈঠকে কম মূল্যমানের বিশেষ করে ২, ৫, ১০ টাকা এবং ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন ব্যাংকের শাখাগুলো যাতে গ্রহণ করে সে বিষয়ে জোর দেয়া হয়।

নোট সর্টিং, বাংলাদেশ ব্যাংকে নোট জমা দেয়া ও নেয়া, নোটে তোড়া বাঁধার নিয়ম-কানুন, জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে করণীয়, ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের জন্য পর্যাপ্ত ধাতব মুদ্রার ব্যবস্থা রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে এ বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগ থেকে একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকে নোট জমা দেয়ার সময় প্রচলনযোগ্য ও অপ্রচলনযোগ্য নোট আলাদাভাবে জমা দিতে হবে।

কিন্তু বেশিরভাগ ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা মানছে না। সাধারণত প্রতিদিনের লেনদেন শেষে ব্যাংকগুলোকে ভল্ট লিমিটের অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলো যথাযতভাবে নোট বাছাই না করার কারণে পুনঃপ্রচলনযোগ্য ও অপ্রচলনযোগ্য নোটে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোটের সঙ্গে অপ্রচলনযোগ্য নোট মিশিয়ে ফেলছে। আবার প্রচলনযোগ্য নোটের পাশাপাশি ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ, ময়লা ও বাতিল নোটের তোড়া বাঁধার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ফলো করছে না ব্যাংকগুলো। এতে মহাঝামেলায় পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট পরীক্ষকদের। পাশাপাশি তাদের পুনরায় নোট সর্টিং করতে হওয়ায় সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।