২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে দুবাই ইসলামী ব্যাংক


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিদেশী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বাহরাইন ইসলামী ব্যাংক প্রায় এক বছর আগেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। এবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আরেক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান দুবাই ইসলামী ব্যাংক তাদের ৩২ বছরের বিনিয়োগ উঠিয়ে নিচ্ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের হাতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের প্রায় সব শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটি হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়।

দেশী-বিদেশী যৌথ উদ্যোগে দেশে ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩ প্রতিষ্ঠানের হাতে শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির ৬৩ শতাংশের বেশি শেয়ার ছিল। তবে দুই বছর ধরে তাদের অনেকেই বিনিয়োগ প্রত্যাহার করলে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে উদ্যোক্তার অংশ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি স্থানীয় তিন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানও ব্যাংকটির শেয়ার বিক্রি করছে।

ডিএসই সূত্রে পাওয়া তথ্য, গত এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুবাই ইসলামী ব্যাংক তাদের প্রায় সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির হাতে ইসলামী ব্যাংকের ১ কোটি ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৫৪০ শেয়ার ছিল। এক বছরে এ প্রতিষ্ঠান তিন দফায় ১ কোটি ৭ লাখ ৩ হাজার ৫৪০ শেয়ার বিক্রি করে। গত সোমবারে বাকি ৩০ লাখের মধ্যে ২৯ লাখ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর তাদের হাতে ইসলামী ব্যাংকের মাত্র ১ লাখ শেয়ার থাকবে। এর আগে গত বছরের জুন ও অক্টোবরে দুই কিস্তিতে বাহরাইন ইসলামী ব্যাংক তাদের হাতে থাকা মোট ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪৪ শেয়ার বিক্রি করে। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকে তাদের কোন বিনিয়োগ নেই।

শেয়ার বিক্রির অনুমতি না পাওয়ায় কুয়েতের তিন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা গত বছর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি। গত বছর কুয়েতের পাবলিক ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল সিকিউরিটি, কুয়েত আওকাফ পাবলিক ফাউন্ডেশন ও কুয়েত ফিন্যান্স হাউস তাদের শেয়ার বিক্রির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করে। তবে অনুমতি না পাওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

অবশ্য বিক্রির অনুমতি না পাওয়ার পর কুয়েতভিত্তিক উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, তারা এখন আর শেয়ার বিক্রি করবেন না। প্রয়োজনে আরও শেয়ার কিনতে আগ্রহী তাদের প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকের ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সে সব বিদেশী উদ্যোক্তার পক্ষ থেকে আরও শেয়ার কেনার ঘোষণাও দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত তাদের শেয়ার কেনার কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ব্যাংকটির ১৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে কুয়েতভিত্তিক তিন প্রতিষ্ঠানের হাতে।

বিদেশী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তাও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের মধ্যে বড় উদ্যোক্তা ইবনে সিনা ট্রাস্ট ২০১২ ও ’১৩ সালে তাদের হাতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ২০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে।

একই সময়ে ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরো ২ লাখ ৩৫ হাজার শেয়ার ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ শেয়ার বিক্রি করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে আরও ৩৫ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ শেয়ার বিক্রি করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের বিদেশী উদ্যোক্তারা হলেন- ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কুয়েত ফিন্যান্স হাউস, ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট এ্যান্ড কর্পোরেশন দোহা, বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক, ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং লুক্সেমবার্গ, আল-রাজি কোম্পানি ফর কারেন্সি এক্সচেঞ্জ এ্যান্ড কমার্স রিয়াদ, শেখ আহমেদ সালেহ জামজুম, শেহ ফুয়াদ আব্দুল হামিদ আল-খতিব, দুবাই ইসলামিক ব্যাংক, দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোস্যাল সিকিউরিটি কুয়েত, মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস কুয়েত।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬০৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের ৫৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তাদের হাতে। এর বাইরে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৬ দশমিক ১৯ ও বাকি ২০ দশমিক ৬৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে মঙ্গলবারে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ২৬ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে এর দর ১৫ থেকে ৩২ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১১ দশমিক ৫৯, দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ৬ দশমিক ৭৫-এ নেমে এসেছে।