১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

রানীকে হত্যার চক্রান্ত


রানীকে হত্যা করার একটি চক্রান্তের নির্দেশনা দেয়ার পর যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় একজন ব্রিটিশ জিহাদপন্থীকে হত্যা করেছে। সোমবার রাতে এ কথা জানা যায়। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এই পদক্ষেপকে ব্রিটেনের জন্য ‘একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা’ বর্ণনা করে বলেন, নিরাপত্তাবাহিনী যুক্তরাজ্যে একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানোর প্রচেষ্টা উদ্ঘাটনের পর গত মাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)-এর ড্রোন হামলায় রিয়াদ খান নিহত হয়। ২১ বছর বয়সী রিয়াদ কার্ডিফের অধিবাসী এবং চরমপন্থী হয়ে সিরিয়ায় চলে যাওয়ার পর সে নিয়মিতভাবে টুইটারে গর্ব করে বন্দী হত্যার কথা প্রচার করত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রথম যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী ব্রিটেন যুদ্ধাবস্থায় না থাকলেও তার নিজের একজন নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাল। এটি সিরিয়ায় প্রথম ব্রিটিশ সামরিক ব্যবস্থা হিসেবেও চিহ্নিত হবে। ক্যামেরন স্পষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী এখন সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়ায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর আরও হামলা চালাতে প্রস্তুত আছে। খবর টেলিগ্রাফ ও গার্ডিয়ানের।

তবে, ডাউনিং স্ট্রিট সন্ত্রাসবাদীদের ‘হত্যার তালিকা’ থাকার কথা অস্বীকার করেছে। অবশ্য সরকারী সূত্র সুস্পষ্ট করেছে যে, সিরিয়ায় পাশ্চাত্যের নাগরিকদের হত্যার জন্য দায়ী সন্ত্রাসী জিহাদী জনসহ ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী আইএস জঙ্গীরা যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু।

প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টের আইনসম্মতভাবে অধিকারপ্রাপ্ত না হয়ে হামলা অনুমোদন করে না। তবে তিনি বলেন, এর জন্য ভোটাভুটির প্রয়োজন নেই। কারণ এটি ছিল আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা গ্রহণ, যার জন্য সুস্পষ্ট আইনগত ভিত্তি রয়েছে। ক্যামেরনের ঘোষণা অভিবাসী সঙ্কট বিতর্কের দিকে মোড় নেয়। তিনি ঘোষণা করেন যে, ব্রিটেন ২০২০ এর মধ্যে ২০ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে পুনর্বাসিত করবে। তবে ক্যামেরন বলেন, তিনি মনে করেন সঙ্কটের আরও বৃদ্ধি ঠেকাতে সিরিয়ায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। হামলার ঘোষণা দিয়ে ক্যামেরন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম দায়িত্ব হলো ব্রিটিশ জনগণকে নিরাপদ রাখা। আমি সেটাই সব সময় করব।’ তিনি বলেন, আমাদের সড়কে সন্ত্রাসবাদী নির্দেশিত হত্যাকা- হবে এবং ঘটনাকে থামানোর কোন উপায় থাকবে না। এই সরকার এক মুহূর্তের জন্যও হাল্কাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ‘তবে আমি আমাদের রাস্তায় সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটে যাওয়ার পর এই কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত যে, কেন আমি এই হামলা প্রতিরোধের সুযোগ নেইনি যখন আমি তা নিতে পারতাম।’ গত ২১ আগস্ট সিরিয়ার রাকা শহরে হামলার ঘটনায় আরও দু’জন ব্রিটিশ নাগরিক নিতে হয়। তাদের একজন হলেন রুহুল আমিন (২৬)। ওই ড্রোন হামলার দু’দিন পরে একটি যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে জুনাইদ হুসাইন (২১) নিহত হয়। সরকারী সূত্র জানায়, রিয়াদ খান আগস্টে লন্ডনে ভিজে স্মরণ প্রার্থনানুষ্ঠানে হামলার চক্রান্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেÑ এ কথা প্রকাশ হয়ে পড়লে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। মধ্য লন্ডনের ওই অনুষ্ঠানে প্রিন্স অব ওয়েলস, ডাচেস অব কর্নওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিয়াদ খান ও জুনাইদ হোসেন দু’জনই সক্রিয়ভাবে আইএস সমর্থকদের রিক্রুট করতে নিয়োজিত ছিল এবং পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও বর্বরোচিত হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করছিল।’ তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে কোন বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ নাগরিকদের হত্যা করা।

জুনাইদ হোসেন ছিল একজন ব্রিটিশ কম্পিউটার হ্যাকার এবং আইএসের তথাকথিত ‘সাইবার খিলাফতের’ সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কম্যান্ডের টুইটার ও ইউটিউব এ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড যোগাড় করে সে কুখ্যাতি অর্জন করে। আইএসের জঙ্গী রুহুল আমিন পূর্ব অনুমোদিত লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় না থাকলেও একটি সূত্র তার মৃত্যুকে ড্রোন হামলার ‘সঙ্গতিপূর্ণ পরিণতি’ বলে উল্লেখ করে। সূত্র জানায়, ‘কয়েক মাস আগে’ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রিয়াদের ওপর ড্রোন হামলা অনুমোদন করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত এ্যাটর্নি জেনারেল জেরেমি রাইট পরামর্শ দেন যে, আত্মরক্ষার সঙ্গত কারণে ড্রোন হামলা বৈধ হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মরক্ষার্থে গৃহীত ব্যবস্থায় এবং অত্যন্ত সতর্ক পরিকল্পনায় ২১ আস্ট আরএএফের দূরনিয়ন্ত্রিত বৈমানিকরা নির্ভুল হামলা চালিয়ে রাকায় একটি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময় রিয়াদ খানকে হত্যা করা হয়।